আগামী ২৭ অক্টোবর, সোমবার ষষ্ঠী। তাই জগদ্ধাত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে এখন চূড়ান্ত ব্যস্ততা চন্দননগরে। বর্ধমান জেলার কাটোয়া এলাকার বনকাপাসি থেকে আসা শিল্পীরা দিনরাত এক করে নতুন নতুন শিল্পকলা ফুটিয়ে তুলছেন।চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। পুজো উপলক্ষ্যে শুক্রবার একাধিক নির্দেশিকা জারি করল চন্দননগর সেন্ট্রাল কমিটি। শোভাযাত্রা নিয়েও একাধিক কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যার মধ্যে অন্যতম শোভাযাত্রায় ডিজে বক্স বাজানোয় নিষেধাজ্ঞা। প্রতিমা নিরঞ্জনের সময় কোনওরকম আতশবাজিও পোড়ানো যাবে না। উল্লেখ্য,দশমীর দিন প্রতিবার বিসর্জনের শোভাযাত্রা হয়। তবে এবার বিসর্জনের শোভাযাত্রা হবে একদিন পরে, শনিবার।
চন্দননগর সেন্ট্রাল কমিটির তরফে শুক্রবার সাংবাদিক বৈঠক করা হয় । সেখানে একাধিক নির্দেশিকার কথা জানানো হয়েছে। বলা হয়েছে, চন্দননগরে পুজো দেখতে যান লক্ষ লক্ষ দর্শনার্থী। এবছর তাঁদের কথা চিন্তা করে বায়ো টয়লেটের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। সেই সঙ্গেই প্লাস্টিকের ব্যবহারও সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। দূষণ রুখতে প্রতিমায় সিসামুক্ত রং ব্যবহার করতে হবে। প্রতিটি মণ্ডপের ভিতর থাকবে সিসিটিভি। এদিন কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষ থেকে জগদ্ধাত্রী পুজোর গাইড ম্যাপও প্রকাশ করা হয়।
কেন্দ্রীয় জগদ্ধাত্রী পুজো কমিটির তরফে বলা হয়েছে, নিরঞ্জনের সময় প্রতিটি পুজো কমিটিকে প্রতিমার গাড়িতে বাধ্যতামূলকভাবে অগ্নি নির্বাপক সিলিন্ডার রাখতে হবে। ডেঙ্গু প্রতিরোধ করতে কোনওরকম নোংরা আবর্জনা ফেলা যাবে না। শোভাযাত্রায় যে সমস্ত গাড়ি অংশ নেয়, সেই গাড়ির চালকের সামনে আগে ইলেকট্রিক বোর্ড রাখা হত। ফলে দুর্ঘটনার আশঙ্কাও থাকত। এবার সেভাবে আলোকসজ্জাও করা যাবে না। চালকের সামনের জায়গা ফাঁকা রাখতে হবে।
প্রসঙ্গত, আগামী সোমবার থেকেই গঙ্গাপাড়ের প্রাচীন শহর চন্দনগরে শুরু হচ্ছে জগদ্ধাত্রীর আরাধনা। ১ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে জগদ্ধাত্রী শোভাযাত্রা। নিয়ম অনুযায়ী, চন্দননগরের চারদিনের জগদ্ধাত্রী পুজো হয়। এবার ৩১ অক্টোবর দশমী। প্রতিমা বিসর্জন হয় দশমীর দিন। কিন্তু এবার সেটি একদিন বেড়েছে। চন্দননগর, মানকুণ্ডু এবং ভদ্রেশ্বর এলাকায় প্রতিমা দেখার জন্য প্রচুর মানুষ হাজির হন প্রতিবছর। গত বছর চন্দননগর কেন্দ্রীয় কমিটির অধীনে ১৭৭টি পুজো কমিটি ছিল। এবার আরও তিনটি বারোয়ারি পুজো তালিকায় যুক্ত হয়েছে। চন্দননগর থানা এলাকায় রয়েছে ১৩৩টি ও ভদ্রেশ্বর থানা এলাকায় রয়েছে ৪৭টি পুজো।
শোভাযাত্রাতেও প্রতি বছরের মতো এবছর থাকবে অনেক চমক। এবছর মোট ৭০টি পুজো কমিটি অংশগ্রহণ করবে। তার মধ্যে চন্দননগরের ৫৬টি ও ভদ্রেশ্বর থানা এলাকার ১৪টি পুজো কমিটি থাকছে। মোট লরি থাকবে ২৪৫টি। জগদ্ধাত্রী প্রতিমা নিরঞ্জন হবে রানিঘাট-সহ চন্দননগর ও ভদ্রেশ্বরের মোট ১৪টি গঙ্গার ঘাটে। শোভাযাত্রার রুটে চারটি জোন ভাগ করা হয়েছে। সব জায়গায় পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা এবং কড়া পুলিশি ব্যবস্থাও থাকবে বলে জানা গিয়েছে।





