Header AD

পড়ুয়াদের নিরাপত্তা নিয়ে কোনও আপস নয়! পুলকার মালিকদের সতর্ক করল পরিবহন দপ্তর

রাজ্যজুড়ে স্কুল পড়ুয়াদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে সচেষ্ট হচ্ছে পরিবহণ দপ্তর। পড়ুয়াদের স্কুল থেকে আনা বা দিতে যাওয়ার জন্য পুলকার হিসেবে বেআইনিভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে টোটো, ক্যাব ও ম্যাজিক গাড়ি। আর এই বিষয়কে কেন্দ্র করেই প্রশ্নের মুখে পড়ছে স্কুল পড়ুয়াদের নিরাপত্তা। এই নিয়ে পরিবহণমন্ত্রী স্নেহাশিস চক্রবর্তীর সঙ্গে পুলিশ, স্কুলশিক্ষা এবং পরিবহণ দপ্তরের আধিকারিকদের মধ্যে একটি বৈঠক হয়। উপস্থিত ছিলেন প্রত্যেক জেলার পুলিশ সুপার এবং আরটিও-রাও। সেখানেই পুলকার সংগঠনগুলোকে জানানো হয়, বিভিন্ন জায়গায় ব্যক্তিগত গাড়িতেই স্কুলে পড়ুয়া আনা নেওয়া করা হলেও রাস্তায় চলার ক্ষেত্রে সেই গাড়িগুলো অযোগ্য, সিএফ ফেল, ইনস্যুরেন্স ফেল। সেই কারণেই পরিবহণ দপ্তর পড়ুয়া বহনকারী গাড়িগুলিকে প্রতিবছর সিএফ করানোর কথা ভাবছে। এছাড়াও পরিবহণ দপ্তরের তরফে ব্যক্তিগত গাড়িকে তিন মাসের মধ্যে বাণিজ্যিক করে ফেলার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে । এদিনের বৈঠকে বেআইনি, সিএফ ফেল গাড়ি বন্ধে নজরদারি বাড়ানোর কথাও বলা হয়েছে। এছাড়াও স্কুল পড়ুয়াদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে অভিভাবকদেরও আরও সচেতন হতে বলা হয়েছে। বাচ্চাদের স্কুলগাড়ি ঠিক করার আগে তার কাগজপত্র ঠিক আছে কি না তাও দেখে নিতে বলা হয়েছে। গাড়ির চালকের নাম, ফোন নম্বর, ড্রাইভিং লাইসেন্স সমস্ত বিষয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ তথ্য রাখতে অনুরোধ জানানো হয়েছে অভিভাবকদের । এছাড়াও পুলকার মালিকদের বলা হয়েছে, স্কুলবাস এবং পুলকারে একজন অ্যাটেন্ডেন্ট রাখার কথা। এদিন প্রত্যেক জেলায় টোটো রেজিস্ট্রেশনের সংখ্যাও আরও বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। পরিবহণমন্ত্রী স্নেহাশিস চক্রবর্তী জানান, “লজঝড়ে গাড়িতে পড়ুয়াদের বহন করা যাবে না। পড়ুয়াদের নিরাপত্তা নিয়ে কোনওরকম আপস নয়। আমরা পুলকার সংগঠনগুলোকে সতর্ক করেছি। গাড়ির ফিটনেসের উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। যেমন গাড়িই হোক, প্রতিবছর সেগুলো সিএফ করানোর কথা ভাবা হচ্ছে।” ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী গাড়িতে নির্দিষ্ট রং করা, গাড়ির সামনে ‘অন স্কুল ডিউটি’ লিখে বোর্ড ব্যবহার, অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র, ভিএলটিডি লাগানো সহ একাধিক নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। এছাড়াও পরিবহণ দপ্তরের তরফে স্কুল কর্তৃপক্ষের প্রতিও কিছু পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। যেমন গাড়ির তালিকা নির্দিষ্ট রাখা, পরিবহণ ব্যবস্থাপনার জন্য একজন আধিকারিক নিয়োগ করা ও ট্রাফিক আইন সম্পর্কে ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষা দেওয়া।পুলকার ওনার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সুদীপ দত্ত এই বিষয়ে বলেন, “সমস্ত নিয়ম মেনেই আমরা গাড়ি চালাই। প্রশাসনের উচিত বেআইনি পুলকার বন্ধ করা।”