Header AD

“আমরা শুধু মুখে বলি না, কাজেও করে দেখাই” গঙ্গাসাগর সেতুর শিলান্যাস করে বললেন মুখ্যমন্ত্রী

দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে বাস্তবের পথে বহু কাঙ্ক্ষিত গঙ্গাসাগর সেতু। ”সব সাগর একবার, গঙ্গাসাগর বারবার”, সোমবার মুড়িগঙ্গার উপর গঙ্গাসাগর সেতুর শিলান্যাস করে এমনটাই বললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সামনেই রয়েছে গঙ্গাসাগর মেলা। তার প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে সাগরে গিয়েছেন মূখ্যমন্ত্রী। সেখান থেকেই এদিন ‘গঙ্গাসাগর সেতুর’ শিল্যানাস করেন তিনি। মুড়িগঙ্গার উপর তৈরি হবে চার লেনের প্রায় পাঁচ কিমি দীর্ঘ সেতু। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, রাজ্য সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকেই এই বিশাল খরচের যোগান দেওয়া হচ্ছে । কাকদ্বীপের লট নম্বর আট এবং কচুবেড়িয়ার মধ্যে সংযোগকারী এই সেতু তৈরি হলে সুন্দরবনের অর্থনীতি ও পর্যটন মানচিত্রে আমূল পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছে প্রশাসন ।

প্রায় ছয়বছর আগে মুড়িগঙ্গার উপর একটি সেতু তৈরির স্বপ্ন দেখেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। এজন্য একাধিকবার কেন্দ্রের কাছে আর্থিক সাহায্যের জন্য দরবার করে রাজ্য সরকার। কিন্তু সেই সাহায্য না পেলেও সাগরদ্বীপের মানুষ এবং গঙ্গাসাগর মেলায় আসা পুণ্যার্থীদের কথা ভেবে সেতু গড়তে উদ্যোগ নেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী। শুরু হয় জমি অধিগ্রহণের কাজ। ডাকা হয় টেন্ডার। এদিন সাগরের মাটি থেকে ইংরেজি নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ”গঙ্গাসাগর সেতুর শিল্যানাস করে কাজের দায়িত্ব আজ তুলে দেওয়া হল এল এন্ড টি’কে। ১ হাজার ৬৭০ কোটি টাকা খরচ করে রাজ্য সরকার এটা আপনাদের উপহার দিচ্ছে। আজ এই ব্রিজটির শিলান্যাস করে শুধু বাংলার মানুষের জন্য নয়, বরং সারা বিশ্বের পর্যটকদের জন্য গর্বিত বোধ করছি।” মুড়িগঙ্গা নদীর ওপর এই সেতু তৈরির দায়িত্ব পেয়েছে দেশের অন্যতম খ্যাতনামা নির্মাণ সংস্থা এলঅ্যান্ডটি। এরপর ওখান থেকেই মুখ্যমন্ত্রী বহু প্রকল্পের উদ্বোধন করেন। মুখ্যমন্ত্রীর কথা অনুযায়ী, মোট ৯৬ টি প্রকল্পের উদ্বোধন করা হল যার আর্থিক মূল্য ৩৯৪ কোটি টাকা। মোট ৭০ টি প্রকল্পের শিলান্যাস করা হয়েছে যার অর্থমূল্য ১ হাজার ৯২৯ কোটি ৩৭ লক্ষ টাকা। ৮ কোটি ৮০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ১০০ শয্যার ডরমিটরি মূলত পূণ্যার্থীদের থাকার জন্য তৈরি হয়েছে, নাম ‘সাগরকন্যা’। এছাড়াও বহু প্রকল্পের নামকরণ করেন এই সভা থেকে যেমন, সাগরে ইতিমধ্যেই নির্মিত ট্যুরিজম কটেজ-এর নামবদল করে করলেন ‘গঙ্গান্ন’।

সোমবার শিলান্যাস অনুষ্ঠান থেকে মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, ”গঙ্গাসাগর সেতু দীর্ঘদিনের মানুষের দাবি ছিল। আমরা শুধু মুখে বলি না। কাজেও করে দেখাই।” শুধু তাই নয়, এই সেতু নির্মাণ হলে সাগরে যোগাযোগ ব্যবস্থাতে বিপ্লব ঘটবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে তৈরি হবে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দীর্ঘ এই চার লেনের সেতুটি । আগামী ২-৩ বছরের মধ্যে এই সেতুর নির্মাণকাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে এবং ইতিমধ্যেই কাজের বরাত বা ‘ওয়ার্ক অর্ডার’ দেওয়া হয়ে গিয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। গঙ্গাসাগর যাত্রার দুর্গমতা বোঝাতে একটা সময় মানুষের মুখে মুখে ফিরত ‘সব তীর্থ বারবার, গঙ্গাসাগর একবার’ প্রবাদটি । এদিন সেই প্রবাদকে কার্যত বদলে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী নতুন স্লোগান তোলেন, ‘সব সাগর একবার, গঙ্গাসাগর বারবার’। তিনি মনে করিয়ে দেন, আগে বকখালি যাওয়ার পথেও সেতু ছিল না, যা এখন তৈরি হয়েছে। মুড়িগঙ্গার ওপর এই সেতুটি সম্পন্ন হলে পুণ্যার্থী ও স্থানীয় মানুষকে আর জোয়ার-ভাটার খেয়াল রেখে নদী পারাপারের জন্য অপেক্ষা করতে হবে না। দীর্ঘদিনের যন্ত্রণা ও ঝুঁকি থেকে মুক্তি পাবেন লক্ষ লক্ষ মানুষ।

এ দিনের সভা থেকে নাম না করি বিজেপিকে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, “ইতিমধ্যে গঙ্গাসাগর মেলা নিয়েও মিথ্যাচার করছে বিজেপি। যারা মিথ্যাবাদী, যারা মিথ্যাবাদী লগ্নে জন্মগ্রহণ করে, তাদের তো সত্যবাদী বলা যায় না। অত্যাচার, ব্যাভিচার নিয়ে ওরা ভালো থাকুক। আমি কার‌ও খারাপ চাই না।“ জানা গিয়েছে, সেতুটি দ্বিতীয় হুগলি সেতু বা নিবেদিতা সেতুর আদলে তৈরি করা হবে। সেতু নির্মাণে জমি অধিগ্রহণের কাজ অনেকটাই এগিয়ে গিয়েছে। জানা যাচ্ছে, গঙ্গাসাগর সেতুর জন্য কাকদ্বীপের অংশে ৭.৯৫ একর এবং কচুবেড়িয়া অংশে ৫.০১ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। বাকি জমি অধিগ্রহণের কাজ খুব শীঘ্রই শেষ করা হবে বলে জানা যাচ্ছে।