বছর ঘুরলেই রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে সরকারের গত ১৫ বছরের কাজের খতিয়ান ‘উন্নয়নের পাঁচালি রাজ্যবাসীর ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়াই লক্ষ্য। সরকারের উন্নয়নের রিপোর্ট কার্ড পাঁচালীর আদলে করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এটাকে নিয়ে দলের সর্বস্তরের নেতা – কর্মীকে প্রচারে নামতে হবে। যেসব পরিবর্তন তিনি এনেছেন তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তুলে ধরতে হবে। এটাকে দু ভাবে ভাগ করা হয়েছে। মহিলা সংগঠন যেমন করছে করবে। কিন্তু দলের মাদার সংগঠন করবে। রাজ্যে এসআইআর পরবর্তী সময়ে ছাব্বিশের ভোট অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং। এই সময়ে সরকারের উন্নয়নকে হাতিয়ার করে এগিয়ে যাওয়ার ভাবনা তৃণমূলের। শুক্রবার দলের ১৫ হাজার পদাধিকারীকে নিয়ে ভার্চুয়াল বৈঠকে কীভাবে রাজ্যের ‘উন্নয়নের পাঁচালি’র প্রচার করা যায়, সেই সংক্রান্ত ব্লু প্রিন্ট ছকে দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)।
এদিনের বৈঠকে দলের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন , “উন্নয়নের পাঁচালি প্রচারের জন্য প্রত্যেক বিধানসভায় তিনটি করে টিম তৈরি করেছি। একটা টিমে অন্তত ৫ জন থাকবে । এর বেশিও থাকতে পারে। ৩৮ টি টিম তৈরি হয়েছে। একজন করে এম পি থাকবে। সমাজের কোনও একজন influencar থাকবেন। এরকম ১৮০০ ব্যক্তিকে চিহিন্ত করা হয়েছে। স্টেট ওয়াইজ ২০০ জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এদের কাছে যাওয়া হবে। ১ তারিখ থেকে এই কর্মসূচি শুরু হবে। ১৫ দিনের মধ্যে শেষের চেষ্টা করা হবে। না হলে ৩০ দিনের মধ্যে শেষ করতেই হবে।” ১ জানুয়ারি থেকে শুরু হবে বাংলার সমর্থনের সংযোগ।
এর সঙ্গে তিনি যোগ করেন, প্রচারের সঙ্গে যুক্ত ১৮০০ জনকে একটা করে কিট দেওয়া হবে। আগামী ৩০ – ৩১ তারিখের মধ্যে সকলের কাছে পৌঁছে যাবে। নীল রঙের বাক্স। লেখা থাকবে উন্নয়নের পাঁচালি। এর মধ্যে একটা উত্তরীয় ও একটা ফাইল থাকবে। সেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর লেখা চিঠি থাকবে। বাংলা ও ইংরেজিতে। ১৫ বছরের রিপোর্ট কার্ড। একটা মেমেন্টো থাকবে। এর সঙ্গেই ১৫ বছরের রিপোর্ট কার্ডটি থাকবে। সরকারের যাবতীয় উন্নয়নের কর্মযজ্ঞের খতিয়ান থাকবে। এই রিপোর্ট কার্ডের সঙ্গে সবুজশ্রী, মধুরস্নেহ , স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ড, ঐক্যশ্রী, জাতিগত সংশাপত্র, মহাত্মাশ্রী, লোকশিল্পের প্রকল্প, হাসির আলো, কৃষকবন্ধু সহ সরকারের সব সামাজিক প্রকল্পের খতিয়ান থাকবে।” দলের আধিকারিকদের তিনি বলেন, দলের তরফে প্রত্যেক জেলায় কো অর্ডিনেটর আপয়েন্ট করা হবে। ২ – ৩ টি বিধানসভার জন্য একজন করে কো অর্ডিনেটর থাকবে।”
তিনি জানান, এই প্রচার অভিযান চলবে কয়েকটি ধাপে। প্রথম ধাপে টিম গঠন সহ একাধিক কাজ হবে। দ্বিতীয় ধাপে বুথ স্তরে হবে উন্নয়নের সংলাপ কর্মসূচী। তৃতীয় ধাপে থাকবে পাড়ার সংলাপ। এবং শেষ পর্বে উন্নয়নের চলচ্চিত্র দেখাতে হবে। এল ই ডি স্ক্রিনে। ৪৫ মিনিটের ছবি। চলচ্চিত্রের নাম উন্নয়নের পর্ব । এই পুরো কর্মসূচিতে এতটুকু শিথিলতা যেন বা থাকে । এটা যুদ্ধের সমান। আত্মতুষ্টির কোনো জায়গা নেই – দলের নেতা কর্মীদের উদ্দেশ্যে সাফ বার্তা অভিষেকের।
এরপর ভার্চুয়াল বৈঠকে দলের নেতা-কর্মীদের কাছে কেন্দ্রের বঞ্চনার বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারন সম্পাদক। তিনি বলেন, “কেন্দ্রের বিজেপি সরকার গত ৭ বছরে ৬লক্ষ কোটি টাকার বেশি ট্যাক্স বাবদ তুলে নিয়ে গিয়েছে। কেন্দ্রের কাছে বকেয়া ২ লক্ষ কোটি টাকার বেশি। এরপরেও ২৮ হাজার কোটি টাকা খরচ করে ২ কোটির বেশি মহিলাকে লক্ষির ভান্ডার দিচ্ছি। পথশ্রীর টাকা দিয়েছি। আবাসের টাকা দিয়েছি। বিজেপি ১১ বছরে বাংলার জন্য কি করেছে তারও রিপোর্ট কার্ড দরকার।”
কর্মীদের উদ্দেশ্যে তাঁর সাফ বার্তা, ” যাদের কাছে যাবেন তাদের কাছে মাথা নিচু করে বিনয়ী ভাবে বলতে হবে, টিএমসি , বিজেপি , সিপিএম নয় বাংলার ভূমিপুত্র হিসেবে এই লড়াইয়ে আপনাকে পাশে থাকতে হবে। আপনার ব্যবহার আপনার পরিচয়। কোনওরকম ঔদ্ধত্য, দম্ভ, অহংকার না থাকে। আপনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর প্রতিনিধি হয়ে যাবেন। আপনার মধ্যে যেন সাধারণ মানুষ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লড়াই – সংগ্রামকে দেখতে পান।”





