Header AD

আমাকে জেলে ঢুকিয়ে দিন, নয়তো গুলি করে মেরে দিন !’দুর্গাপুরে কমিশন-বিজেপিকে তোপ মমতার

cm durgapur

‘আমাকে জেলে ঢুকিয়ে দিন, আরও বেশি ভোট পাব, না হলে গুলি করে মেরে দিন’ সোমবার দুর্গাপু্রের নির্বাচনী জনসভা (West Bengal Assembly Election) থেকে ঠিক এই ভাষায় কেন্দ্র ও কমিশনকে আক্রমণ করেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। সেই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, এসআইআর-এ (SIR) বিজেপিকে মদত করেছে সিপিএম-কংগ্রেস।

ছাব্বিশে বিধানসভা নির্বাচনের আর মাত্র দিন দশেক বাকি। তার মধ্যেই সারা রাজ্য জুড়ে নির্বাচনী প্রচার করে বেড়াচ্ছেন তৃণমূল সুপ্রিমো। এদিন তিনি দুর্গাপুর পশ্চিমের চতুরঙ্গ ময়দানে তৃতীয় জনসভা করেন। এই জনসভা থেকে বিজেপি ও কমিশনকে একযোগে তীব্র আক্রমণ করে বলেন, ‘‘ আমি তো অ্যাক্টিং চিফ মিনিস্টার। আজ আমার কাছে খবর এল, সিএস ডিজিরা যাচ্ছে জেলায় জেলায়। তারা গিয়ে জেলা প্রশাসনের অন্যদের বলছে, তৃণমূলের যারা বুথ এজেন্ট হবে, তাদের গাঁজা কেসে গ্রেপ্তার করতে হবে। আমি বলি, নিজেরা গাঁজা খাও তো! লজ্জাও করে না? বলছে ভোটের দিন বিজেপির লোকেরা ইলেকশন কমিশনের লোক সেজে মনিটরিং সেলে বসে থাকবে। দালালগুলো! অত্যাচারীগুলো! যাদের নিজের চরিত্রের ঠিক নেই, তারা অন্যের চরিত্রের কথা বলে। এই করে ভোটে জিতবেন? তা হলে আমাকে জেলে পাঠিয়ে দিন না। জেলে বসে আমি আরও বেশি ভোটে জিতব। আর না হলে আমাকে গুলি করে মেরে দিন। আমার উপর এত রাগ কেন?’’

এসআইআর ইস্যুতে বিভিন্ন জনসভা থেকে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপিকে নানা ভাষায় আক্রমণ করেন। এই জনসভা থেকে তিনি বলেন, ‘‘একটা একটা কেন্দ্রে এরা ২৪-২৫ হাজার করে নাম কেটেছে। বিজেপিকে মদত দিয়েছে সিপিএম এবং কংগ্রেস। এরা এসআইআরের সময় একটা কথা বলেনি।’’ তার সঙ্গে কমিশন এবং বিজেপিকে এক পঙ্‌ক্তিতে ফেলে আক্রমণ করে বলেন, ‘‘এটা নির্বাচন হচ্ছে না নির্বাচনের নামে প্রহসন? তার পরেও আমাকে দৌড়তে হচ্ছে ‘ভোট দাও-ভোট দাও’ বলে।’’

এদিনের সভা থেকে এ রাজ্যের প্রাক্তন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড় – এর প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ‘‘যাকে নির্বল করে একপক্ষ করছো, তারা ধনখড়ের কথা মনে রেখো। উপমুখ্যমন্ত্রী পওয়ারকে খুন করে দিল। ধর্মের কল বাতাসে নড়ে। মানুষ ভাবে এক, হয় আর এক। এত পাপ তোমরা করেছো, রেহাই পাবে না।’’ এর সঙ্গে মোদী-যোগীকে নিশানা করে তৃণমূল নেত্রী বলেন, ‘‘মহাশয়ের রাজ্যে উন্নাওয়ের বিচার হয়েছে? বিলকিস বিচার পেয়েছেন? বলছেন, সোনার বাংলা গড়বেন। বলছেন, সব শূন্যপদ পূরণ করবেন। আগে নিজেদের রাজ্যে চাকরি দিন। বছরে ২ কোটি চাকরি কোথায়?’’

বিরোধীদের কটাক্ষ চাকরি চুরির বিষয়টি নিয়েও সরব হন। এমনকি এতে নিজের কর্মীরা যুক্ত থাকলে তাদেরও রেহাই দেবেন না বলে আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, ‘‘এখানে ইন্ডাস্ট্রিতে চাকরি হলে বাইরের লোকেরা টাকা দিয়ে নিয়ে নেয়। লোকালরা পায় না। আমি কথা দিচ্ছি, আপনারা যদি বাপ্পা, প্রদীপদাকে জেতান, এই সিস্টেম আমি বন্ধ করে দেব। তার পর যদি কেউ করে, দেখে নেব তার কত বড় সাহস! তৃণমূল কংগ্রেসের তার ঠাঁই হবে না। সে যে-ই হোক, যত বড় কেউকেটা হোক। অনেককে বাদ দিয়েছি। পরেও করব। আমার কর্মীরা অন্যায় করলে তাদের গালে থাপ্পড় দিতে পারি। এই ভালবাসা, অধিকার আমার আছে।’’