পর্ণশ্রী এলাকা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) ঘনিষ্ঠ তৃণমূল নেতা তথা প্রাক্তন কাউন্সিলর অঞ্জন দাসকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার রাতে তাঁকে আটক করা হয়। ২০২০ সালের একটি পুরনো মামলার তদন্তে নতুন তথ্য সামনে আসার পর তাঁর বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টা এবং শ্লীলতাহানির ধারা যুক্ত করা হয়েছে।
অঞ্জন দাসের স্ত্রী সংহিতা দাস কলকাতা পুরসভার ১২৯ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলর। পাশাপাশি তিনি নিজে দীর্ঘদিন ১৪ নম্বর বরোর চেয়ারপার্সনের দায়িত্বও পালন করেছিলেন।
রাজ্যে পুরবোর্ড ভেঙে দেওয়ার পর অঞ্জনের সেই পদ আর বহাল নেই। অঞ্জন নিজেও অতীতে তৃণমূলের কাউন্সিলর ছিলেন এবং দলের মমতা শিবিরের ঘনিষ্ঠ বলেই পরিচিত।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২০ সালে রবীন্দ্রনগরের বাসিন্দা সুশান্ত ঘোষের অভিযোগের ভিত্তিতে অঞ্জন দাস-সহ একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছিল। ওই মামলায় বিপ্লব ঘটক, ভোলা সরকার, সন্তু দাস, উৎপল দে, চিত্তরঞ্জন দাস এবং মৃত্যুঞ্জন দাসের নামও ছিল। প্রথমে তাঁদের বিরুদ্ধে বেআইনিভাবে বাধা সৃষ্টি, বিপজ্জনক অস্ত্র দিয়ে আঘাত, ভয় দেখানো এবং অপরাধে সহায়তার অভিযোগে ভারতীয় দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় মামলা করা হয়েছিল।২০২১ সালে পুলিশ ওই মামলার চূড়ান্ত রিপোর্ট আলিপুর আদালতে জমা দেয়।
তবে চলতি বছরের ৩১ মে অভিযোগকারীর স্ত্রী পর্ণশ্রী থানায় নতুন অভিযোগ দায়ের করলে মামলাটি ফের তদন্তের আওতায় আনা হয়। আদালতের অনুমতি নিয়ে সাব-ইন্সপেক্টর কুণাল বরাইক তদন্তভার গ্রহণ করেন। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৮৩ নম্বর ধারা অনুযায়ী অভিযোগকারী ও তাঁর স্ত্রীর গোপন জবানবন্দি রেকর্ড করা হয় ৮ জুলাই। সেই বয়ানের ভিত্তিতেই মামলায় শ্লীলতাহানি এবং খুনের চেষ্টার মতো গুরুতর অভিযোগ যুক্ত হয়। এরপরই অঞ্জন দাসকে গ্রেপ্তার করে পর্ণশ্রী থানার পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, ২০০০ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত অঞ্জন দাস ১৪ নম্বর বরোর চেয়ারম্যান ছিলেন। একসময় রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবেও পরিচিত ছিলেন তিনি। বেহালা পশ্চিম কেন্দ্র থেকে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের একাধিক নির্বাচনে তিনি মুখ্য নির্বাচনী এজেন্টের দায়িত্ব পালন করেন।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের ভরাডুবির পর দলের একাংশ অন্য শিবিরে গেলেও অঞ্জন দাস মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বের সঙ্গেই থেকেছেন বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে। সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাট থেকে হাজরা পর্যন্ত পদযাত্রাতেও তাঁকে অংশ নিতে দেখা গিয়েছিল।




