Header AD
Trending

‘র‍্যাডিকাল-মৌলবাদীদের উস্কানি থাকতে পারে!’ বারুইপুরে নির্যাতিতা ও ‘নির্দোষ’ ইন্দ্রজিতের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে দাবি মুখ্যমন্ত্রীর

suvendu police 2

গত রবিবার বারুইপুরে নাবালিকাকে ধর্ষণ ও খুনের নৃশংস ঘটনায় উত্তাল হয় গোটা এলাকা। তারপর একসপ্তাহ কেটে গিয়েছে। তবে এখনও কার্যত থমথমে বারুইপুর। এই ঘটনার পর শনিবার দ্বিতীয়বার সেখানে গেলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। শনিবার বেলা সাড়ে ১১টা নাগাদ বারুইপুর পৌঁছন তিনি। প্রথমেই নাবালিকার বাড়িতে পৌঁছন। মিনিট দশেক ভিতরে ছিলেন তিনি। কথা হয় পরিবারের লোকজনের সঙ্গে। সেখান থেকে বেরিয়ে চলে যান গণপিটুনিতে নিহত ‘নির্দোষ’ ইন্দ্রজিতের বাড়িতে। ইন্দ্রজিতের পরিবারকে ২৫ লক্ষ টাকা আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি তার দাদা বাপির হাতে সরকারি চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দেন তিনি। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, সূর্যপুরের পুলিশ ফাঁড়িরও এদিন উদ্বোধন করেন তিনি। এই আউটপোস্টে আপাতত ২ জন এসআই, ৪ জন এএসআই এবং ৪ জন মহিলা পুলিশ-সহ মোট ২০ জন থাকবেন।এরপর এদিনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শুভেন্দু বলেন, “দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির নজির রাখব। সবটা আমার মনিটরিংয়ে থাকবে।”

এদিন বারুইপুরে নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। তাঁদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়ে কৃতজ্ঞতাও জানান শুভেন্দু। এরপর সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “প্রথম দিন থেকে আমাদের কথা শুনেছে। সাহায্য করেছে। পরিবারের কাছে আমি কৃতজ্ঞ। মঙ্গলবার দেখা করেছিলাম, যে ৪ জনের নাম বলেছিল, তাদের পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। পুলিশ ও এসটিএফ, ডিজিপির তত্ত্বাবধানে কাজ করেছে।”

পাশাপাশি দেখা করেন গণপিটুনিতে নিহত ইন্দ্রজিতের পরিবারের সঙ্গেও। তিনি দাবি করেন, বারুইপুরের ইন্দ্রজিৎ মণ্ডলের গণপিটুনিতে মৃত্যু হয়নি। মাত্র ৩৫ বছর বয়সি যুবককে খুন করা হয়েছে। আর তাতে উসকানি দিতে পারে অতিবাম, ব়্যাডিকালরা, এমনকি মৌলবাদী শক্তিরাও। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “নাম, পরিচয় দেখে ইন্দ্রজিৎকে খুন করা হয়েছে। ভোটে যারা হেরেছে তাদের উসকানিতে খুন। ব়্যাডিকাল, মৌলবাদীরাও থাকতে পারে। অতিবামের ষড়যন্ত্রেও খুন হতে পারেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় যাদের ছবি দেখা গিয়েছে সকলকে গ্রেপ্তার করেছে। দিঘা, বকখালি থেকে তুলেছে। একটা ৩৫ বছরের অবিবাহিত যুবককে যেভাবে হাত-পা বেঁধে পিটিয়ে খুন করা হয়েছে, তাতে ইন্দ্রজিতের খুনিদের সঙ্গে পেয়ার, মহব্বত নয়।”তিনি আরও বলেন, “ইন্দ্রজিৎকে ফিরিয়ে দিতে পারব না। তবে খুনিদের চরম শাস্তি হবে।”

বারুইপুরের নাবালিকাকে নির্যাতন ও গণপিটুনি, দু’টি পৃথক মামলায় মুখ্যমন্ত্রীর সাফ কথা, “কাস্টডি ট্রায়াল হবে। দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক নজির রাখব। সবটা আমার মনিটরিংয়ে থাকবে। সরকারের দায়িত্ব ছিল। কীভাবে পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছি, আমি বলব না। পরিবারই সময় মতো সবটা জানাবেন।”

প্রসঙ্গত, বারুইপুরের নাবালিকা গত ৪ জুলাই থেকে নিখোঁজ ছিল। পরদিন ৫ জুলাই, রবিবার সকালে পুকুর থেকে তার দেহ উদ্ধার করা হয়। অভিযোগ, গণধর্ষণের পর তাকে খুন করা হয়েছে। ওই ঘটনায় এ পর্যন্ত চারজন গ্রেপ্তার হয়েছে। পুলিশি এনকাউন্টারে খতম হয়েছে মূল অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডল। এদিকে ওই ঘটনার পর নাবালিকার দেহ নিয়ে সূর্যপুরে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়। এক যুবককে সন্দেহের বশে পিটিয়ে খুন করে উত্তেজিত জনতা।

গত মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বারুইপুরে গিয়ে জানান, গণধর্ষণ ও খুনে অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হবে। তিনি এও জানান, গণপিটুনিতে যাঁর মৃত্যু হয়েছে, তিনি নির্দোষ ছিলেন। দোষীদের কঠোর শাস্তির আশ্বাসও দিয়েছিলেন শুভেন্দু। পুরো গণপিটুনিতে সাম্প্রদায়িক উসকানি থাকতে পারে বলেও ইঙ্গিত মিলেছিল মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কথায়। তারপরই ওই হিংসায় উসকানির ঘটনায় ধরপাকড় শুরু করে পুলিশ। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ৩৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।