Header AD

ফাইনালের একদিন আগে দুর্ঘটনায় মৃত্যু! নারীদিবসে বিশ্বকাপ জয়ের ট্রফি প্রয়াত দিদিকে উৎসর্গ ঈশান কিষানের

বিশ্বকাপ ফাইনালের ঠিক একদিন আগে ব্যক্তিগত জীবনে ভয়াবহ দুঃসংবাদ পান ভারতীয় ক্রিকেটার ঈশান কিষান। গাড়ি দুর্ঘটনায় তাঁর তুতো দিদি ও জামাইবাবুর মৃত্যু হয়। বাড়ি থেকে ফোন করে বাবা প্রণব পাণ্ডে সেই খবর দেন। হঠাৎ এই খবর পেয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়লেও দেশের দায়িত্বের কথা ভেবে মাঠে নামার সিদ্ধান্ত নেন ঈশান। আহমেদাবাদে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ফাইনাল ম্যাচে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করেন তিনি। মাত্র ২৫ বলে ৫৪ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেন এবং ফিল্ডিংয়েও দু’টি অসাধারণ ক্যাচ ধরেন। তাঁর খেলায় বোঝার উপায় ছিল না যে, মনের মধ্যে এত বড় শোক লুকিয়ে রয়েছে।

খবর পাওয়ার পর তিনি অনুশীলনেও ঠিকভাবে মন দিতে পারেননি। সেই সময় সতীর্থরা পাশে দাঁড়িয়ে তাঁকে সাহস দেন। তখনই তিনি মনে মনে ঠিক করে নেন, বিশ্বকাপ জিততে পারলে ট্রফি দিদিকেই উৎসর্গ করবেন। অর্ধশতরান করার পর আকাশের দিকে ব্যাট তুলে দিদিকে স্মরণ করেন তিনি।

ম্যাচ শেষে ঈশান বলেন, “ফাইনালের আগে জানতে পারি, গাড়ি দুর্ঘটনায় আমার দিদি মারা গিয়েছে। ওর কথাই ভেবে আমি ভালো খেলার চেষ্টা করেছি। হার্দিক ভাই আমাকে বলেছিল দলের জন্য খেলতে। আজ নারী দিবস। তাই বিশ্বকাপ জয়ের ট্রফি দিদিকেই উৎসর্গ করলাম।”

বিশ্বকাপের এই যাত্রা ঈশানের জন্য ছিল প্রত্যাবর্তনের গল্পও। ডবল সেঞ্চুরি করার পরও একসময় দল থেকে বাদ পড়তে হয়েছিল তাঁকে, এমনকি ‘অবাধ্য’ তকমাও জুটেছিল। পরে ঘরোয়া ক্রিকেটে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স করে আবার জাতীয় দলে জায়গা করে নেন। বিশ্বকাপ দলে সুযোগ পাওয়ার পর সূর্যকুমার যাদব তাঁকে ফোন করে মজার ছলে জিজ্ঞেস করেছিলেন, “বিশ্বকাপ জেতাবি?” উত্তরে ঈশান বলেন, “আমার উপর ভরসা আছে?” তখন সূর্য বলেন, “অবশ্যই আছে, চলে আয়।” সেই বিশ্বাসই যেন মাঠে প্রমাণ করে দিলেন ঈশান কিষান।