Header AD

হংকংয়ের বহুতলে বিধ্বংসী আগুনে মৃত ৪৪, নিখোঁজ প্রায় তিন শতাধিক

ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড হংকং-এ! সাতটি বহুতল আবাসনে বিধ্বংসী আগুন। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছেন ৪৪ জন। নিখোঁজ তিন শতাধিক। আবাসনগুলির ভিতরে  এখনও অনেকে আটকে রয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে ঠিক কতজন আটকে রয়েছেন তার কোনও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি এখনও পর্যন্ত। মৃতের সংখ্যাও বৃদ্ধি পেতে পারে বলে আশঙ্কা হংকঙের দমকল কর্তৃপক্ষের। গত ১৭ বছরে হংকংয়ে এত বড় অগ্নিকাণ্ড ঘটেনি।

সূত্রের খবর, বুধবার দুপুর সাড়ে ৩টে নাগাদ হংকংয়ের ‘ওয়াং ফুক কোর্ট’ নামের ওই আবাসনে আচমকা আগুন ধরে যায়। আটটি ব্লক নিয়ে তৈরি ওই আবাসনে সব মিলিয়ে প্রায় ৪ হাজার ৮০০ লোকের থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। তারই এক দিকে চলছিল নির্মাণকাজ। ‘ওয়াং ফুক কোর্ট’-এর আটটি ব্লকের সাতটি আবাসন মিলিয়ে প্রায় ২ হাজার আবাসন রয়েছে। প্রতিটি বহুতল আবাসনে রয়েছে ৩৫টি করে তলা। তার মধ্যেই কোনও একটিতে আগুন ধরে। যে দিকে নির্মাণকাজ চলছিল, সে দিকে বাঁশের ভাড়া বাঁধা ছিল। সেগুলি ঢাকা ছিল সবুজ জালি দিয়ে। সেগুলি দাহ্য হওয়ায় দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ে। ধীরে ধীরে এক টাওয়ার থেকে আগুন ছড়ায় অন্য টাওয়ারগুলিতে। চোখের নিমেষে জ্বলে ওঠে আবাসনগুলি। গলগল করে ধোঁয়া বেরতে শুরু করে। দ্রুত দমকলের ১২৮টি ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছয় । হাজির হয় ৫৭টি অ্যাম্বুল্যান্স। দমকলের শতাধিক ইঞ্জিনের দীর্ঘক্ষণের চেষ্টাতেও ভোর পর্যন্ত পুরোপুরি আগুন নেভানো যায়নি বলে খবর। দুর্ঘটনায় প্রথমে‘৪ নম্বর অ্যালার্ম’ জারি হয়েছিল। পরিস্থিতি ক্রমে এমন গুরুতর হয়ে ওঠে যে ‘৫ নম্বর অ্যালার্ম’ জারি করা হয়। এটাই হংকঙের সর্বোচ্চ বিপদ সংকেত।

এই ঘটনায় প্রাথমিক তদন্তের পর বহুতলের নির্মাণকাজের দায়িত্বে থাকা সংস্থাকেই দুষল পুলিশ। জানানো হল, সংশ্লিষ্ট নির্মাণকারী সংস্থার চরম গাফিলতির কারণেই প্রাণ হারিয়েছেন এত মানুষ। হংকং পুলিশের সিনিয়র সুপারিনটেনডেন্ট আইলিন চুং সংবাদমাধ্যমকে জানান, ‘‘বহুতলের নির্মাণকাজের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা চরম অবহেলা করেছিলেন। তার ফলেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। আমাদের এমনটা মনে করার যথেষ্ট কারণও রয়েছে। তাঁদের গাফিলতিতেই আগুন অনিয়ন্ত্রিত ভাবে ছড়িয়ে পড়ে, যার ফলে এত বড় ঘটনা ঘটে।‘ পুলিশ সূত্রে খবর, ইতিমধ্যেই ওই সংস্থার তিন আধিকারিককে আটক করা হয়েছে।ধৃতদের মধ্যে দুজন সংস্থার ডিরেক্টর। তৃতীয় জন সংস্থার এক ইঞ্জিনিয়ার। তবে ঠিক কী থেকে ওই আগুন লাগল, তা এখনও স্পষ্ট ভাবে জানা যায়নি। তদন্ত চলছে।