চলতি মরশুমে শীত একের পর এক রেকর্ড ভাঙছে। নতুন বছরের শুরুতে তাপমাত্রা ছুঁয়েছিল ১১ ডিগ্রি। আর মঙ্গলবার কলকাতার তাপমাত্রা নামল ১০.২ ডিগ্রিতে। মরশুমের শীতলতম দিন বলাই চলেই। ১৩ বছর পর শহরের তাপমাত্রার রেকর্ড পতন হল। হাওয়া অফিস সূত্রে খবর, ২০১৩ সালের ৯ জানুয়ারি কলকাতার তাপমাত্রা নেমেছিল ৯ ডিগ্রিতে। তারপর থেকে প্রতিবছর মকর সংক্রান্তির আগে উত্তুরে হাওয়ার দাপটে কলকাতার পারদ ১২-১৩ ডিগ্রির আশেপাশেই ঘোরাফেরা করে।
চমঙ্গলবার সকাল থেকেই কার্যত কনকনে ঠাণ্ডায় কাঁপছে শহর। সঙ্গে হাড় কাঁপানো হিমেল হাওয়া। কুয়াশার চাদরে মোড়া কলকাতার আকাশ। এক চিলতে রোদেরও দেখা নেই। বেলা বাড়লেও সোয়েটার, কানঢাকা টুপি, মোজা , গ্লাভস খোলার জো নেই। সমতলে বসেই পাহাড়ি ঠাণ্ডার আঁচ পাওয়া যাচ্ছে। তাপমাত্রা নেমে গিয়েছে ১০ ডিগ্রির ঘরে। তবে ১৮৯৯ সালের জানুয়ারিতে ৬.৭ ডিগ্রিতেও নেমেছিল কলকাতার পারদ। সেই রেকর্ড এখনও ভাঙেনি। শহরতলি এবং সংলগ্ন জেলাগুলিতে অনেক জায়গাতেই পারদ ১০ ডিগ্রিরও নীচে নেমে যায়। কলকাতা সংলগ্ন জেলাগুলি সোমবার বেশি রাতের দিক থেকেই ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকতে শুরু করে। মঙ্গলবার ভোরের দিকেও কুয়াশায় ঢেকে ছিল শহরতলি এবং সংলগ্ন এলাকায়। কলকাতা-সংলগ্ন বিভিন্ন এলাকায় মঙ্গলবার ভোরের দিকে দৃশ্যমানতা এতটাই নেমে যায় যে কুড়ি পা দূরে কী রয়েছে, তা-ও ঠাহর করা যাচ্ছিল না। এর জেরে ভোরের দিকে বেশ কিছু লোকাল ট্রেন চলাচলেও দেরি হয়। নির্ধারিত সময়ের চেয়ে বেশ কিছুটা দেরিতে চলে শিয়ালদহ এবং হাওড়া ডিভিশনের ভোরের লোকাল ট্রেনগুলি। শহরের রাস্তায়ও যানবাহনের গতি শ্লথ ছিল।
বছরের শুরুতে শহরের তাপমাত্রা কিছুটা ঊর্দ্ধমুখী ছিল। তবে রবিবার থেকেই ফের পারদ পতন শুরু হয়। সোমবার কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১২.৬ ডিগ্রি। আর বুধবার তা আরও নেমে গেল। হাওয়া অফিস সূত্রে খবর, চলতি সপ্তাহে কলকাতা-সহ গাঙ্গেয় দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে আরও কয়েক ডিগ্রি পারদপতনের সম্ভাবনা রয়েছে। বুধবার এবং বৃহস্পতিবার দক্ষিণবঙ্গে রাতের তাপমাত্রা আরও ২ ডিগ্রি কমতে পারে। তার পরের ৪-৫ দিন তাপমাত্রার বিশেষ হেরফর হবে না। এই সময়ে দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রাও স্বাভাবিকের চেয়ে ৩-৫ ডিগ্রি কম থাকবে। উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতেও আগামী দুইদিন আরও পারদ পতন হবে। আরও দুই ডিগ্রি পারদ নামতে পারে উত্তরের জেলাগুলিতেও।
প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার দুই বর্ধমান, বাঁকুড়া, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ এবং নদিয়ার কিছু জায়গায় ‘শীতল দিন’-এর পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। মুর্শিদাবাদ এবং নদিয়ায় ঘন কুয়াশারও সতর্কতা রয়েছে। উত্তরবঙ্গের ক্ষেত্রেও আগামী কয়েক দিন প্রায় সব জেলাতেই ঘন কুয়াশা থাকতে পারে। ভোরের দিকে কুয়াশার কারণে কমে যেতে পারে দৃশ্যমানতা। উত্তরবঙ্গেও দুই দিনাজপুর এবং মালদহে ‘শীতল দিন’-এর পরিস্থিতি রয়েছে।





