অত্যন্ত দারিদ্র পরিবারের মেয়ে মঙ্গলকোটের মিতা মাঝি। তার বাবা গ্রামে গ্রামে মাছ বিক্রি করেন । মা গৃহবধূ। বড়ভাই টুকটাক কাজ করেন আর ছোটভাই স্কুল পড়ুয়া। অভাবের সংসারে খাওয়াদাওয়াটুকু ছাড়া আর কিছুরই সংস্থান নেই। কলেজে ভর্তি হয়েও টাকার অভাবে মিতাকে পড়াশোনা ছাড়তে হয়েছে। সম্প্রতি তার বিয়ের ঠিক হয়। স্থানীয় প্রশাসনের সাহায্যে রূপশ্রী প্রকল্পে আবেদন করেন মিতার বাবা বাপন মাঝি। কারণ আয়োজন অনুষ্ঠান তো দূরের কথা, সামান্য সাজিয়ে গুছিয়ে মেয়েকে শ্বশুরবাড়ি পাঠাবেন সেই উপায়ও যে তাঁদের নেই।
বাপন মাঝির সেই আবেদন মঞ্জুর হয়। মুখ্যমন্ত্রীর হাত থেকে শুধু প্রকল্পের চেক নয়, মেয়ের বেনারসি, জামাইয়ের ধুতি পাঞ্জাবি পেয়ে তাঁরা আপ্লুত। রূপশ্রীর পঁচিশ হাজার টাকাতেই মিতার মা-বাবা বুকে বল পেয়েছেন। সমাজ যতই আধুনিক হোক না কেন, কন্যাদায় যে কোনও বাবার কাছে বড় চিন্তা। কিন্তু আজও মেয়ের যাতে শ্বশুরবাড়িতে অমর্যাদা না হয় তার ব্যবস্থা করে ওঠাটাও অনেকের পক্ষে সম্ভব হয় না। সেই জায়গাতে এই রূপশ্রী প্রকল্প মিতার বাবা মায়ের মতো লক্ষাধিক পরিবারকে ভরসা জুগিয়েছে। এভাবেই মঙ্গলকোটের মিতার মতো লাখ মেয়েদের জীবনের এই দিনটি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আলোয় রাঙিয়ে দিয়েছেন রূপশ্রী প্রকল্পের মাধ্যমে। বিরোধীরা যতই একে ভিক্ষা ভাতা বলে কটাক্ষ করুক, রূপশ্রী যে আদতে অসহায় মা-বাবার কাছে একটি নিশ্চিন্ত আশ্রয় তা বলাই বাহুল্য।





