“বামফ্রন্ট আমলে স্বাস্থ্যে শুধুমাত্র একটা স্টেট মিনিস্টার করে দায় সেরে ফেলা হতো, স্বাস্থ্যকে গুরুত্বই দেওয়া হত না। আমরা এই কারণে স্বাস্থ্য দপ্তরের দায়িত্ব আমি নিজের কাছে রেখেছি। স্বাস্থ্য যেন অস্বাস্থ্যকর না হয়,সেটাই খেয়াল রাখতে হয়। ১৪ বছরে স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে বিপ্লব এনেছে আমাদের সরকার।বাম আমলে সাস্থ্য খাতে বরাদ্দ ছিল ৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। সেটা আমরা বাড়িয়ে সাড়ে ২১ হাজার কোটি টাকা করেছি” মঙ্গলবার সাস্থ্য ভবনে মোবাইল মেডিক্যাল ইউনিটের উদ্বোধন করে স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে রাজ্যসরকারের কর্মকৃতিত্বের কথা তুলে ধরলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। পাশাপাশি জানালেন স্বাস্থ্যক্ষেত্রে আগামী পরিকল্পনার বিষয়েও। রাজ্যে দুটি নতুন ক্যান্সার হাসপাতাল তৈরির কথাও এদিন ঘোষণা করেন তিনি। এছাড়াও হার্ট ব্যাঙ্ক, কিডনি ব্যাঙ্কসহ অন্যান্য অর্গ্যান ব্যাঙ্ক তৈরির ভাবনার কথাও জানালেন তিনি।
এদিন উত্তরবঙ্গ থেকে ফিরে মুখ্যমন্ত্রী সোজা স্বাস্থ্য ভবনে যান। সেখানে ১১০টি মোবাইল মেডিক্যাল ইউনিটের উদ্বোধন করেন তিনি। এই ভ্রাম্যমাণ স্বাস্থ্য পরিষেবা সম্পর্কে তিনি জানান,”রাজ্যসভার এমপি ল্যাডের টাকা আমি খুব প্ল্যান করে খরচ করি। সেই টাকা থেকেই এই ইউনিট গুলো তৈরি হয়েছে। এখানে প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত ডাক্তার, নার্স, ল্যাব টেকনিশায়নরা থাকবেন। রাজ্যের প্রত্যন্ত এলাকা যেমন আদিবাসী অধ্যুষিত অঞ্চল, প্রান্তিক অঞ্চল, সুন্দরবন, পাহাড়, জঙ্গলমহলের মতো জায়াগায় এই ভ্রাম্যমাণ শিবির কাজ করবে। এই শিবিরে সাধারণ মানুষ রক্ত পরীক্ষা, ইসিজি, প্রেগনেন্সি টেস্ট সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা বিনামূল্যে করাতে পারবেন। এর জন্য রাজ্য সরকারের প্রতিমাসে আনুমানিক ২ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা খরচ হবে। বছরে খরচ হবে প্রায় ৩০ কোটি টাকা।”
অনুষ্ঠান থেকে এদিন তিনি রাজ্যের একাধিক সরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবার সাফল্যের খতিয়ান দিয়ে বলেন, “রাজ্যে স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পে ৯০ লক্ষ মানুষ পরিষেবা পান। আমাদের চোখের আলো প্রকল্পে বিনামূল্যে ছানি অপারেশন করানো হয়। ইতিমধ্যে আমরা ৩৪ লক্ষ চশমা বিনামূল্যে দিয়েছি। তার জন্য ১৮১ কোটি টাকা খরচ হয়েছে। শিশুদের বিনামুল্যে হার্ট চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে শিশুসাথী প্রকল্পে। সেখানে ৬৪ হাজার শিশুর বিনামূল্যে হার্ট অপারেশন করা হয়েছে, যার জন্য সরকারের খরচ হয়েছে আনুমানিক ৩০৭ কোটি টাকা। রাজ্যে ১৪টি নতুন সরকারি মেডিক্যাল কলেজ, ৪২ টি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল, ১১৭ টি ন্যায্য মূল্যের ওষুধের দোকান, প্রত্যন্ত এলাকায় গর্ভবতী মহিলাদের জন্য মাদার ওয়েটিং হাব করা হয়েছে। রাজ্যে ইতিমধ্যেই মেডিক্যাল কলেজে কর্ড ব্লাড ব্যাঙ্ক চালু হয়েছে।” পাশাপাশি তিনি নতুন ডাক্তার, নার্স নিয়োগের নির্দেশ দেন এদিন। বলেন, “ডাক্তার, নার্সদের মাইনে বাড়ানো হয়েছে, নার্সিং ইউনিট বাড়ানোর ব্যাপারেও চিন্তা ভাবনা রয়েছে। সিনিয়রিটির ভিত্তিতে নার্সদের জন্য যোগ্য চিকিৎসক সহায়ক নামে একটি বিশেষ র্যাঙ্ক তৈরি করা হয়েছে। ” কেন্দ্রের বঞ্চনার কথা মনে করিয়ে দিয়ে এদিন তিনি বলেন, “কেন্দ্রের টাকা বন্ধ থাকা সত্ত্বেও আমাদের রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবাকেই সকলে মডেল করে এগচ্ছে।” পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের বার্তা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “যারা স্বাস্থ্য নিয়ে অস্বাস্থ্যকর মন্তব্য করে তাঁদের বলছি, শুধু নেগেটিভ আর ন্যারেটিভ দিয়ে জীবন চলে না।”
স্বাস্থ্য ভাবনের অনুষ্ঠান থেকে মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যে দুটি নতুন ক্যান্সার হাসপাতাল তৈরির ঘোষণাও করেন এদিন। মুম্বইয়ের টাটা মেমোরিয়ালের সঙ্গে যৌথভাবে কলকাতায় তৈরি হবে একটি হাসপাতাল, অন্যটি তৈরি হবে উত্তরবঙ্গে।





