Header AD
Trending

শারীরিক প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও নির্বাচন কমিশনের ‘ডাকে’ বিশেষ শুনানিতে যেতে হল ৯১ বছরের বৃদ্ধাকে

রাজ্য জুড়ে শুরু হয়ে গিয়েছে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনী শুনানি প্রক্রিয়া। যে সমস্ত ব্যক্তির নাম কোনও কারণবশত খসড়া ভোটার তালিকায় ওঠেনি তাঁদের সশরীরে ইআরও, এইআরও বা বিএলও-দের সামনে হাজির হয়ে নিজেদের বিভিন্ন রকমের বৈধ নথি দেখিয়ে ভোটার তালিকার নাম তুলতে হচ্ছে। তবে খসড়া তালিকায় নাম থাকলেও যে রেহাই মিলছে এমন নয়। ম্যাপিং ঠিকঠাক না হওয়ার অজুহাতে তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও কমিশনের সমন পেতে হচ্ছে বলেও অনেকের অভিযোগ।

তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি মেনে ৮৫ বছরের বেশি বয়সি মানুষদের ভোটার তালিকায় নাম তোলার শুনানিতে কোনও অফিসে যেতে হবে না বলে জানিয়ে দিয়েছিল জাতীয় নির্বাচন কমিশন। কিন্তু কমিশনের নির্দেশিকা পাওয়ার পরও রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে দেখা যাচ্ছে অন্য ছবি। কমিশনের উদাসীনতার জন্য বহু অশক্ত বৃদ্ধ মানুষকে ভোটার তালিকায় নাম তুলতে নির্বাচন কমিশনের বিশেষ ক্যাম্পে গিয়ে হাজির হতে দেখা যাচ্ছে।

মঙ্গলবার এমনই এক দৃশ্য ধরা পরল মুর্শিদাবাদের লালবাগ শহরের সিংহী হাই স্কুলে। চলছিল এসআইআর-এর শুনানির জন্য বিশেষ ক্যাম্প। ২০০২ এর ভোটার তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও মুর্শিদাবাদের জিয়াগঞ্জ শহরের কয়েকজন ৮৫ বছরের বেশি বয়সি বাসিন্দার নাম খসড়া ভোটার তালিকায় বাদ পড়েছে। অশক্ত শরীরে নিরূপায় হয়ে মঙ্গলবার তাঁরা অ্যাম্বুলেন্সে করে শুনানিতে হাজিরা দিতে এসেছিলেন। তাঁদের মধ্যে এক মহিলার বয়স ৯১ বছর পেরিয়ে গিয়েছে।

সূত্রের খবর মুর্শিদাবাদ বিধানসভার অন্তর্গত জিয়াগঞ্জ-আজিমগঞ্জ পুরসভার ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের ৪১ এবং ৪২ নম্বর অংশে প্রায় ৭৭ জন এমন মানুষের নাম খসড়া ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে যারা চলাফেরায় অক্ষম এবং বাড়িতে দেখাশোনার মতো লোক নেই।
মঙ্গলবার সকালে জিয়াগঞ্জ-আজিমগঞ্জ পুরসভার চেয়ারম্যান প্রসেনজিৎ ঘোষের উদ্যোগে চারজন ৮৫ বছরের বেশি বয়সি মানুষকে ওই শুনানিতে হাজির থাকার জন্য অ্যাম্বুলেন্সে করে নিয়ে আসা হয়।

তৃণমূল কর্মীদের আশঙ্কা, জাতীয় নির্বাচন কমিশন বিজেপির সঙ্গে হাত মিলিয়ে বৃদ্ধ ভোটারদের নাম তালিকা থেকে বাদ দিতে চাইছে। বিজেপির এই অসৎ উদ্দেশ্য যাতে কোনওভাবেই সফল না হয় সেই কারণে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ঘুরে তৃণমূল কর্মীরা বৃদ্ধ -অশক্ত বৈধ ভোটারদেরকে নিজের উদ্যোগে শুনানির জন্য কমিশনের ক্যাম্পে নিয়ে যাচ্ছেন।

মঙ্গলবার তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীদের উদ্যোগে কয়েকজন মহিলা শুনানির জন্য ওই ক্যাম্প এসেছিলেন। এঁদের কারও পক্ষে একা চলাফেরা করা অসম্ভব।
পুরসভার চেয়ারম্যান প্রসেনজিৎ ঘোষ বলেন,”জাতীয় নির্বাচন কমিশনের তরফ থেকে নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে সশরীরে শুনানিতে হাজিরা না থাকলে চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় নাম থাকবে না। আমার এলাকার যে সমস্ত ৮৫ -৯০ বছর বয়সী ব্যক্তিদের নাম খসড়া ভোটার তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে তাঁদের প্রত্যেকের নাম ২০০২-এর ভোটার তালিকায় ছিল।”

তিনি দাবি করেন,” কেন্দ্র সরকার পরিকল্পনা করে নির্বাচন কমিশনের সাহায্যে প্রায় দেড় কোটি লোকের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার চেষ্টা করছে। কিন্তু তাদের এই উদ্দেশ্য আমরা পূরণ হতে দেব না। তাই যেখানেই এরকম বেনিয়ম আমরা দেখছি নিজেদের উদ্যোগে সেই সমস্ত ভোটারদেরকে শুনানির জন্য ক্যাম্পে আনার ব্যবস্থা করছি।”