‘সরি মা, এই শেষ বার তোমার মন ভাঙছি…’ সুইসাইড নোটে এই কথা লিখে দিল্লিতে মেট্রোর সামনে ঝাঁপ দিয়ে আত্মঘাতী হল দশম শ্রেণির এক স্কুল পড়ুয়া। এই ঘটনায় অভিযোগ উঠছে স্কুলের প্রিন্সিপাল-সহ তিন শিক্ষকের বিরুদ্ধে। মৃত পড়ুয়ার বাবার দাবি, শিক্ষকদের মানসিক অত্যাচারের কারণে চরম পথ বেছে নেয় তাঁর ছেলে। শিক্ষকদের বিরুদ্ধে আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলা করেছেন তিনি। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে দিল্লি পুলিশ।
সূত্রের খবর, নাটকের ক্লাসে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বেরোয় ওই পুড়ুয়া। বুধবার দুপুর আড়াইটে নাগাদ রাজেন্দ্র প্লেস স্টেশনে লাইনে ঝাঁপ দেয়। পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে নিকটবর্তী ব্লক হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। ঘটনাস্থল থেকে ‘সুইসাইড নোট’ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সেখানে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে মানসিক হেনস্তার অভিযোগ এনেছে পড়ুয়া। সে লিখেছে, “সরি মা, এতবার তোমার মন ভেঙেছি, এই শেষ বার মন ভাঙছি। স্কুলের শিক্ষকরা এমন, আর কী বলব!”
শেষ চিঠিতে স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের দীর্ঘদিনের বকাঝকা, অপমান এবং মানসিক চাপে ভেঙে পড়ার কথা জানিয়েছে কিশোর। সেই চাপেই যে সে মৃত্যুর পথ বেছে নিয়েছে, তাও জানিয়েছে! পাশাপাশি আত্মঘাতী হওয়ার জন্য বাবা-মা ও দাদার কাছে ক্ষমা চেয়েছে। আরও লিখেছে যে তার দেহ যেন দান করা হয়। মৃত পড়ুয়ার বাবা একাধিক সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ছেলের আচরণগত পরিবর্তন এবং মানসিক দুশ্চিন্তার বিষয়টি তারা বেশ কিছু দিন লক্ষ্য করেছিলেন। সে বিষয়ে শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনাও করেছিলেন। যদিও স্কুল কর্তৃপক্ষ তথা শিক্ষকরা কোনও সদর্থক পদক্ষেপ করেননি। উলটে নাটকের ক্লাসে পড়ে যাওয়া নিয়ে তাকে অপমান করা হয়। বারবার স্কুল থেকে বের করে দেওয়ার ভয় দেখানো হয় তাকে। সুইসাইড নোটে শিক্ষক-সহ যাঁদের নাম রয়েছে, তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারে পুলিশ এমনটাই অনুমান করা হচ্ছে। তবে এই ঘটনায় বিতর্ক শুরু হয়েছে রাজধানীতে।





