ভাষা সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে বাংলা ভাষার অস্তিত্ব রক্ষা জন্য চলছে জোর আন্দোলন। আন্দোলনের পুরোধা হিসাবে পথে নেমেছেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার মাঝে, শুক্রবার ২২ শ্রাবণ, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রয়াণ দিবসে বিশেষ অঙ্গীকার মুখ্যমন্ত্রীর। ‘ভাষা-সন্ত্রাস’হীন দেশ গড়ার ডাক দিয়েছেন তিনি।শুক্রবার নিজের এক্স হ্যান্ডেলে মুখ্যমন্ত্রী কবির প্রয়াণ দিবসে বিশ্বকবিকে শ্রদ্ধা জানান। এই শ্রদ্ধার্ঘ নিবেদন বার্তায় সবশেষে তিনি লিখেছেন, “জাগরিত হোক সেই দেশ, যেখানে রবীন্দ্রনাথের ভাষা, বাংলা ভাষা, সম্মান পায়, মর্যাদা পায় ও সকল দেশবাসীর ভালবাসা পায়। বিকশিত হোক সেই দেশ, যে দেশে ভাষা-সন্ত্রাস থাকবে না।” উল্লেখ্য, সম্প্রতি বিভিন্ন বিজেপি শাসিত রাজ্যে বাংলা ভাষা বাংলায় বাঙালি ‘হেনস্তা’ ও বাংলা ভাষার অপমানের প্রতিবাদে নতুন করে ‘ভাষা আন্দোলন’ শুরু করেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো। ২৭ জুলাই থেকে বাংলার ব্লকে ব্লকে মিছিল, ধরনা কর্মসূচি শুরু হয়েছে। বোলপুর শান্তিনিকেতনে রবীন্দ্রনাথের মাটিতে নিজে হেঁটে সেই আন্দোলনের সূচনা করেছেন তিনি। তারই মাঝে বাংলা ভাষাকে ‘বাংলাদেশি’ ভাষা বলে বিতর্ক আরও উসকে দিয়েছে দিল্লি পুলিশ। যা নিয়ে এত বিতর্ক, এক্স হ্যান্ডেলে দিল্লি পুলিশের সেই বিতর্কিত চিঠিটি পোস্ট করেছে রাজ্যের শাসকদল। তাতে উল্লেখ, বাংলা অনুবাদক দরকার দিল্লি পুলিশের। কারণ, কয়েকদিন আগে দিল্লি পুলিশ বাংলাদেশি সন্দেহে ৮ জনকে আটক করে। তাঁদের কাছ থেকে বেশ কিছু নথি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। আর সেসব নথিগুলি বাংলা ভাষায় লেখা। সেসব নথির তথ্য যাচাইয়ের জন্য একজন অনুবাদক প্রয়োজন।আর সেই চিঠিতেই বাংলা ভাষাকে ‘বাংলাদেশি’ ভাষার তকমা দেওয়া হয়েছে। তার প্রতিবাদে গর্জে উঠেছে বাংলার শাসকদল তৃণমূল। যে ভাষা ধ্রুপদী ভাষার তকমা পেয়েছে, যে ভাষায় বিশ্ববরেণ্য সাহিত্য শিল্প সৃষ্টিকর্ম হয়েছে, যে ভাষা দেশের অন্যতম ‘অফিশিয়াল ল্যাঙ্গুয়েজ’, তাকে ‘বাংলাদেশি’ ভাষা বলে তকমা দেওয়ার অর্থ সংবিধানকে অপমান। নিজের এক্স হ্যান্ডলে এমনই মত প্রকাশ করেছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। এই ঘটনাকে ‘অপমানজনক, সংবিধান-বিরোধী, দেশবিরোধী’ বলে দিল্লি পুলিশকে বিঁধেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।





