Header AD

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাব বাংলার হেঁশেলে, এলপিজি সংকট নিয়ে  বৃহস্পতিবার জরুরি বৈঠক ডাকলেন মুখ্যমন্ত্রী

মধ্যপ্রাচ্যে (gulfwar) চলা যুদ্ধের প্রভাব এবার ভারতের বাজারেও পড়তে শুরু করেছে। তারই জেরে এলপিজি (LPG) গ্যাসের জোগানে ঘাটতি ও দাম বৃদ্ধির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতির জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের সিদ্ধান্তকেই দায়ী করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। গ্যাস সংকটের সম্ভাবনা নিয়ে আগামী বৃহস্পতিবার জরুরি বৈঠক ডেকেছেন তিনি।

বুধবার একটি টেলিভিশন চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মুখ্যমন্ত্রী জানান, কেন্দ্র ২৫ দিনের ব্যবধানে গ্যাস বুকিংয়ের যে নিয়ম চালু করেছে, তা আগে থেকে সব দিক ভেবে নেওয়া হয়নি। তাঁর প্রশ্ন, দেশে বর্তমানে কত এলপিজি মজুত রয়েছে, সেই তথ্য কেন্দ্রীয় সরকার তা স্পষ্টভাবে জানাচ্ছে না কেন?  মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, দেশের বিভিন্ন রাজ্যে যাতে সমানভাবে গ্যাস সরবরাহ করা হয়, তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। প্রয়োজনে রাজ্যবাসীর স্বার্থে রাজ্য সরকার অতিরিক্ত অর্থের ব্যবস্থাও করতে পারে বলেও তিনি জানিয়েছেন। এখানে এলপিজি-র সঞ্চয় কেমন, তা বুঝে দেখতে বুধবারই গ্যাস ডিলারদের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন মুখ্যমন্ত্রী নিজে।

গ্যাসের জোগান কমে গেলে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়বেন সাধারণ মানুষ। প্রতিটি পরিবারের রান্নাঘরে তার প্রভাব পড়বে। পাশাপাশি স্কুলের মিড-ডে মিলের রান্না এবং হাসপাতালগুলিতে রোগীদের জন্য প্রতিদিন যে খাবার প্রস্তুত করা হয়, তাতেও সমস্যা দেখা দিতে পারে। এছাড়া পরিবহণ ব্যবস্থাতেও এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন অটো রুটে ভাড়া বেড়েছে। সংকটের সুযোগে যাতে কেউ কালোবাজারি না করতে পারে, সেই বিষয়েও প্রশাসনের আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকে আলোচনা করবেন মুখ্যমন্ত্রী। এছাড়া নিজেদের ক্ষমতার মধ্যে থেকে এই পরিষেবা কীভাবে সচল রাখা যায়, সে বিষয়েও পর্যালোচনা করছে রাজ্য।

এদিকে, সংসদে দেশের গ্যাস ভাণ্ডারে ঠিক কত মজুত রয়েছে, সেই তথ্য প্রকাশ করার দাবি তুলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর মতে, দেশে যত গ্যাস রয়েছে, তা সব রাজ্যের মধ্যে সমানভাবে বণ্টন করা উচিত এবং সরবরাহ যেন নিরবচ্ছিন্ন থাকে, তা নিশ্চিত করতে হবে।