Header AD

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের জেরে তেলের দামে আগুন, মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা

মধ্যপ্রাচ্যে চলতে থাকা সংঘাতের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে আন্তর্জাতিক তেলবাজারে। যুদ্ধের জেরে হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল পরিবহণে বাধা তৈরি হওয়ায় হু হু করে বাড়ছে অপরিশোধিত তেলের দাম। বর্তমানে ব্যারেল প্রতি তেলের দাম ১১০ ডলার ছাড়িয়েছে, যা ২০২০ সালের পর দ্বিতীয়বার এত বেশি হয়েছে।

সোমবার সকালে এশিয়ার বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ২৪ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় ১১৪.৭৪ ডলার। একই সময়ে নাইমেক্স লাইট সুইটের দামও ২৬ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়ে ১১৪.৭৮ ডলারে পৌঁছায়। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, পরিস্থিতি যদি দীর্ঘস্থায়ী হয় তবে খুব শীঘ্রই তেলের দাম ব্যারেল পিছু ১৫০ ডলার ছুঁতে পারে।

ভারত সরকার অবশ্য পরিস্থিতি সামাল দিতে বিকল্প উৎস থেকে তেল আমদানি বাড়ানোর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে। আগে যেখানে ভারত ২৭টি দেশ থেকে তেল আমদানি করত, বর্তমানে সেই সংখ্যা বেড়ে ৪০-এ পৌঁছেছে। ফলে দেশের মোট আমদানির প্রায় ৬৫ থেকে ৭০ শতাংশ এখন হরমুজ প্রণালীর বাইরে থেকে আসছে বলে দাবি সরকারের। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীও আশ্বাস দিয়েছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লেও দেশে পেট্রোল-ডিজেলের দামে তার সরাসরি প্রভাব পড়বে না।

তবে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক মহলের একাংশের মতে, যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠতে পারে। ভারত তার মোট তেলের চাহিদার প্রায় ৮৫ শতাংশই আমদানির মাধ্যমে পূরণ করে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লে তেল বিপণন সংস্থাগুলির উপর চাপ তৈরি হবে, যা শেষ পর্যন্ত পেট্রোল ও ডিজেলের দামে প্রতিফলিত হতে পারে। এর সরাসরি প্রভাব পড়বে পরিবহণ খাতে। বিমান ভাড়া ও পণ্য পরিবহণের খরচ বাড়তে পারে। পাশাপাশি রং, টায়ার, রাসায়নিক শিল্পসহ বিভিন্ন উৎপাদন ক্ষেত্রেও খরচ বেড়ে যাবে। উৎপাদন ব্যয় বাড়লে তার চাপ সাধারণ মানুষের উপরই পড়বে, যার ফলে মুদ্রাস্ফীতি আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে রাশিয়া থেকে তেল আমদানি বাড়ানোর পথে হাঁটছে ভারত। রিপোর্ট অনুযায়ী, আগামী ৩০ দিনের মধ্যে রাশিয়া থেকে তেল আমদানি প্রায় ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হতে পারে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়াই এখনও ভারতের সবচেয়ে বড় অপরিশোধিত তেলের সরবরাহকারী। প্রতিদিন প্রায় ১০ লক্ষ ব্যারেল তেল রাশিয়া থেকে আমদানি করে ভারত, যা দেশের মোট আমদানির প্রায় ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ।

তবে সরবরাহ বজায় থাকলেও আন্তর্জাতিক বাজারে দামের অস্বাভাবিক ঊর্ধ্বগতি ভারতের অর্থনীতির উপর চাপ তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।