২ মাসের এক শিশুর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার উত্তেজনা ছড়াল পূর্ব মেদিনীপুরের এগরায়। চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগে এগরা মহকুমা হাসপাতাল চত্বরে বিক্ষোভ দেখান মৃতের পরিজনেরা। হাসপাতালে প্রহরারত এক কর্মীর উপর চড়াও হয়ে মারধরের অভিযোগও উঠেছে তাঁদের বিরুদ্ধে। গন্ডগোল থামাতে গিয়ে প্রহৃত হয়েছেন এক পুলিশকর্মীও। তাঁর পরনের উর্দি ছিঁড়ে দেওয়া হয়। খবর পেয়ে এগরা থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
স্থানীয় সূত্রে খবর, দিন সাতেক আগে আলংগিরি এলাকার বাসিন্দা তপন প্রধান নামে এক ব্যক্তি তাঁর ২ মাসের শিশুপুত্রকে ভর্তি করান এগরা মহকুমা হাসপাতালে। মঙ্গলবার সকালে শিশুটিকে মৃত বলে ঘোষণা করে হাসপাতাল। শিশুটির মায়ের অভিযোগ, ‘‘হাসপাতালের ডাক্তার ভালোভাবে চিকিৎসা করেননি। কোনও সমস্যার কথা বলতে গেলে আমাদের সঙ্গে অত্যন্ত দুর্ব্যবহার করেছেন। বাচ্চাকে অন্যত্র নিয়ে যেতে চাইলেও ছাড়েননি ওঁরা।’’ তাঁর আরও অভিযোগ ‘‘আজ ছেলে মারা যাওয়ার পর ওই সিকিউরিটি কর্মী ( যাঁকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ ) মুখের ওপর বলে দিল, ‘একটা বাচ্চা মরে গেলে আর একটা আসবে।’ এই কারণে ওঁর সঙ্গে ঝামেলা হয়েছে।’’ স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, ওই হাসপাতালে নার্স থেকে সুরক্ষাকর্মীদের ব্যবহার অত্যন্ত খারাপ। এই বিষয়ে হাসপাতাল সুপারের কাছে অভিযোগ জানাতে গেলেও কথা বলতে দেওয়া হয় না।
এগরা মহকুমা হাসপাতালের সুপার সমীর আচার্য বলেন, ‘‘হাসপাতালে শিশুটিকে খুব খারাপ অবস্থায় নিয়ে আসা হয়েছিল। তার কী কী চিকিৎসা হয়েছিল, তা আমরা তদন্ত করে দেখছি। এই বিষয়ে সমস্ত রিপোর্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিত ভাবে পাঠাব। তবে এখনও পর্যন্ত এই শিশুমৃত্যুর ঘটনায় মৃতের পরিবারের তরফে কোনও লিখিত অভিযোগ পাইনি। লিখিত অভিযোগ এলে পদক্ষেপ করব।’’ নিরাপত্তাকর্মীর বিরুদ্ধে কোনও প্রকার অভিযোগ থাকলে তা সরাসরি লিখিত ভাবে জানানো যেতে পারে বলেও জানান সুপার। অন্য দিকে, পুলিশকর্মীর সঙ্গে আচরণের নিন্দা করেছেন অনেকে।





