Header AD

কমিশনের ফুলবেঞ্চের বৈঠকে বৈধ ভোটার নাম বাদে সরব তৃণমূল, একদফায় নির্বাচন চায় বাম-বিজেপি

বাংলায় বিধানসভা নির্বাচনের দামামা কার্যত বেজে গিয়েছে। এখন শুধু নির্ঘণ্ট ঘোষণার অপেক্ষা। তার আগেই ভোট প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে রবিবার রাজ্যে এসেছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার (CEC Gyanesh Kumar)-সহ নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ। সোমবার সকাল রাজনৈতিক দলগুলির প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে কমিশনের। সেখানে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূলের তরফে জোর দেওয়া হয়েছে যাতে কোনও বৈধ ভোটারের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ না পড়ে। অন্যদিকে এই বৈঠকে অংশ নিয়ে বাংলায় এক দফায় নির্বাচন করার দাবি জানাল সিপিএম- বিজেপি।

এসআইআর (SIR)ইস্যুতে রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চের সঙ্গে বৈঠক করে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। তৃণমূলের প্রতিনিধি দলে ছিলেন ফিরহাদ হাকিম (Firhad Hakim), চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য (Chandrima Bhattacharya) এবং রাজীব কুমার (Rajeev Kumar)। বৈঠক শেষে মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বলেন, নির্বাচন কমিশন একটি নিরপেক্ষ সংস্থা—এই বিশ্বাস তারা রাখেন। তবে বাস্তবে সেই নিরপেক্ষতা প্রমাণিত হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তিনি। বিভিন্ন অভিযোগ উঠলেও সেগুলি সমাধানের জন্য যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না বলেও দাবি করেন রাজ্যের মন্ত্রী। এছাড়াও ফর্ম ৬ ও ফর্ম ৭-এ তথ্য বিভ্রাটের বিষয়টি নিয়েও কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে বলে জানান তিনি। তৃণমূলের দাবি, কোনও বৈধ ভোটারের নাম যাতে ভোটার তালিকা থেকে বাদ না পড়ে, তা নিশ্চিত করতে হবে নির্বাচন কমিশনকেই।

সোমবার দিনের শুরুতেই বিজেপির প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক করেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বিজেপির তরফে শিশির বাজোরিয়া জানান, বঙ্গে ৭ বা ৮ দফার বদলে সর্বাধিক ১ বা ২ দফায় নির্বাচন করার দাবি জানানো হয়েছে। সেই সঙ্গে প্রতিটি বুথে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সক্রিয় উপস্থিতিতে ভোটগ্রহণের দাবি তারা কমিশনের কাছে জানিয়েছেন।পাশাপাশি প্রতিটি বুথে ওয়েব ক্যামেরা-সহ সমস্ত নজরদারি ব্যবস্থা রাখার দাবিও জানিয়েছে বিজেপি।

অন্যদিকে মহম্মদ সেলিমের নেতৃত্বে বামফ্রন্টের প্রতিনিধিরাও কমিশনের ফুল বেঞ্চের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে সেলিম জানান, তারাও বাংলায় এক দফায় ভোটের দাবি জানিয়েছেন। তবে সর্বোচ্চ দু’দফায় নির্বাচন হলেও তাদের আপত্তি নেই বলেও কমিশনকে জানানো হয়েছে। উল্লেখ্য, বর্তমানে প্রায় ৬০ লক্ষ ভোটারের নাম বিচারাধীন অবস্থায় রয়েছে। এই বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তি করে পূর্ণাঙ্গ ভোটার তালিকা প্রকাশ করার পাশাপাশি যাঁদের নাম বাদ পড়েছে, তাঁদের ফের সুযোগ দেওয়ার কথাও কমিশনের কাছে তুলে ধরেছে বামফ্রন্ট।