নির্বাচনের মাত্র দশ দিন আগে আই-প্যাকের কো-ফাউন্ডার ভীনেশ চান্ডেলের গ্রেপ্তারিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়ল। এই ঘটনায় সরব হয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) একে “অত্যন্ত নক্কারজনক ও ভয়াবহ” বলে আখ্যা দিয়েছেন।
সোমবার গভীর রাতে নিজের এক্স (টুইটার) হ্যান্ডেলে তিনি লেখেন, যখন গোটা পশ্চিমবঙ্গ অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত, ঠিক সেই সময়ে এ ধরনের পদক্ষেপ স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়—বিরোধী মত পোষণ করলে যে কেউ পরবর্তী টার্গেট হতে পারেন। তাঁর কথায়, এর থেকে লজ্জাজনক আর কিছু হতে পারে না।অভিষেক আরও অভিযোগ করেন, যারা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ছিল, তারা দলবদল করে নিজেদের ভাবমূর্তি পাল্টে ফেলেছে। অথচ যাঁরা বিরোধী অবস্থানে রয়েছেন, তাঁদেরই নিশানা করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিকে তিনি “রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত বিপজ্জনক” বলে উল্লেখ করেন এবং বলেন, বাংলার মানুষ সবই দেখছেন ও বুঝছেন।
তিনি প্রশ্ন তোলেন দেশের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের নিরপেক্ষতা নিয়েও। তাঁর বক্তব্য, নির্বাচন কমিশন এবং কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলি—যেমন এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED), এনআইএ (NIA), সিবিআই (CBI)—এই সংবেদনশীল সময়ে যেভাবে সক্রিয় হয়েছে, তা ভয়ের পরিবেশ তৈরি করছে। এতে সাধারণ মানুষ কি আদৌ ভয়মুক্তভাবে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারবেন, সেই প্রশ্নও উঠে আসে।
অভিষেকের মতে, বিষয়টি শুধু একটি গ্রেপ্তারির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি বৃহত্তরভাবে গণতন্ত্রের ভিত্তিকেই প্রশ্নের মুখে দাঁড় করায়। যখন স্বাধীনতার জায়গায় ভয় স্থান করে নেয়, তখন গণতন্ত্র কেবল একটি শব্দে পরিণত হয়—এমনই মন্তব্য তাঁর।
শেষে তিনি সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah) এবং বিজেপির উদ্দেশে। তাঁর আহ্বান, ৪ ও ৫ মে বাংলায় এসে নির্বাচন কমিশনের প্রতিনিধি জ্ঞানেশ কুমারসহ সব কেন্দ্রীয় সংস্থাকে নিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করুন।
তিনি সতর্ক করে দেন, বাংলা এই অপমান ও অরাজকতা ভুলবে না। এই মাটি প্রতিবাদ ও প্রতিরোধের—এবং সেই বাস্তবতা খুব শিগগিরই স্পষ্ট হয়ে উঠবে।





