
প্রশাসনের চূড়ান্ত গাফিলতি! উত্তর প্রদেশের লখনউতে পাড়ার একটি ট্রান্সফরমারের সংস্পর্শে এসে একটি সাত বছর বয়সী ছেলে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা গিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বার বার বলার পরেও গেটটি মেরামত করা হয়নি। রবিবার ছুটির দিন সকালে ফাহাদ তাঁর বন্ধুদের সাথে ক্রিকেট খেলছিল। ঠিক তখনই বলটি ট্রান্সফরমারের কাছে চলে যায়। বলটি আনতে গিয়ে ট্রান্সফরমারের সাথে ছোঁয়া লেগে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয় সে। প্রতিবেশীরা দ্রুত ফাহাদকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান, কিন্তু চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
এই ঘটনার পর এলাকার বাসিন্দারা রীতিমত ক্ষুব্ধ হন এবং তারা দাবি করেন ট্রান্সফরমারের দিকে যাওয়ার গেট সম্পর্কে বারবার অভিযোগ করেও কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি প্রশাসনের তরফে। এমনকি এদিন ছেলেটি ট্রান্সফরমারের সংস্পর্শে আসার পর বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তাদের ফোন করলেও তারা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করতে দেরী করেন। ফাহাদের কাকা মোহাম্মদ রইস বলেন, একাধিকবার অভিযোগ করার পরেও সরকারের তরফে কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয় নি। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান সকাল ১০টার দিকে ঘটনাটি ঘটে। অনেকক্ষন বিদ্যুৎ বিভাগের কোনও কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে আসেননি। শিশুটিকে বের করে আনার পরে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। এই গেটটি দুই বছর ধরে ক্ষতিগ্রস্ত। কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এর আগে এখানে প্রায় ১৪টি প্রাণী বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা গিয়েছে তবু হুঁশ ফেরেনি আধিকারিকদের।
বিদ্যুৎ বিভাগের তরফে যদিও কোন প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায় নি। রবিবার সকালের এহেন ঘটনায় অখিলেশ যাদব ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “উত্তরপ্রদেশে বিদ্যুৎ বিভাগের ট্রান্সফরমার উড়ে গেছে। আর মন্ত্রী ও কর্মকর্তাদের মধ্যে তার ছিঁড়ে গেছে। জনগণের আস্থার খুঁটি উপড়ে গিয়েছে এবং জনরোষের মিটার ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে”। এরপরেই বিদ্যুৎ বিতরণে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, “উত্তরপ্রদেশে বিদ্যুৎ নেই, কেবল বিদ্যুৎ বিল। বিজেপি গেলেই আলো আসবে। উত্তরপ্রদেশে রাজ্যবাসীরা বলছেন যে তারা বিজেপিকে চায় না।”





