Header AD
Trending

‘একজন মহিলাকে বলছেন ডোন্ট শাউট’,মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ চন্দ্রিমার

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) ও তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক (Abhishek Banerjee)–র পর এবার মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার (Gyanesh Kumar)–এর বিরুদ্ধে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ তুললেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য্য (Chandrima Bhattacharya)। সোমবার নিউটাউনে নির্বাচন কমিশনের ফুলবেঞ্চের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি এই অভিযোগ করেন। চন্দ্রিমার অভিযোগ “আমি একজন মহিলা। আমাকে বলছে ডোন্ট শাউট। আমি বললাম, কীভাবে বলছেন আপনি? তার মানেই বোঝা যাচ্ছে মহিলাদের প্রতি শ্রদ্ধা নেই।” এর পালটা সাফাই দিয়ে বিবৃতি জারি করে কমিশন দাবি করেছে, ‘চিৎকার নয় অনুরোধ করা হয়েছে আস্তে কথা বলার জন্য।’

সোমবার দুপুর প্রায় ১২টা ১০ মিনিট নাগাদ তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিনিধি দল কমিশনের ফুলবেঞ্চের সঙ্গে বৈঠকে বসে। ওই প্রতিনিধিদলে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য্যের সঙ্গে ছিলেন ফিরহাদ হাকিম (Firhad Hakim) এবং রাজীব কুমার (Rajeev Kumar)। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয় তৃণমূলের প্রতিনিধি দল। তিনি জানান, শুরুতেই তাঁরা জানিয়েছেন, যাতে কোনও বৈধ ভোটারের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ না পড়ে সেদিকে কমিশন যেন বিশেষ নজর দেয়।

তবে তাঁর অভিযোগ, এই বিষয়ে কথা বলতেই মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার তাঁদের বক্তব্য শুনতে আগ্রহ দেখাননি। বরং তিনি একতরফাভাবে কথা বলতে থাকেন এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই উত্তেজিত হয়ে পড়েন। চন্দ্রিমার দাবি, কমিশনার বারবার তাঁদের উদ্দেশে বলেন যে তাঁরা সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছেন, তাই আর আলোচনার কিছু নেই।

এরপরই চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য্য বলেন, “আমাদের বারবার বলেছি, যে গরমিল গুলো রয়েছে তার উত্তর পাচ্ছে না সাধারণ মানুষ। মহিলাদের টার্গেট করা হচ্ছে। উনি একাই কথা বলছিলেন, আমাদের কথা শুনতেই চাইছিলেন না। ক্ষিপ্ত হয়ে গেলেন। চেঁচিয়ে বললেন, আপনারা তো সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছেন। আর তো কিছু বলার নেই। সুপ্রিম কোর্টে যাওয়া কোনও অপরাধ নয়। সংবিধান অনুযায়ী আদালতে যাওয়ার অধিকার সবারই রয়েছে।” তাঁর অভিযোগ, বৈঠকের সময় তাঁকে ‘ডোন্ট শাউট’ বলে ধমকও দেওয়া হয়। তিনি পাল্টা প্রশ্ন তোলেন, একজন মহিলা প্রতিনিধির সঙ্গে এভাবে কথা বলা কতটা শোভনীয়। তাঁর কথায়, “আমি একজন মহিলা। আমাকে বলছে ডোন্ট শাউট। আমি বললাম, কীভাবে বলছেন আপনি? তার মানেই বোঝা যাচ্ছে মহিলাদের প্রতি শ্রদ্ধা নেই। তার জন্য মহিলাদের নাম বাদ দিচ্ছেন।”

এছাড়াও তিনি ফর্ম–৭ সংক্রান্ত তথ্যের অসঙ্গতির অভিযোগও তোলেন। তাঁর দাবি, কমিশন তাঁদের বক্তব্য শুনতে রাজি নয় এবং বারবার শুধুমাত্র সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার প্রসঙ্গই তুলছে। চন্দ্রিমা জানান, বাংলার মানুষের অধিকার রক্ষার স্বার্থেই তাঁরা আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন।

বৈঠক শেষে এদিন কমিশনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন ফিরহাদ হাকিমও। তাঁর অভিযোগ, বিজেপি এ রাজ্যে অনুপ্রবেশকারী ও রোহিঙ্গা থাকার প্রসঙ্গ তুলে এক ধরনের ভীতি তৈরি করেছে। কিন্তু বাস্তবে কতজনকে চিহ্নিত করা গেছে, সেই প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর কথায় “বিজেপি ধারণা তৈরি করেছে এখানে অনুপ্রবেশকারী, রোহিঙ্গা রয়েছে। কতজনকে খুঁজে বের করতে পারলেন? শুধু সাধারণ মানুষের ভোগান্তি হল। হাজার হাজার মানুষকে অযথা লাইনে দাঁড় করালেন। আপনার বিজেপির কথা শুনে ভুল হয়ে গিয়েছে। আপনি বলতে পারবেন আই অ্যাম রং? তবে দেখবেন একজন ভারতীয় নাগরিকেরও যেন ভোটদানের অধিকার খর্ব না হয়। বাংলার সর্বনাশ করেছে বিজেপি। নিরীহ মানুষ যাঁদের মৃত্যু হয়েছে তাঁদের মৃত্যুর কারণ ওরা।” ফিরহাদ আরও বলেন, মানুষের অধিকার রক্ষার জন্যই তাঁরা সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছেন। আদালতে যাওয়ার আগে বারবার কমিশনের কাছে প্রতিনিধি পাঠানো হলেও তাঁদের বক্তব্য গুরুত্ব দিয়ে শোনা হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

উল্লেখ্য, এদিন নির্বাচন কমিশনের ফুলবেঞ্চের সঙ্গে পৃথকভাবে বৈঠক করেন বামফ্রন্ট, বিজেপি ও কংগ্রেসের প্রতিনিধিরাও।