Header AD

হাঁসখালির নাবালিকার গণধর্ষণ-খুনের মামলায় ৯ জন দোষী সাব্যস্ত, ৩ জনের যাবজ্জীবন

নদিয়ার হাঁসখালি গণধর্ষণ এবং খুনের ঘটনায় মোট ৯ জনকে দোষী সাব্যস্ত করল আদালত। তার মধ্যে ৩ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা ঘোষণা হল। দোষীদের মধ্যে রয়েছে এক প্রভাবশালী নেতার পুত্রও। মঙ্গলবার রানাঘাট আদালত এই রায় শুনিয়েছেন। ২০২২ সালে নদিয়ার হাঁসখালিতে এক নাবালিকাকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনা ঘটেছিল। ঘটনায় আদালতের নির্দেশে সিবিআই তদন্ত করে। প্রায় তিন বছর পর ওই সাজা ঘোষণায় স্বস্তিতে ওই মৃতার পরিবার।

জানা গিয়েছে, সোহেল গয়ালি, প্রভাকর পোদ্দার ও রঞ্জিত মল্লিককে এই ৩ জনকে যাবজ্জীবন সাজা শোনানো হয়েছে বলে খবর। ওই তিনজনের বিরুদ্ধেই গণধর্ষণের অভিযোগ ছিল। সোহেলের বাবা এলাকার প্রভাবশালী নেতা সমরেন্দ্র গোয়ালিকে পাঁচ বছরের সাজা শুনিয়েছেন বিচারক। ঘটনায় সহযোগিতা ও প্রমাণ লোপাটের অভিযোগ ছিল তার বিরুদ্ধে। ওই ৯জনের মধ্যে দু’জন নাবালক রয়েছে বলে খবর। তাদের ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। তাদের জামিনে রেখে নজরদারির নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

রানাঘাট আদালতে এই মামলা চলছিল । সোমবার বিচারক ৯ অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করে । মঙ্গলবার সাজা শোনাল হল। এদিন সকাল থেকেই আদালত চত্বর কড়া নিরাপত্তায় মোড়া ছিল। সাধারণ মানুষরাও আদালত চত্বরে উপস্থিত ছিলেন। নির্দিষ্ট সময় আদালতে দোষীদের হাজির করানো হয়। এদিন বেলায় বিচারক তাদের সাজা শোনাল। রায় শুনে কেঁদে ফেলেন মৃতার পরিবারের সদস্যরা।

প্রসঙ্গত, ২০২২ সালে নদীয়ার হাঁসখালিতে এক কিশোরীকে জন্মদিনের পার্টিতে ডেকে গণধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। শুধু তাই নয়, রক্তাক্ত অবস্থাতেই নির্যাতিতাকে ফেলে চম্পট দেয় অভিযুক্তরা। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মৃত্যু হয় কিশোরীর। শুধু তাই নয়, প্রমাণ লোপাটের জন্য ঘটনার পর মৃতদেহ দাহ করে দেওয়া হয়! কোনওরকম ডেথ সার্টিফিকেট ছাড়াই সেই কাজ করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনায় রাজ্যজুড়ে শোরগোল পড়ে যায়। ঘটনার তদন্তে নামে রাজ্য পুলিশ। সিবিআই তদন্ত চেয়ে মামলা হয় কলকাতা হাই কোর্টেও। হাই কোর্টের নির্দেশে তদন্ত শুরু করে সিবিআই। একাধিক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়। অবশেষে সেই মামলায় অভিযুক্তদের সাজা ঘোষণা হল।