Header AD

পাকিস্তানের হামলায় ৩ আফগান ক্রিকেটার নিহত! প্রতিবাদে ত্রিদেশীয় সিরিজে না খেলার সিদ্ধান্ত নিল রশিদের দেশ

গত এক সপ্তাহ ধরে পাকিস্তান এবং আফগানিস্তানের মধ্যে সংঘর্ষ চলছে। এবার পাক হামলায় আফগানিস্তানের তিন ক্রিকেটার প্রাণ হারালেন। শুক্রবার রাতে আফগানিস্তানের পাকতিকা প্রদেশে আকাশপথে হামলা চালায় পাকিস্তান বলে অভিযোগ। তাতেই তিন জন ক্রিকেটার-সহ মোট আট জনের মৃত্যু হয়েছে বলে খবর। তিন ক্রিকেটারের নাম এবং ছবি প্রকাশ করেছে আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (এসিবি)। এই ঘটনার প্রতিবাদে আগামী নভেম্বরের ত্রিদেশীয় সিরিজ না খেলার সিদ্ধান্ত নিল আফগানিস্তান। এই সিরিজের বাকি দুই দল হল পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা। বোর্ডের তরফে বলা হয়েছে, “আফগানিস্তানের ক্রীড়াজগতে এটা অপূরণীয় ক্ষতি। ওঁদের পরিবারের প্রতি এবং পাকতিকার মানুষের প্রতি আমরা গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আগামী নভেম্বরে পাকিস্তান এবং শ্রীলঙ্কার সঙ্গে যে ত্রিদেশীয় টি২০ সিরিজে খেলার কথা ছিল আফগানিস্তানের, তাতে যোগ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আফগান বোর্ড।”

বোর্ডের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে আফগানিস্তানের টি২০ ক্রিকেট দলের অধিনায়ক রশিদ খান এই ঘটনাকে ‘বর্বরোচিত’,’অনৈতিক’ ও ‘মানবাধিকার লঙ্ঘনকারী’ বলে উল্লেখ করেছেন। সমাজমাধ্যমে ক্ষোভ উগরে দিয়ে আইপিএলে গুজরাত টাইটান্সের তারকা লেগস্পিনার লিখেছেন, “পাকিস্তানের হামলায় আফগানিস্তানের নাগরিকদের মৃত্যুতে আমি গভীর ভাবে শোকাহত। এই হামলায় অনেক মহিলা, শিশুর প্রাণ গিয়েছে। প্রাণ গিয়েছে তরুণ ক্রিকেটারদের, যাঁরা এক দিন আন্তর্জাতিক মঞ্চে খেলার স্বপ্ন দেখেছিলেন। এ ভাবে অসামরিক পরিকাঠামোয় হামলা বর্বরোচিত এবং অনৈতিক। এই ধরনের কাজ মানবাধিকার লঙ্ঘন করে, একে এড়িয়ে যাওয়া উচিত নয়। এতগুলো নিষ্পাপ প্রাণের মৃত্যু হয়েছে। আমি আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাচ্ছি। এই কঠিন সময়ে আমাদের দেশের মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছি। দেশের মর্যাদা সবচেয়ে আগে।”

বুধবার ৪৮ ঘণ্টার সংঘর্ষবিরতি ঘোষণা করেছিল দুই দেশ। তার মেয়াদ শেষ হয়েছে শুক্রবার। তার পরেই রাতে পাকিস্তান হামলা চালায় বলে অভিযোগ উঠেছে। এসিবি-র বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “পাকতিকা প্রদেশের উরগুন জেলার ক্রিকেটারদের উপর কাপুরুষোচিত হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। তাঁরা শহিদ হয়েছেন। আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড এই ঘটনায় গভীর ভাবে শোকাহত। উরগুন জেলার তিন ক্রিকেটার এবং আরও পাঁচ জন সাধারণ নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। সাত জন জখম। এই ক্রিকেটারেরা একটি বন্ধুত্বপূর্ণ ম্যাচ খেলতে এর আগে পাকতিকার রাজধানী শারানায় গিয়েছিলেন। সেখান থেকে উরগুনে ফেরার পরেই তাঁদের নিশানা করা হয়।”