আমেরিকা-ইরান সংঘাতের জেরে পশ্চিম এশিয়ায় তৈরি হওয়া অস্থিরতার সরাসরি প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক বিমান পরিষেবায়। সোমবার নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (দমদম) থেকে পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন গন্তব্যে মোট ২০টি উড়ান বাতিল করা হয়েছে।
বাতিল হওয়া উড়ানগুলির মধ্যে রয়েছে—
এমিরেটস (Emirates)-এর ৮টি (আসা-যাওয়া মিলিয়ে)
কাতার এয়ারওয়েজ (Qatar Airways)-এর ৪টি
এতিহাদ এয়ারওয়েজ (Etihad Airways)-এর ৪টি
এয়ার আরাবিয়া (Air Arabia)-এর ২টি
ফ্লাই দুবাই (Flydubai)-এর ২টি
দুবাই-সহ পশ্চিম এশিয়ার বড় বড় বিমানবন্দরগুলি আন্তর্জাতিক ট্রানজ়িট হাব হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিশেষত ইউরোপ ও আমেরিকাগামী ভারতীয় যাত্রীদের বড় অংশকেই এই রুট ব্যবহার করতে হয়। ফলে পরিষেবা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বহু যাত্রী বিপাকে পড়েছেন।
অন্যান্য শহরেও একই ছবি
শুধু কলকাতাই নয়, ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, কেম্পেগৌডা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং চেন্নাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকেও পশ্চিম এশিয়াগামী একাধিক উড়ান বাতিল করা হয়েছে। আমেরিকা (United States) ও ইজরায়েল (Israel) যৌথভাবে ইরানে (Iran) হামলা চালানোর পর থেকেই গোটা অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে দুবাই-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ শহরে সাময়িকভাবে বিমান চলাচল স্থগিত রাখা হয়েছে।
যাত্রীদের উদ্বেগ ও সরকারি উদ্যোগ
এই অস্থিরতার ফলে বহু ভারতীয় যাত্রী গন্তব্যে পৌঁছতে পারছেন না। একই সঙ্গে পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন দেশে আটকে পড়া ভারতীয়দের মধ্যে ভিসা ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিদেশে আটকে থাকা ভারতীয়দের নিরাপদে ফিরিয়ে আনার বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের নিরাপত্তা বিষয়ক শীর্ষ কমিটির বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। রবিবার রাতে দিল্লিতে ফিরে সেই বৈঠকে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
অন্যদিকে, ভারতে আটকে থাকা বিদেশি নাগরিকদেরও উদ্বিগ্ন না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে কেন্দ্র। বিদেশ মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, প্রয়োজন হলে তাঁদের ভিসার মেয়াদ বৃদ্ধি বা ভারতে থাকার বিষয়ে সব রকম সহযোগিতা করা হবে।





