অন্ধ্রপ্রদেশের কুর্নুলে বাসে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় শুরু হয়েছে তদন্ত। আর এখানেই উঠে এসেছে কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য। আগুনের তীব্রতার কারণ খুঁজতে গিয়ে উঠে আসছে বাসে মজুদ থাকা বিপুল পরিমাণ মোবাইলের ব্যাটারির কথা। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, শুক্রবার সকালে দুর্ঘটনার সময় যে বাসটিতে ২৩৪টি স্মার্টফোন ছিল। ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এই ফোনগুলির ব্যাটারি ফেটে যাওয়ায় আগুনের তীব্রতা অনেকগুন বেড়ে যায়। আবার সেখানকারই একটি পেট্রল পাম্পের সিসিটিভির ফুটেজ এই দুর্ঘটনার কারণ নিয়ে বেশ কিছু প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। ঘটনাচক্রে, যে বাইকের সঙ্গে বাসটির ধাক্কা লাগে, সেই বাইকচালক বি শিবশঙ্করকে দেখা গিয়েছিল ওই পেট্রল পাম্পেই। কোনও পেট্রলকর্মীকে দেখতে না পেয়ে দ্রুতগতিতে বাইক নিয়ে বেরিয়ে যান। বাইক সেই সময়েই বেসামাল হয়ে যাচ্ছিল। পুলিশের হাতে ওই ভিডিয়ো এসেছে। সূত্রের খবর, ওই ভিডিয়ো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আর তা থেকেই তদন্তকারীদের একাংশের অনুমান, নেশাগ্রস্ত অবস্থায় ছিলেন বাইকচালক। যে সময় দুর্ঘটনার কবলে পড়ে বাসটি, সেই সময় ভারী বৃষ্টি হচ্ছিল, তা ছাড়াও ঘন অন্ধকার ছিল। ফলে বাসচালক বাইকচালককে দেখতে পাননি। চালক-সহ বাইক বাসের সামনে আটকে যায়। ওই অবস্থাতেই ২০০ মিটার বাইকটিকে টেনে নিয়ে যায় বাস। রাস্তার সঙ্গে বাইকের ঘর্ষণে স্ফুলিঙ্গের সৃষ্টি হয়। বাইকের ট্যাঙ্ক থেকে পেট্রল লিক করছিল। ঘর্ষণে সৃষ্ট স্ফুলিঙ্গ ওই জ্বালানির সংস্পর্শে আসতেই বাসে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। আর তার পরই বিস্ফোরণ।
শুক্রবার ভোররাতে কুর্নুল জেলার চিন্নেতকুর গ্রামের কাছে বেঙ্গালুরু-হায়দরাবাদ হাইওয়েতে একটি মোটরবাইকের সঙ্গে ধাক্কা লাগে একটি যাত্রীবোঝাই লাক্সারি বাসের। সঙ্গে সঙ্গে বাসটিতে আগুন ধরে যায়। নিমেষে দাউদাউ করে জ্বলতে থাকে। বিস্ফোরণের শব্দও শোনা যায়। মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে বাসটি পুড়ে ছাই হয়ে যায়। বেশিরভাগ যাত্রী দরজা ভেঙে বেরিয়ে আসারও সময় পাননি। ফলে আগুনে ঝলসে মৃত্যু হয় একের পর এক অসহায় যাত্রীর। মৃতের সংখ্যা ২০, আহত বহু। অনেকেই গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এই আবহেই সামনে এসেছে বাসে ২৪৩টি স্মার্টফোনের উপস্থিতির কথা। কীভাবে এল এতগুলি ফোন? জানা গিয়েছে, হায়দরাবাদের এক ব্যবসায়ী ওই বাসে ৪৬ লক্ষ টাকা মূল্যের ২৩৪টি ফোন পাঠাচ্ছিলেন বেঙ্গালুরুর একটি ইকমার্স সংস্থায়। ওই ফোনগুলি ক্রেতাদের হাতে পৌঁছনর কথা ছিল। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ফোনগুলিতে আগুন লাগতেই ব্যাটারিগুলি ফাটতে শুরু করে। অন্ধ্রপ্রদেশের দমকল বিভাগের ডিরেক্টর জেনারেল জানিয়েছেন, ফোনের ব্যাটারিগুলির পাশাপাশি বাসের এসি চালানোর জন্য যে ব্যাটারি ব্যবহার হয় সেটিও ফেটে যায়। দমকলের ধারণা বাসের সামনের অংশে জ্বালানী লিক হওয়ায় সেখান থেকেই আগুন লেগেছে বাসে। তবে ঠিক কী কারণে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটল সে নিয়ে এখনও তদন্ত চলছে।





