ফের ওড়িশার মাটিtতে বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর হামলার অভিযোগ। গত ২৪ ঘণ্টায় পড়শি রাজ্যে নতুন করে অন্তত ৩২ জন বাঙালি শ্রমিকের উপরে হামলার অভিযোগ প্রকাশ্যে এসেছে। আক্রান্তদের মধ্যে সিংহভাগই মুর্শিদাবাদ জেলার বাসিন্দা।
সাম্প্রতিক ‘হিংসা’র কবলে পড়েছেন ভগবানগোলার কানাপুকুর সংলগ্ন গ্রামগুলির বাসিন্দারা।‘বাংলাদেশি’ তকমা দিয়ে বাঙালিদের উপরে অমানবিক অত্যাচার চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলে ঘরমুখো হচ্ছেন শ্রমিকরা। ভূবনেশ্বরের চন্দ্রশেখরপুর এলাকায় রাতে ঘুমন্ত অবস্থা থেকে শ্রমিকদের তুলে নিয়ে গিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এমনকি, গোপনাঙ্গে রড ঢুকিয়ে দেওয়ার মতো নৃশংস অত্যাচারের অভিযোগও উঠে আসছে।
পাশাপাশি আরও যেটা উদ্বেগের, বর্তমানে শুধু কাজের জায়গা নয়, ট্রেন ধরার জন্য ভূবনেশ্বর, বালেশ্বর বা ভদ্রক স্টেশনে পৌঁছতে গিয়েও আক্রান্ত হচ্ছেন শ্রমিকরা। ওড়িশার গ্রামে-গঞ্জে যাঁরা জামাকাপড় বা জিনিসপত্র ফেরি করতে বেরচ্ছেন, তাঁদের পথ আটকে পরিচয়পত্র চাওয়া হচ্ছে । বাংলা ভাষায় কথা বললেই জুটছে অকথ্য মার। স্থানীয় সূত্রে খবর, ভদ্রক এলাকায় কাজ করতে গিয়েছিলেন, ডোমকল ও জলঙ্গি ব্লকের এমন অন্তত ২৫ জন শ্রমিকের খোঁজ মিলছে না। এই পরিস্থিতিতে জেলায় ফিরতে মরিয়া শ্রমিকেরা ওড়িশার বিভিন্ন স্টেশনে কার্যত আত্মগোপন করে আছেন। ভগবানগোলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শ্রমিক আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, ওরা শুধু আমাদের ভাষাটুকু শুনেই হিংস্র হয়ে উঠছে। পুলিশ থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে তাঁরা নীরব দর্শক হয়ে থাকছে। এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে রাজ্য সরকার কড়া পদক্ষেপের আশ্বাস দিলেও আতঙ্ক কাটছে না সীমান্ত জেলা মুর্শিদাবাদের কয়েক হাজার পরিবারের।
মুর্শিদাবাদ জেলার বহু সংখ্যক মানুষ জীবিকার খোঁজে ওড়িশার বিভিন্ন প্রান্তে কাজ করেন। ডোমকল ব্লক থেকে প্রায় ১ থেকে ২ হাজার মানুষ মূলত রাজমিস্ত্রি ও নির্মাণের কাজ করছেন পড়শি রাজ্যে। জলঙ্গি ব্লক থেকে আনুমানিক প্রায় হাজার খানেক শ্রমিক ওড়িশার পোল্ট্রি ফার্মের কাজে যুক্ত। বিড়ি শিল্পের এলাকা হিসাবে পরিচিত শমসেরগঞ্জ ব্লক থেকে প্রায় ২ হাজার ২০০ মানুষ ওড়িশার বিভিন্ন প্লাইউড ফ্যাক্টরিতে ও ঢালাইয়ের কাজে নিয়োজিত রয়েছেন। এ ছাড়া সুতি-১ ও ২ ব্লক থেকে প্রায় ১০ থেকে ১৩ হাজার শ্রমিক রাস্তা তৈরি ও সেন্টারিংয়ের কাজে কর্মরত আছেন। এ ছাড়াও গোটা জেলা থেকে হাজার পাঁচেকেরও বেশি মানুষ ওড়িশায় ফেরিওয়ালার কাজ করেন। এই ঘটনায় সকলের মনেই আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।





