নেটপাড়ায় লাগাতার হেনস্তার বিরুদ্ধে এবার একজোট টলিউড। শুক্রবার, টলিউডের স্ক্রিনিং কমিটির সদস্যরা লালবাজার সাইবার সেলের দ্বারস্থ হয়েছেন। দিন দুয়েক আগেই স্ক্রিনিং কমিটির বৈঠকে জানানো হয়েছিল যে, সোশাল মিডিয়ায় তারকাদের লাগাতার হেনস্তা, আক্রমণের প্রতিবাদে টলিপাড়ার পরিচালক-প্রযোজকরা পুলিশের দ্বারস্থ হবেন। সেই কথামতো এদিন তাঁরা পুলিশে অভিযোগ জানালেন।
অপরাধদমন শাখার দপ্তরে এদিন ফেডারেশন সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাসের নেতৃত্বে হাজির হয়েছিলেন স্ক্রিনিং কমিটির সভাপতি পিয়া সেনগুপ্ত-সহ শ্রীকান্ত মোহতা, রানা সরকার, যিশু সেনগুপ্ত, আবির চট্টোপাধ্যায়, পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়, শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও জিনিয়া সেন, ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্ত-সহ টলিউডের একাধিক ব্যক্তিত্ব। জানা গিয়েছে পুলিশ কমিশনারের কাছে সকলের সই সংগ্রহ করে একটি লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে।
এপ্রসঙ্গে ফেডারেশন সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাস জানিয়েছেন, “কমিশনারের কাছে সমস্ত তথ্যপ্রমাণ-সহ ডেপুটেশন দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের থেকে আমরা সম্পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস পেয়েছি। তাঁরা নিশ্চিত করেছেন যে যে বা যারাই অপরাধী হোক, কঠোরতম শাস্তি পাবে।” উল্লেখ্য, দিন কয়েক ধরেই সিনেমার রেটিং কমিয়ে দেওয়ার অভিযোগে সরগরম টলিপাড়া। উপরন্তু গত পুজোর সময়েও জনৈক সুপারস্টারের অনুরাগীমহলের লাগাতার আক্রমণ বা ট্রোলিংয়ের মুখে পড়ে পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছিলেন জিনিয়া সেন। সম্প্রতি স্ক্রিনিং কমিটির বৈঠকেও সেপ্রসঙ্গ উত্থাপন হয়।
শুক্রবার পুলিশের কাছে জমা দেওয়া চিঠিতে সংশ্লিষ্ট কমিটির অভিযোগ, “কোনও সিনেমা মুক্তির সময়ে বা প্রচারের সময়ে পরিকল্পিতভাবে কখনও পরিচালক-প্রযোজক আবার কখনও শিল্পী ও তাঁদের পরিবারের ব্যক্তিগতজীবনের উপর আঘাত হানা হচ্ছে সোশাল মিডিয়ায়। এই ধরনের ভাষা ও আক্রমণের মাত্রা এতটাই অশালীন ও অবমাননাকর যে তা শুধুমাত্র টলিউডের জন্য লজ্জাজনক নয়। বরং সহ্যের সীমা অতিক্রম করে যাচ্ছে। ফলত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মানহানি হচ্ছে। এমনকী তাঁদের জীবনেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির মাধ্যমে ভবিষ্যতে এই ধরনের অপরাধের প্রতিরোধ করার আবেদন জানাচ্ছি।” এপ্রসঙ্গে বৈঠক শেষে বেরিয়ে স্বরূপ বিশ্বাস এও বলেন যে, “ইন্ডাস্ট্রি একজোট হয়ে পুলিশ কমিশনারকে অভিযোগ জানাল। বারবার একটি নাম উঠে আসছে কেন? যে কোনও শিল্পীদের ব্যক্তিগত আক্রমণ করা কিংবা ডেথ থ্রেট করা থেকে সাবধান হতে হবে।”
এপ্রসঙ্গে পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়ের বক্তব্য, “আমরা যাঁরা সিনেমায় কাজ করি। তাঁদের কাজ নিয়ে কাটাছেঁড়া একশোবার হতে পারে। ভালো লেগেছি বা লাগেনি, সেই মতপ্রকাশের স্বাধীনতা প্রত্যেকের রয়েছে। কিন্তু এখন যেটা হয়েছে, শুধু সিনেদুনিয়ার মানুষ নন, সেটা রাজনীতিক, খেলোয়াড় সকলের ক্ষেত্রেই দেখেছি সমালোচনার ভাষায় শালীনতার মাত্রা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। একজন মানুষকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করার ক্ষেত্রেও যে শালীনতার সীমা বজায় রাখা সম্ভব, সেটা ঘুচে যাচ্ছে। সমালোচনাটা অপরাধ নয় কিন্তু কাউকে অপদস্থ করা বা প্রকাশ্যে মানহানি করা অপরাধের মধ্যে পড়ে। সেক্ষেত্রে আইনানুগ কী পদক্ষেপ নেওয়া যায় তা নিয়েই আলোচনা হল।”







