Header AD

গ্যাস সঙ্কটের প্রভাব মন্দিরেও! বাগবাজারে মায়ের বাড়ি, দিঘার জগন্নাথ ধাম, বর্গভীমায় ভোগ বিতরণে রাশ

জ্বালানি সঙ্কটের প্রভাব রাজ্যের একাধিক মন্দিরে! বাগবাজারে মায়ের বাড়ি থেকে শুরু করে দিঘার জগন্নাথ ধাম, তমলুকের বর্গভীমা মন্দিরসহ একাধিক দেবভূমিতে গ্যাসের আকালে ছাপ পড়ল। কোথাও ভোগ বিতরণে রাশ টানা হল, কোথাও মেনুতে কাটছাট করা হয়েছে, কোথাও আবার প্রসাদ বিতরণ বন্ধ রাখা হয়েছে। দূর দুরান্ত থেকে আগত ভক্তরা প্রসাদ না পেয়ে হতাশ।

গ্যাস সঙ্কটের কারণে দিঘার জগন্নাথ ধামে প্রসাদের পরিমাণ কমানো হল। দিঘা জগন্নাথ ধাম ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য রাধারামন দাস জানিয়েছেন, ‘আমাদের কিছু গ্যাস মজুত ছিল। সেই গ্যাস ও কাঠ দিয়ে অল্প প্রসাদ তৈরি করছি। আগে যেখানে ১০০০-১২০০ জনের প্রসাদ তৈরি হতো। এখন ২০০-২৫০ জনের প্রসাদ তৈরি করা হচ্ছে।’

সতীর ৫১ পীঠের এক পীঠ তমলুকের বর্গভীমা মন্দির। গ্যাস সঙ্কটে এই মন্দিরের ভোগ বিতরণেও প্রভাব পড়েছে। প্রত্যেকদিন ৫০০ থেকে ৮০০ মানুষ মন্দিরে বসে ভোগ গ্রহণ করেন। কিন্তু সেখানেও গ্যাসের ভাণ্ডারে টান! মন্দির কতৃপক্ষের দাবি, পরিস্থিতি ঠিক না হলে আগামী ২১ মার্চের পর থেকে সাধারণ ভক্তদের জন্য আর মিলবে না মায়ের ভোগ। মন্দির কর্তৃপক্ষের কথায়, আগে ভক্তরা কাঠ নিয়ে আসতেন। সেই কাঠের জালে মায়ের ভোগ প্রস্তুত হতো। কিন্তু বর্তমানে নতুন ভোগ ঘরে গ্যাসেই রান্না হয়। ফলে আগামী দিনে ভোগ বিতরণে সমস্যা হতে পারে। ভোগের জন্য যারা আগাম বুকিং করেছিলেন তাঁদেরকেও এই বিষয়ে জানানো হয়েছে। যদি গ্যাস পাওয়া যায় তারপর পুনরায় আবার ভক্তদের জন্য মন্দির কর্তৃপক্ষ প্রসাদের ব্যবস্থা করবে বলে জানানো হয়েছে।

অন্যদিকে গ্যাসের অভাবে ভক্তদের জন্যে বাগবাজার মায়ের বাড়িতেও ভোগ দেওয়া আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। ইতিমধ্যে এই বিষয়েও বিজ্ঞপ্তিও দেওয়া হয়েছে বলে খবর।

প্রসঙ্গত, গ্যাসের অভাবে একাধিক হোটেল, রেস্তরাঁ ইতিমধ্যেই বন্ধের উপক্রম হয়েছে। শুধু শহরে নয়, জেলাতেও এর আঁচ পৌঁছেছে। বুধবার সকাল থেকে প্রত্যেক জায়গাতেই গ্যাসের জন্য হাহাকার। অনলাইন বুকিং সিস্টেম কাজ না করায় লম্বা লাইন চোখে পড়েছে গ্যাস বুকিংয়ের জন্য। পাশাপাশি এর প্রভাব পড়েছে গ্যাস চালিত পরিবহনেও।