ত্রিপুরার (Tripura) আগরতলায় তৃণমূলের (TMC) দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর করা হয়েছে । সেখানকার নেতা-কর্মীদের সহমর্মিতা দেখাতে বুধবার বাংলা থেকে ত্রিপুরা গিয়েছে তৃণমূলের প্রতিনিধি দল। দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুরের অভিযোগ জানাতে বৃহস্পতিবার আগরতলা থানায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের কাছে যান তৃণমূলের প্রতিনিধিরা। প্রমাণ হিসাবে একটি ভিডিও জমা দেওয়া হয়েছে সেখানে। ৮ অভিযুক্তর নাম উল্লেখ করে অভিযোগপত্র জমা দেন তাঁরা। সেখান থেকে বেরিয়ে রাজভবনে গিয়ে রাজ্যপালের সচিবের সঙ্গে দেখা করে নালিশ জানায় তৃণমূলের প্রতিনিধিদল।
প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার ত্রিপুরার আগরতলায় তৃণমূলের কার্যালয় ভাঙচুরে ফুঁসছে বাংলার শাসকদল। বুধবার সকালে পূর্ব নির্ধারিত সূচি অনুয়ায়ী ত্রিপুরা পৌঁছয় তৃণমূলের ৬ সদস্যের প্রতিনিধি দল। দলে রয়েছেন তৃণমূলের অন্যতম রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ, সাংসদ প্রতিমা মণ্ডল, সুস্মিতা দেব, বীরবাহা হাঁসদা, সুদীপ রাহা, সায়নী ঘোষ। বৃহস্পতিবার তৃণমূল প্রতিনিধি দলের তরফে অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের কাছে জমা দেওয়া অভিযোগপত্রে দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুরের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য বুধবার তৃণমূলের প্রতিনিধি দলকে স্বৈরাচারী বিজেপির রাজ্যে আগরতলা বিমানবন্দরেই আটকে দেওয়া হয় ।আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের দোহাই দিয়ে তাঁদের বিমান বন্দর থেকে শহরে পা রাখতে বাধা দেয় পুলিশ। তৃণমূল প্রতিনিধিদলের সদস্যরা বিমান বন্দরের সামনেই এর প্রতিবাদে অবস্থানে বসে পড়েন। অভিযোগ, যে গাড়ি তাঁদের নিতে এসেছিল তার চালকদের হুমকি দিয়ে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁরা প্রিপেড ট্যাক্সি বুক করতে যান, কিন্তু সেখানেও তাঁদের গাড়ি ভাড়া দেওয়া হয়নি। বিজেপির ডবল ইঞ্জিন সরকারের পুলিশ স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, বিমানবন্দর ছেড়ে বেরতে পারবে না তৃণমূলের প্রতিনিধি দল। এর পরেই হার মানে বিজেপি (BJP) সরকারের পুলিশ। গন্তব্যে পৌঁছন তৃণমূল নেতৃত্ব।
বৃহস্পতিবার আগারতলা থানায় গিয়ে অভিযুক্তদের অবিলম্বে গ্রেফতার করার দাবি জানানো হয়। সেই ছবি পোস্ট করে স্যোশাল মিডিয়া পেজে তৃণমূল (TMC) লেখে, “আমাদের প্রতিনিধি দল আজ আগরতলা থানায় গিয়েছিল, বিজেপি গুন্ডাদের সেই বর্বরতার প্রমাণ দিতে যারা আমাদের দলীয় কার্যালয় ভাঙচুর করেছে।
আমরা দাবি জানিয়েছি ঘটনার পূর্ণ তদন্ত হোক, আর দোষীদের তাড়াতাড়ি গ্রেফতার করা হোক। ত্রিপুরা পুলিশ যদি ভাবে তারা চুপচাপ বসে থাকবে আর বিজেপির “খাঁচার টিয়া” হয়ে কাজ করবে, তবে সেটা বড় ভুল। আইনের রক্ষকরা কখনও গেরুয়া দাঙ্গাবাজদের সহযোগী হতে পারে না।“ দলের তরফ থেকে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, “প্রতিটি নীরবতা, প্রতিটি বিলম্ব প্রমাণ করে যে, এই ঘটনার সাথে কারা জড়িত। ত্রিপুরায় আজ গণতন্ত্র অবরুদ্ধ, আর যারা অপরাধীদের আড়াল করছে, জনগণের আদালতে তারাও সমানভাবে দোষী হয়ে থাকবে।
কেন এই রকমভাবে বারবার ত্রিপুরায় গণতন্ত্রকে অবহেলা করা হয়? কেন বিরোধীদের কণ্ঠস্বর রোধ করা হয় ত্রিপুরায়? কেন আমাদের দলীয় কার্যালয়ে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়?
পুলিশ-প্রশাসন কেন দর্শক হয়ে যায় এইসকল ক্ষেত্রে? প্রশ্ন তুললেন আমাদের প্রতিনিধির দলের সদস্যরা। গণতন্ত্র রক্ষার্থে আমরা সর্বদা লড়াই করতে প্রস্তুত।“ এদিন আগরতলা থানা থেকে বেরিয়ে রাজভবনে গিয়ে রাজ্যপালের সচিবের সঙ্গে দেখা করে তৃণমূলের প্রতিনিধি দল। সেখানে দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর ও তাঁদের হেনস্থা করার কথাও জানিয়ে আসেন কুণালরা।






