আরও বিপাকে পড়লেন লিওনেল মেসির ভারত সফরের মূল উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্ত। তাঁর বিরাট সম্পত্তি ফ্রিজ করে দিল রাজ্য সরকারের গঠন করা বিশেষ তদন্তকারী দল SIT। সূত্রের খবর, শতদ্রুর বাড়িতে তল্লাশিতে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাঁর অ্যাকাউন্টের ২২ কোটি টাকা ফ্রিজ করা হয়েছে। শুক্রবার শতদ্রুর রিষড়ার তিনতলা বাড়িতে তল্লাশি চালায় বিধাননগর দক্ষিণ থানার পুলিশ। সেসময় একমাত্র পরিচারিকা ছাড়া কেউ বাড়িতে ছিলেন না। সূত্রের খবর, শুক্রবার তল্লাশির পরই ব্যাঙ্ক ও নানা লেনদেন সংক্রান্ত হিসাব খতিয়ে দেখেন সিটের আধিকারিকরা। তারপরই ২২ কোটি টাকা বাজেয়াপ্ত করা হয়। কিন্তু এর মধ্যে টিকিট খরচ বাবদ পাওয়া টাকা রয়েছে, না কি স্পনসরদের থেকে প্রাপ্ত টাকা আছে, তা স্পষ্ট করা হয়নি।
শুক্রবার রাতে সিটের সদস্যেরা কথা বলেন শতদ্রুর সঙ্গে। ধৃত মূল আয়োজককে যুবভারতীকাণ্ড নিয়ে বিবিধ প্রশ্ন করেন আধিকারিকেরা। কারা দায়িত্বে ছিলেন, কী ঘটেছিল, সে সব নিয়ে বিস্তারিত তথ্য জানতে চাওয়ার পাশাপাশি মাঠের ভিতর প্রবেশের জন্য বিশেষ কার্ডের প্রসঙ্গও উঠে আসে জেরায়। গত শনিবার মেসি যতক্ষণ যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ছিলেন, একটি জটলা সর্বক্ষণ ঘিরে রেখেছিল তাঁকে। পরিস্থিতি এমন হয়েছিল যে ওই জটলার জন্য গ্যালারি থেকে দর্শকেরা মেসিকে ঠিক মতো দেখতেও পাননি বলে অভিযোগ উঠেছে। তা থেকেই তাণ্ডবের সূত্রপাত।
উল্লেখ্য, পুলিশি জেরায় শতদ্রু ইতিমধ্যেই একাধিক বিস্ফোরক দাবি করেছেন। যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে কয়েক জন মেসির সঙ্গে প্রায় গা ঘেঁষাঘেঁষি করার পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছিলেন। এই বিষয়টি পছন্দ করছিলেন না ফুটবল তারকা নিজেও। তিনি ঘটনাটি নিয়ে ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষীদের কাছে বিরক্তি প্রকাশ করেছিলেন বলে দাবি শতদ্রুর। মাঠের ভিতরে প্রবেশাধিকারের কার্ডের সংখ্যা পরবর্তী সময়ে বাড়ানো হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। সূত্রের খবর, এ প্রসঙ্গে তদন্তকারী সংস্থাকে শতদ্রুর জবাব, “প্রথমে দেড়শো জনের গ্রাউন্ড অ্যাক্সেস কার্ড দেওয়া হয়। পরে প্রভাবশালীদের চাপে এই সংখ্যাটাকে তিনগুণ বাড়াতে হয়েছিল।” এখানেই শেষ নয়। তিনি আরও বলেন, “ভারত সফরের জন্য মেসিকে ৮৯ কোটি টাকা দেওয়া হয়। আর কর বাবদ ১১ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছিল ভারত সরকারকে।” অর্থাৎ সব মিলিয়ে ১০০ কোটি টাকা খরচ হয়েছিল বলে জানিয়েছেন তিনি। এর মধ্যে কিছুটা টাকা আসে স্পনসরদের কাছ থেকে। বাকি কিছুটা এসেছে টিকিট বিক্রি করে।





