Header AD

রাষ্ট্রপতির সফর ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক, প্রোটোকল ভাঙার অভিযোগ খারিজ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের

রাষ্ট্রপতির সফরকে কেন্দ্র করে বাংলায় রাজনৈতিক তরজা তীব্র হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর (Droupadi Murmu) শিলিগুড়ি সফরে কোনও প্রোটোকল ভাঙা হয়নি। তাঁর অভিযোগ, এই ঘটনাকে সামনে রেখে বিজেপি ভোটের রাজনীতি করার চেষ্টা করছে এবং দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদকে দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করা হচ্ছে।

সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স  (সাবেক টুইটার)-এ একটি বিস্তারিত বার্তায় পুরো ঘটনার ব্যাখ্যা দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, শিলিগুড়িতে একটি বেসরকারি সংগঠন আন্তর্জাতিক সাঁওতাল কাউন্সিলের সম্মেলনে রাষ্ট্রপতিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। কিন্তু সেই অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি পর্যাপ্ত ছিল না। জেলা প্রশাসনের তরফে বিষয়টি আগেই রাষ্ট্রপতির সচিবালয়কে লিখিতভাবে এবং ফোনে জানানো হয়েছিল। এমনকি ৫ মার্চ রাষ্ট্রপতির সচিবালয়ের আধিকারিকরা অনুষ্ঠানস্থল পরিদর্শন করলেও সমস্যার কথা তাঁদের জানানো হয়।

মমতার বক্তব্য, নির্ধারিত দিনে রাষ্ট্রপতি শিলিগুড়িতে পৌঁছানোর পর প্রোটোকল মেনেই স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধিরা তাঁকে স্বাগত জানান। শিলিগুড়ির মেয়র, দার্জিলিংয়ের জেলাশাসক এবং শিলিগুড়ির পুলিশ কমিশনার সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তাই প্রোটোকল ভাঙার প্রশ্নই ওঠে না। তিনি আরও বলেন, ওই অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিত থাকার কোনও পরিকল্পনাই ছিল না। মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, বিজেপি নিজেদের রাজনৈতিক লাভের জন্য রাষ্ট্রপতির মতো সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদকে অসম্মান করছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।

উল্লেখ্য, শিলিগুড়িতে পৌঁছানোর পর রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু মন্তব্য করেছিলেন যে মুখ্যমন্ত্রী তাঁকে স্বাগত জানাতে আসেননি। তিনি বলেন, মমতা তাঁর ছোট বোনের মতো এবং হয়তো কোনও কারণে রাগ করেছেন বলেই তিনি আসেননি।

রাষ্ট্রপতির এই মন্তব্য সামনে আসার পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ( Narendra Modi ) সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি এই ঘটনাকে লজ্জাজনক বলে উল্লেখ করে বলেন, রাষ্ট্রপতির পদ রাজনীতির ঊর্ধ্বে এবং তার মর্যাদা সবসময় রক্ষা করা উচিত। একইসঙ্গে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

এই ঘটনার পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে জানিয়ে দেন যে রাজ্য সরকার কোনওভাবেই প্রোটোকল ভাঙেনি এবং বিজেপি অযথা বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি করছে।