ইরান –আমেরিকা যুদ্ধের প্রভাব এবার সরাসরি পড়তে শুরু করেছে ভারতের উপর। জ্বালানি তেলের সংকট ও দামের ঊর্ধ্বগতির জেরে বিমান ভাড়াও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিল এয়ার ইন্ডিয়া। ১০ মার্চ সংস্থার তরফে জারি করা এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, জ্বালানির বাড়তি খরচ সামলাতেই টিকিটের উপর অতিরিক্ত সারচার্জ হিসাবে ভাড়া বাড়ানো হবে। পর্যায়ক্রমে আন্তর্জাতিক ও আভ্যন্তরীণ টিকিটের দাম বাড়ানো হবে।
এয়ার ইন্ডিয়ার তরফে জানানো হয়েছে, আগামী বৃহস্পতিবার থেকে দেশীয় উড়ানের টিকিটের ক্ষেত্রে যাত্রীদের অতিরিক্ত ৩৯৯ টাকা করে সারচার্জ ধার্য করা হবে। আন্তর্জাতিক উড়ানের ক্ষেত্রে সার্ক গোষ্ঠীভুক্ত দেশগুলিতে যাওয়ার জন্যও ওই একই খরচ পড়বে। তবে পশ্চিম এশিয়ার গন্তব্যে যাতায়াতের ক্ষেত্রে এই সারচার্জ আরও বাড়িয়ে ১০ ডলার করা হয়েছে, যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৯০০ টাকার কিছু বেশি। দক্ষিণ–পূর্ব এশিয়ার দেশগুলিতে উড়ানের ক্ষেত্রে সারচার্জ ৪০ ডলার থেকে বাড়িয়ে ৬০ ডলার করা হয়েছে। আর আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে সফরের জন্য সারচার্জ নির্ধারণ করা হয়েছে ৯০ ডলার, অর্থাৎ ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৮ হাজার টাকার কিছু বেশি।
জানা গিয়েছে, মোট তিনটি ধাপে এই ভাড়া বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হবে। প্রথম ধাপের পর ১৮ মার্চ থেকে ইউরোপগামী উড়ানের ক্ষেত্রে জ্বালানি সারচার্জ ১০০ ডলার থেকে বাড়িয়ে ১২৫ ডলার করা হচ্ছে। উত্তর আমেরিকা এবং অস্ট্রেলিয়ার রুটে এই সারচার্জ বাড়িয়ে করা হচ্ছে ২০০ ডলার। এরপর হংকং, জাপান-সহ পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন গন্তব্যের উড়ানেও ভাড়া বাড়ানো হবে বলে জানা গিয়েছে, যদিও সেই সিদ্ধান্ত কবে থেকে কার্যকর হবে তা এখনও স্পষ্ট করা হয়নি। এয়ার ইন্ডিয়ার পাশাপাশি এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসেও ভাড়া বাড়ানো হবে। তবে ১২ তারিখের আগে যেসব টিকিট ইস্যু করা হয়েছে সেখানে এই অতিরিক্ত ভাড়া দিতে হবে না বলে জানানো হয়েছে।





