বিহারে ভোটের আবহে বিশেষ নিবিড় সমীক্ষা বা এসআইআর করছে নির্বাচন কমিশন। তার জেরে বাদ পড়ছে লক্ষ লক্ষ ভোটারের নাম।এই গোটা প্রক্রিয়া নিয়েই বিতর্ক তৈরি হয়েছে দেশ জুড়ে। এরই মধ্যে গত সপ্তাহে BLO-দের প্রশিক্ষণ দিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকরা। তবে একথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং মুখ্যসচিব মনোজ পন্থের কানেই ওঠেনি। কেন একথা জানানো হল না এই নিয়ে সোমবার বোলপুরের গীতাঞ্জলি স্টেডিয়ামে প্রশাসনিক বৈঠক করে বলেন মুখ্যমন্ত্রী। এই আবহে বীরভূমের প্রশাসনিক বৈঠক থেকে বাংলায় বুথ স্তরের আধিকারিক বা বিএলও-দের কাছে মানুষজনকে অযথা হেনস্থা না-করার নির্দেশ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। স্মরণ করিয়ে দিলেন যে, তাঁরা রাজ্য সরকারেরই কর্মচারী। সোমবার বীরভূমের প্রশাসনিক সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “বিএলও-দের কাছে আমার অনুরোধ থাকবে, ভোটার তালিকা থেকে যাতে কারও নাম বাদ না-যায় সেটা দেখার।” বিএলও-দের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা, “ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণা হওয়ার পর দায়িত্ব নেয় নির্বাচন কমিশন। তার আগে এবং পরে রাজ্য সরকারের হাতেই প্রশাসনিক দায়িত্ব থাকে। আপনারা রাজ্য সরকারের চাকরি করেন। কোনও মানুষকে অযথা হেনস্থা করবেন না।” ভোটার তালিকা থেকে রাজ্যের দীর্ঘ দিনের ভোটারদের নাম যাতে বাদ না-পড়ে, সে দিকেও নজর রাখতে বলেন মুখ্যমন্ত্রী। উদাহরণ দিয়ে বলেন, “ধরুন একটা ছেলে চার দিনের জন্য বেড়াতে গিয়েছে, তার নাম বাদ দিয়ে দেবেন? তা কি হয়?” এই সূত্রেই জেলাশাসকদের ‘চোখ-কান খুলে রাখার’ পরামর্শ দেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁদের কাজে যে তিনি ক্ষুব্ধ, তাও এদিন তিনি বুঝিয়ে দেন। বিহারের পর এই রাজ্যেও ভোটার তালিকায় সমীক্ষার কাজ শুরু করতে পারে কমিশন। কমিশনের তরফে এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কিছু বলা না-হলেও এই কাজের সঙ্গে যাঁরা যুক্ত থাকবেন, সেই বিএলও-দের একাংশকে দফায় দফায় প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। ১৭-১৮ জুলাই প্রশিক্ষণ চলেছে দিল্লিতে। রবিবার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে কলকাতার নজরুল মঞ্চে। রবিবার রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়ালও নজরুল মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন। দিল্লিতে প্রশিক্ষণের বিষয়টি রাজ্য জানতই না বলে এদিন জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই সূত্রেই তিনি বলেন, “জেলাশাসকদের একটু চোখ-কান খোলা রাখতে হবে। অনেক সময় দেখছি জেলাশাসকেরা দায়িত্ব দিচ্ছেন নীচের কাউকে। এই যে ১০০০ লোককে দিল্লি নিয়ে গিয়েছে প্রশিক্ষণ দেওয়াতে। জেলাশাসকদের উচিত ছিল আমাকে বা মুখ্যসচিবকে বলা। কিন্তু তাঁরা সেটা করেননি।”





