Header AD

বাংলাকে বঞ্চিত করার পদক্ষেপ অনৈতিক এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, সুপ্রীম রায়ের পর বলল শাসক শিবির

সোমবারই ১০০ দিনের কাজের টাকা নিয়ে কেন্দ্রের বিজেপি শাসিত সরকার সুপ্রিম কোর্টে বড় ধাক্কা খেয়েছে। শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ওই প্রকল্পের বাংলার বকেয়া টাকা দিতেই হবে কেন্দ্রকে এবং একইসঙ্গে দরিদ্র মানুষের আর্থিক অবস্থা সচল রাখতে কাজও দিতে হবে। তিনবছর বন্ধ থাকার পর ফের ১০০ দিনের কাজ চালুর নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালতের এই রায়কে স্বাগত জানিয়ে মঙ্গলবার তৃণমূল ভবনে সাংবাদিক বৈঠক করে শাসক দল। হাজির ছিলেন মন্ত্রী বীরবাহা হাঁসদা, প্রদীপ মজুমদার ও  সাংসদ প্রতিমা মণ্ডল। সাংবাদিক সম্মেলনের তৃণমূল নেতৃবৃন্দ, ১০০ দিনের কাজের বকেয়া টাকা নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ে সুপ্রিম কোর্টে বাংলার জয়ের বিষয়টি তুলে ধরেছেন।এপ্রসঙ্গে মন্ত্রী বীরবাহা হাঁসদা বলেন, “সুপ্রিম কোর্টের রায় সত্যের জয়।“

প্রসঙ্গত, কেন্দ্র কলকাতা হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে যে এসএলপি (Special Leave Petition) করেছিল, তাও এদিন  খারিজ হয়ে গেছে। সুপ্রিম কোর্ট হাইকোর্টের রায় বহাল রেখে পশ্চিমবঙ্গকে ১০০ দিনের কাজের বকেয়া টাকা দিতে নির্দেশ দিয়েছে মোদি সরকারকে।

এদিন এপ্রসঙ্গে সাংসদ প্রতিমা মণ্ডল বলেন, “এই রায় প্রমাণ করে দিয়েছে যে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূল কংগ্রেসের প্রথম দিনের বক্তব্যই ঠিক।বাংলাকে বঞ্চিত করার এই পদক্ষেপ ছিল অনৈতিক এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। সুপ্রিম কোর্ট এই বঞ্চনার ছুতোকে প্রত্যাখ্যাত করেছে।”

তৃণমূল নেতৃত্ব বারবার অভিযোগ করে এসেছেন , ২০২১ সালের পর থেকে বিজেপি সরকার বেআইনিভাবে ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে পশ্চিমবঙ্গের দরিদ্র মানুষকে ১০০ দিনের কাজের প্রাপ্য মজুরি থেকে বঞ্চিত রেখেছে। বিগত তিন বছর ধরে এই টাকা বাংলায় বন্ধ রাখা হয়েছিল। এই বঞ্চিতদের অধিকাংশই সমাজের পিছিয়ে পড়া, অনুন্নত শ্রেণী, তফসিলি জাতি/উপজাতি এবং সংখ্যালঘু মানুষ।এই বঞ্চনার বিরুদ্ধে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বারংবার প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি লিখেছেন এবং দেখা করে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে সাংসদ এবং বরিষ্ঠ নেতৃত্বরা দিল্লিতে আন্দোলন করেন।২০২৩ সালের ঘটনার উল্লেখ করে মন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার বলেন, ‘২৩ অক্টোবর দিল্লিতে কেন্দ্রীয় গ্রাম উন্নয়ন দপ্তরের রাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে গেলে, প্রতিনিধিদলকে (যার মধ্যে প্রতিমা মণ্ডল ও বীরবাহা হাঁসদা ছিলেন) দু ঘন্টার বেশি বসিয়ে রাখা হয়। এরপর জানা যায় যে মন্ত্রী পেছনের দরজা দিয়ে পালিয়ে গেছেন।মন্ত্রী না আসায় যখন তারা জানতে চেয়েছিলেন যে কেন এমন ব্যবহার করা হলো, তখন দিল্লি পুলিশ প্রতিনিধিদলের (বিশেষত মহিলা সাংসদ ও নেত্রীদের) উপর অত্যাচার করে, চুলের মুটি ধরে চ্যাংদোলা করে বাসে করে শহরের বাইরে নিয়ে যায়।

প্রসঙ্গত, আইনি লড়াই চলাকালীন, মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের নিজস্ব কোষাগার থেকে এই বকেয়া মজুরি প্রদান করার সিদ্ধান্ত নেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে তথ্য পেশ করে মন্ত্রী প্রবীর মজুমদার বলেন, “আমরা কোনও ভ্রান্ত তথ্য পেশ করিনা। পশ্চিমবঙ্গে মাত্র ৬ কোটি টাকার জন্য তিন বছর ধরে ১০০ দিনের কাজের অনুমোদন বন্ধ রাখা হয় এবং সেকশন ২৭ আরোপিত করা হয়।

 অন্যদিকে, গুজরাটে ৭১ কোটি টাকার অপব্যবহার পিএসসি (Public Accounts Committee) মিটিং-এ আলোচিত হলেও, কোনো সেন্ট্রাল টিম যায়নি বা সেকশন ২৭ আরোপ করা হয়নি। উত্তরপ্রদেশ (ডবল ইঞ্জিন সরকার) ৪ বছরে প্রায় ৪৮.৮৮ কোটি টাকা এবং বিহার ১৭.৭৬ কোটি টাকার তছরূপে ধরা পড়লেও সেখানে সেকশন ২৭ প্রয়োগ হয়নি এবং টাকা যথারীতি দিয়ে যাওয়া হচ্ছে। রাজ্যের ২০২২ সাল থেকে আটকে থাকা নেট প্রাপ্য বকেয়া অর্থের পরিমাণ হলো ৬,৯১৯ কোটি টাকা।এই বঞ্চনার কারণে তিন বছরে শ্রমদিবস অনুমোদন না পাওয়ায় যে প্রজেক্টেড অ্যামাউন্ট রাজ্য হারিয়েছে, তার পরিমাণ ৫০,৩৪৫ কোটি টাকা।“

তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, এই জয় বাংলার মানুষের জয়, যাদের চোখের জল তিন বছর ধরে দেখা হয়েছে, এই জয় তাদেরকেই উৎসর্গ করা হবে।