তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে এ বার সরাসরি সামাজিক বয়কটের ডাক দিলেন। ধর্মতলায় তৃণমূলের ধরনা মঞ্চ থেকে SIR ও অন্যান্য নানা ইস্যুতে বিজেপিকে আক্রমণ করে তিনি বলেন, ২০২১ সালে কিছু সামাজিক সংগঠন ‘নো ভোট টু বিজেপি’ বলেছিল, কিন্তু এ বার সেই অবস্থান আরও কঠোর হওয়া উচিত। তাঁর কথায়, “১০ কোটি বঙ্গবাসীকে সাক্ষী রেখে বলছি, এ বার বিজেপিকে বয়কট করতে হবে। সামাজিক ভাবে বিজেপিকে বয়কট করুন।”
বিজেপিকে নিশানা করে অভিষেকের দাবি, যারা এক সময় বিজেপির হয়ে প্রচার করতেন, তারাই এখন রাজ্য সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধা নেওয়ার জন্য আবেদন করছেন। তিনি কটাক্ষ করে বলেন, “যারা বিজেপির হয়ে গলা ফাটাত, তারাই এখন যুবশ্রীর ফর্ম পূরণ করছেন। দিলে তো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই দেবেন।”
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে (Amit Shah) আক্রমণ করেন অভিষেক। তাঁর বক্তব্য, “অমিত শাহ এলে তাঁর ভাষণের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আমার নামই থাকে। বিজেপির সবার গায়ে জ্বালা আমায় নিয়ে।” একই সঙ্গে তিনি ব্যঙ্গ করে বলেন, “আজ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বেঁচে থাকলে তাঁকেও বিবেচনাধীন করে রাখা হত।”
ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে এসআইআর প্রক্রিয়াকে ঘিরেও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন তিনি। অভিষেকের দাবি, ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’র অজুহাতে প্রায় এক কোটি ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। তাঁর বক্তব্য, “খসড়া তালিকায় প্রথমে ৫৮ লক্ষ নাম বাদ পড়েছিল। পরে দেখা গেল সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৩ লক্ষের বেশি। সব মিলিয়ে প্রায় ১ কোটি ২০ লক্ষ মানুষের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।”এই ঘটনাকে তিনি ভোটে কারচুপির ষড়যন্ত্র বলে অভিযোগ করেন। তাঁর দাবি, তৃণমূলের বিএলএ-২ প্রতিনিধিরা বিষয়টি ধরে ফেলেছেন বলেই তা সামনে এসেছে। অভিষেক বলেন, “চুরি করে ভোটে জেতার জন্য এই পরিকল্পনা করা হয়েছিল।”
এসআইআর নিয়ে আন্দোলনের ডাক দিয়ে তিনি বলেন, এই লড়াই ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে স্বাধীনতা আন্দোলনের মানসিকতার মতো করেই চালাতে হবে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, এই প্রক্রিয়ার জেরে ইতিমধ্যেই ১৭২ জন সাধারণ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।
এ ছাড়া বিজেপি নেতা সজল ঘোষের মন্তব্যকে কেন্দ্র করে ভারতীয় ক্রিকেটের প্রাক্তন অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলিকে( Sourav Ganguly) ঘিরে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, সেই প্রসঙ্গেও কটাক্ষ করেন অভিষেক। তিনি বলেন, “যদি সৌরভ দালাল হন, তা হলে ২০২১ সালে শুভেন্দু অধিকারী ও দিলীপ ঘোষকে নিয়ে তাঁর বাড়িতে গিয়ে লুচি-আলুর দম খেলেন কেন অমিত শাহ?” সৌরভকে বিজেপি তলপিবাহক করতে চেয়েছিল দাবি করে অভিষেকের খোঁচা, “সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়কে এরা দালাল বলছে। তাহলে গত লোকসভা নির্বাচনের আগে কেন সৌরভের বাড়িতে গিয়েছিলেন অমিত শাহ? টেবিলে বসে লুচি আলুরদম খেতে? আসলে তলপিবাহক, কৃতদাস বানাতে গিয়েছিল। কিন্তু বাঙালি তো, পারেনি।‘
মহিলাদের জন্য রাজ্যের লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও বলেন, “পাশের অনেক রাজ্যেই বিজেপি ক্ষমতায়। কোনও শর্ত ছাড়া আড়াই কোটি মহিলাকে এই ভাতা দেওয়ার মতো প্রকল্প যদি কেন্দ্র বা বিজেপি সরকার করে দেখাতে পারে, তা হলে আমি রাজনীতি থেকে অবসর নেব।” বিজেপির রথযাত্রা নিয়ে কটাক্ষ করে অভিষেক বলেন, ‘ওরা চড়বে রথে, আমরা থাকব পথে।‘
শেষে তিনি নির্বাচন কমিশনকে আক্রমণ করে বলেন, “৬০ লক্ষের বেশি মানুষ এখনও বিবেচনাধীন অবস্থায়। যতদিন না তারা তাদের ন্যায্য অধিকার পাচ্ছেন, ততদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে রাস্তায় আন্দোলন চালিয়ে যাবে।”




