Header AD

“বিজেপি হঠাও বাংলা বাঁচাও”,বিধানসভায় গেরুয়া বিধায়কদের বিশৃঙ্খলায় অগ্নিশর্মা মুখ্যমন্ত্রী  

বৃহস্পতিবার অধিবেশন চলাকালীন দফায় দফায় উত্তাল হল বিধানসভা। বাংলা ভাষা এবং বাংলাভাষীদের উপর আক্রমণ নিয়ে এদিন বক্তব্য রাখছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সময় চূড়ান্ত বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি করেন বিরোধী বিধায়করা। চূড়ান্ত অভব্যতার জন্য সাসপেন্ড করা হয় পাঁচ বিজেপি বিধায়ককে। ধুন্ধুমার পরিস্থিতি বেঁধে যায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে খোদ মুখ্যমন্ত্রী ওয়েলে নেমে পড়েন। শৃঙ্খলা বজায় রাখার বার্তা দেন অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু পরিস্থিতি কার্যত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। মুখ্যমন্ত্রী নিজেই তখন হাল ধরেন। বিরোধী বিধায়কদের দিলেন নৈতিকতার পাঠ। তীব্র কটাক্ষ করলেন রাজ্যের বিরোধী রাজনৈতিক দল, বিজেপিকে। বিজেপিকে ‘চোর’ কটাক্ষ করে, বাংলা বিরোধী বিজেপি হঠানোর ডাকও দিলেন তিনি।  

কেন্দ্রকে তোপ দেগে এদিন তিনি বলেন, “বিজেপি দেশের লজ্জা। ওঁরা আলোচনা চায় না। এরা বাংলা ভাষার উপর অত্যাচার করে, অ্যান্টি বেঙ্গলি। যাতে মানুষ আমাদের কথা শুনতে না পায় সেজন্য। আমি অনেকক্ষণ ধরে শাসক দলের সদস্যদের শান্ত থাকতে বলেছি, কিন্তু মনে রাখবেন শান্তি রক্ষা দু’ পক্ষের কাজ। আপনারা মাননীয় অধ্যক্ষ্যের কথা শুনুন। আমি আমাদের বিধায়কদের শান্ত থাকতে বলেছি। শান্তি রাখা দু’পক্ষের দায়িত্ব। এরা গদি চোর। ভোট চোর। বাংলা বিরোধী দল। অত্যাচারী দল। বিজেপি দেশের লজ্জা। বাংলার মানুষ এঁদের কাউকে বিধানসভায় দেখতে চাইবে না। ভারতের সবচেয়ে বড় বাংলা, হিন্দু, এসসি, এসটি ওবিসি বিরোধী  (বিজেপি)। যিনি বড় বড় কথা বলছেন তিনি চারবার দল বদল করেছেন। আমার গলা টিপে দিলেও বাংলায় বলব। বাংলাকে অসম্মান করছেন কেন? চোরদের সম্রাট, লুটেরাদের দল। বাংলা ভাষাকে অপমান করার দল। মানুষ ক্ষমা করবে না। এরা বাংলা জানে না। বাংলার আন্দোলন জানে না। বাংলা জাতীয় সঙ্গীত তৈরি করেছে। স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় এদের জন্ম হয়নি। এরা ইংরেজদের দালালি করেছিল। এরা বাংলার কিছু জানে না। আমাকে চুপ করিয়ে রাখা যাবে না। আমি বলবই। এরা হচ্ছে এমন একটা পার্টি দেশের সবচেয়ে বড় ব্রোকার। দেশ বিক্রি করে দিচ্ছে। সাম্প্রদায়িকতা ছড়ানো হচ্ছে। মানুষে মানুষে ভেদাভেদ হচ্ছে। ইংরেজদের কাছে মুচলেকা দিয়ে ছিল। এরা স্বাধীনতা আন্দোলনের সঙ্গেও বিশ্বাসঘাতকতা করছেন।”

ক্ষুব্ধ হয়ে মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ”এই যে কাগজ ছুড়ছেন বিধানসভায়, এটা অনৈতিক, আনপার্লামেন্টারি, আনডেমোক্র্যাটিক এবং অবৈধ। এরা দুর্নীতিবাজ, এরা গোদি চোর, ভোট চোর এবং সবচেয়ে বড় ডাকাতের দল, দুর্নীতিবাজের দল। বাঙালির উপর অত্যাচার করার দল। বিজেপি আজকে দেশের লজ্জা। আমি তীব্র ধীক্কার জানাই বাংলা ভাষার উপর অত্যাচার করার জন্য। এমন একদিন আসবে বাংলার মানুষ একজন বিজেপিকেও এখানে দেখতে চাইবেন না। বাংলার উপর অত্যাচার করে, সবাই হারবে। বাংলার মানুষ ইঞ্চিতে ইঞ্চিতে জবাব দেবে।এরা অগণতান্ত্রিক একটা দল।” এদিকে, এই হট্টগোলের মাঝেই বিজেপি বিধায়করা মোদিকে উদ্দেশ্য করে ‘চোর’ স্লোগান দেয় বলে অভিযোগ। মমতার কথায়, “আপনারা চোর, চোর বলতে বলতে মোদি চোর বলে ফেলছেন। এটা বলবেন না। চ্যারিটি বিগিনস অ্যাট হোম। লজ্জা করে না নিজেদের নেতাকে চোর বলছেন।” 

এরপরেই মুখ্যমন্ত্রীর স্লোগানে গলা মেলালেন তৃণমূল বিধায়কেরা। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘আপনারা এক তরফা স্লোগান দিতে পারেন না। বিজেপিকে জিরো করে দেব। জনতার ধাক্কা দিয়ে শূন্য করে দেব। ভোট আসলেই ক‍্যা ক‍্যা। এনআরসি। টাকা অস্ত্র নির্বাচন কমিশনকে দিয়ে ভোটে জেতে বিজেপি। চোরের মায়ের বড় গলা। ভয় পেয়েছে। তাই বাংলা ভাষার ওপর অত্যাচার করছে। মোদী চোর। বিজেপি চোর। অমিত শাহ চোর।বিজেপি হঠাও দেশ বাঁচাও, বিজেপি চোর’’

পরিস্থিতি সামলাতে এরপর তৃণমূল বিধায়কদের শান্ত রাখতে নিজে ওয়েলে নেমে আসেন মুখ্যমন্ত্রী এবং সবাইকে শান্ত থাকতে বলেন।