Header AD

কয়লা মাফিয়াকে বিজেপির পদ! অমিত শাহের ‘গোপন বৈঠক’ ঘিরে তোপ তৃণমূলের

কয়লা মাফিয়া হিসেবে পরিচিত জয়দেব খানকে আসানসোল সাংগঠনিক জেলায় বিজেপির স্থায়ী আমন্ত্রিত সদস্য পদ দেওয়াকে কেন্দ্র করে সরব হল তৃণমূল কংগ্রেস। বুধবার তৃণমূল ভবনে সাংবাদিক বৈঠক করে বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন মন্ত্রী শশী পাঁজা (Shashi Panja) ও সাংসদ পার্থ ভৌমিক (Partha Bhowmick)। জয়দেব খানের সঙ্গে গোপন বৈঠক করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও তৎকালীন কয়লামন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশী। সেই ছবি দেখিয়ে গেরুয়া শিবিরকে তুলোধনা করেন তৃণমূল নেতৃত্ব। তাদের অভিযোগ, অপরাধী ও দুর্নীতিগ্রস্তদের আশ্রয়স্থল বিজেপি, এর ফলে তা আরও একবার প্রমাণিত হল।

শশী পাঁজা দাবি করেন, দুর্নীতিতে অভিযুক্ত জয়দেব খানকে দলে নেওয়ার মাধ্যমে বিজেপির প্রকৃত চরিত্র আবারও সামনে এসেছে। তিনি সাংবাদিকদের সামনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং তৎকালীন কয়লামন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশীর সঙ্গে জয়দেবের একটি বৈঠকের ছবি দেখান। সেই প্রসঙ্গ তুলে তিনি প্রশ্ন তোলেন, “ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কেন একজন কয়লা মাফিয়ার সঙ্গে গোপনে বৈঠক করবেন? কয়লামন্ত্রীর সঙ্গে কী এমন আলোচনা হয়েছিল, তা দেশের মানুষ জানতে চায়।” বিজেপিকে কটাক্ষ করে শশী পাঁজা আরও বলেন, “বিজেপিকে অনেকেই ‘ওয়াশিং মেশিন’ বলে। কারণ, যাঁরা এতদিন তাদের চোখে দুর্নীতিগ্রস্ত ছিলেন, বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পরই তাঁরা হঠাৎ সম্মানীয় হয়ে যান।”

এদিন সাংবাদিক বৈঠকে সাংসদ পার্থ ভৌমিকও একই সুরে বিজেপিকে আক্রমণ করেন। তাঁর বক্তব্য, অপরাধীদের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয়স্থল হয়ে উঠেছে বিজেপি। কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “বন্যেরা বনে সুন্দর, আর অপরাধীরা সবচেয়ে সুরক্ষিত বিজেপিতে।” পার্থ ভৌমিক অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক স্বার্থে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই ও ইডিকে ব্যবহার করছে বিজেপি। তাঁর দাবি, যাদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়, তাদের ভয় দেখিয়ে বিজেপিতে যোগ দিতে বাধ্য করা হয়। আর একবার বিজেপিতে যোগ দিলেই সেই সব অভিযোগ কার্যত অদৃশ্য হয়ে যায়। উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, “মহারাষ্ট্রে প্রফুল্ল প্যাটেলের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছিল। পরে তিনি বিজেপির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হতেই সেই অভিযোগ আর তেমন গুরুত্ব পেল না। একইভাবে হেমন্ত বিশ্বশর্মার বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ ছিল, অথচ তিনি এখন মুখ্যমন্ত্রী। বাংলায় শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধেও নানা অভিযোগ ওঠার পর তিনি বিজেপিতে যোগ দিয়ে এখন বিরোধী দলের নেতা।” পাশাপাশি পার্থর প্রশ্ন, “যাকে এতদিন কয়লাচোর বলা হচ্ছিল, তাকে বিজেপিতে স্থায়ী সদস্যপদ দেওয়া হল কেন? কয়লাখনি কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনে। কেন্দ্রের সাহায্য ছাড়া কেউ কয়লা মাফিয়া হতে পারে না। তাহলে কয়লামন্ত্রীর সঙ্গে কয়লামাফিয়ার কী গোপন আলোচনা হয়েছে, তা বাংলার মানুষ জানতে চায়।” তাঁর মতে, এখন দুর্নীতির অভিযোগ থেকে মুক্তি পেতে আর আইনজীবীর প্রয়োজন হয় না—বিজেপিতে যোগ দিলেই সব পরিষ্কার হয়ে যায়।