১০০ দিনের কাজের টাকা না দেওয়ার অভিযোগে কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে ইতিপূর্বে বহুবার সরব হয়েছেন তৃণমূলের সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সরব হয়েছেন দলের নেতাকর্মীরা। কিন্তু এবার সেই ১০০ দিনের কাজের নামবদল নিয়েও ফের তুঙ্গে উঠেছে রাজনৈতিক তরজা। এবার এই প্রকল্প থেকে মহাত্মা গান্ধীর নাম পুরোপুরি মুছে ফেলার অপচেষ্টা চালাচ্ছে বিজেপি -অভিযোগ তৃণমূলের। MGNREGA থেকে ‘মহাত্মা গান্ধী’র নাম তুলে ‘পুজ্য বাপু’ করার পরিকল্পনা নিয়েছিল কেন্দ্র সরকার। এই মর্মে সোমবার সংসদে বিল পেশ হওয়ার কথাও ছিল। তবে সোমবার সকালে সংসদে প্রস্তাবিত বিলের নামে দেখা গিয়েছে, পূজ্য বাপু শব্দও পরিবর্তিত হতে চলেছে। সেখানে লেখা রয়েছে – ‘ভিবি- জি রাম জি- বিল ২০২৫’। যার ফলে এখন প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, তবে কি কোনওভাবে ‘মহাত্মা গান্ধী’, ‘বাপু’ সমস্ত নাম বাদ দিয়ে কৌশল করে ১০০ দিনের কাজে ‘রামনাম’ আনতে চাইছে বিজেপি সরকার। যদি কোনওভাবে মহাত্মা গান্ধীর নাম বাদ পড়ে ১০০ দিনের প্রকল্প থেকে তবে বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে বলে, হুঁশিয়ারি দিয়েছে বাংলার শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস।
এই নিয়ে ইতিমধ্যেই নিজের এক্স হ্যান্ডল পোস্টে করে সরব হয়েছেন তৃণমূলের অন্যতম মুখপাত্র কুণাল ঘোষ। তিনি অভিযোগ করেন, ‘মহাত্মা গান্ধীজির নাম পুরো মুছে ফেলছে মোদী সরকার? নতুন বিলে ‘পুজ্য বাপু’ নামও রাখা হচ্ছে না। সুকৌশলে ‘রাম’ নাম উল্লেখ করা হয়েছে? ভিবি- জি রাম জি- বিল।’ একইসঙ্গে গান্ধীজির নাম এভাবে একেবারে মুছে ফেলা হলে তার প্রতিবাদ হবে বলেও জানিয়েছেন কুণাল ঘোষ।
গ্রামীণ এলাকায় কর্মসংস্থানের জন্য ১০০ দিনের কাজ বা ‘মহাত্মা গান্ধী জাতীয় গ্রামীণ কর্মসংস্থান নিশ্চয়তা আইন’ নামবদলের বিষয়টি গত সপ্তাহেই প্রকাশ্যে এসেছে। সংসদে শীতকালীন অধিবেশন চলাকালীন খবর পাওয়া গিয়েছিল, যে ওই প্রকল্প থেকে ‘মহাত্মা গান্ধী’র নাম উঠে তা হবে ‘পুজ্য বাপু গ্রামীণ রোজগার গ্যারান্টি’। সেইসঙ্গে বাড়ানো হবে কাজের দিনও। তা ১০০ দিন থেকে বাড়িয়ে করা হবে ১২৫ দিন। সোমবার এই সংক্রান্ত বিষয়ে সংসদে বিল পেশ হওয়ার কথা ছিল। তবে এদিন সংসদে যে চারটি বিল পেশ করা হয়, সেই তালিকা থেকে জানা যায়, এই প্রকল্পের নাম রাখা হয়েছে– ‘বিকশিত ভারত-গ্যারান্টি ফর রোজগার অ্যান্ড আজীবিকা মিশন’ এর পাশে লেখা রয়েছে– ‘ভিবি- জি রাম জি- বিল ২০২৫’। উল্লেখ্যভাবে, গোটা প্রকল্পের ইংরাজি নামের আদ্যাক্ষর নিলে দাঁড়ায় ‘VB-G RAM G’, যা নিয়ে এই মুহূর্তে নতুন করে রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। এই বিষয়টি মোটেই ভালোভাবে গ্রহণ করছেন না অনেকেই। বাংলার শাসকদল তৃণমূল সাফ জানিয়েছে, এই প্রচেষ্টা যদি সত্যি হয় তাহলে তীব্র প্রতিবাদ হবে।






