ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটের আগে তৃণমূল শিবিরে যোগ দিলেন মালদহের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী তথা সমাজসেবী মতিউর রহমান। একুশের বিধানসভা নির্বাচনে মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুর থেকে বিজেপির টিকিটে ভোটে লড়েছিলেন তিনি। কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটিতে বিজেপিকে ভোটের নিরিখে দ্বিতীয় স্থানে পৌঁছে দিয়েছিলেন। সেই মতিউর রহমানই এবার ঘাসফুল শিবিরে যোগ দিলেন। এদিন তৃণমূল ভবনে ব্রাত্য বসু এবং নাদিমুল হকের উপস্থিতিতে তৃণমূলের পতাকা হাতে তুলে নেন তিনি। তৃণমূলে যোগ দিয়েই বিজেপির বিরুদ্ধে আক্রমণ শানিয়ে মতিউরের অভিযোগ, “বিজেপি ভাঙনের রাজনীতি করছে। সে কারণে বিজেপি ছেড়েছি।”
এদিন তৃণমূলে যোগদানের পর মতিউর (Moti Ur Rahaman) ধন্যবাদ জানান। বলেন, “২০২১ সাল থেকে বিজেপিতে ছিলাম। মানুষের জন্য কাজ করব বলে। কিন্তু সেখানে সম্ভব হয়নি। দিদি যা কাজ করেন আমিও তাই কাজ করি। মানুষের সেবা করি। তাই এখানে যোগ দিলাম।”প্রসঙ্গত, মালদহে মতিউরের পরিচিতি ‘গরীবের বন্ধু’ নামেই। এপ্রসঙ্গে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ব্রাত্য বসু বলেন, “আমি নিশ্চিত বিজেপিকে দেখে সাধারণ মানুষ ভোট দেয়নি। মতিউর নিজের ক্যারিশ্মায় দ্বিতীয় স্থানে তুলেছেন বিজেপিকে।” এসআইআরের জন্য যে সমস্ত জেলা সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত হয়েছে সেটি হল মালদহ। তারই প্রতিবাদে তৃণমূলে মতিউরের যোগদানের সিদ্ধান্ত বলেই জানান ব্রাত্য।তিনি দাবি করেন, “যে পরিযায়ী শ্রমিকদের বাংলা বলার অপরাধে বিশেষত বিজেপি শাসিত রাজ্যে মার খেতে হয়েছে তাঁদের জন্য অনেক কাজ মতিউর রহমান করেছেন। এই কারণে অভিষেক মতিউরের বিষয়ে আলাদা করে খোঁজ খবরও রেখেছিলেন।”
মতিউরের যোগদান অনুষ্ঠানে এদিন উপস্থিত ছিলেন রাজ্যসভার সাংসদ নাদিমুল হকও। তিনি বলেন, “সমাজসেবী, ব্যবসায়ী মতিউর। তিনি গরিবদের জন্য কাজ করেন। মেডিক্যাল ক্যাম্পের বন্দোবস্ত করেছেন তিনি। গরিবের জন্য কাজ করা এমন ব্যক্তির তৃণমূলে যোগদান সত্যিই অসাধারণ বিষয়।দল সব সময় খোঁজে যে যারা গরিব মানুষের ভালো করে। মতিউর তো আগে থেকে গরিব মানুষের জন্য কাজ করে চলেছেন। এবার আমরা মতিউরকে তৃণমূলে স্বাগত জানালাম। আমি মালদহে গিয়েছিলাম অনেক মানুষ ওখানে এসআইআরের জন্য হয়রানির শিকার হচ্ছেন। আমাদের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দেখছেন যে একজনও বৈধ ভোটারের নাম যাতে বাদ না যায়। তৃণমূলে যোগ দিয়ে তিনি দলের কথা মেনে চলে সাধারণ মানুষের জন্য আরও ভালো কাজ করবেন বলেই আশা।”
যোগদানের পর তৃণমূলের দলীয় পতাকা হাতে নিয়ে মতিউর বললেন, “আজ থেকে ১৪-১৫ বছর আগে বাংলায় কিছুই ছিল না। মমতা-অভিষেকরা ক্ষমতায় আসার পর রাজ্যে উন্নয়ন হয়েছে। আর সে কারণেই তৃণমূলে যোগ দিলাম। আমি বছরখানেক আগেই বিজেপির সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করেছিলাম। শনিবার আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দিলাম। বিজেপি ভাঙনের রাজনীতি করছে। সে কারণে বিজেপি ছেড়েছি। আমি ও দিদি একই কাজ করি। আমরা দু’জনেই গরিবের জন্য কাজ করি। সে কারণেই তৃণমূলে যোগদানের সিদ্ধান্ত।” এই যোগদানের ফলে মালদহের তৃণমূলের শক্তি আরও বাড়ল, সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই।





