বেতনবৃদ্ধিসহ ৮দফা দাবিতে ১৬ দিন ধরে কর্মবিরতি পালন করছে রাজ্যের আশাকর্মীরা। বুধবার এই সব দাবি নিয়ে স্বাস্থ্যভবন অভিযান করে তাঁরা। আর আশাকর্মীদের এই অভিযান ঘিরে কার্যত রণক্ষেত্রের সৃষ্টি হল স্বাস্থ্যভবন চত্বরে। অভিযান শুরু হতেই মিছিল করে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন আশাকর্মীরা। যার জেরে সেক্টর ফাইভের ওই এলাকায় যান চলাচল বন্ধ করে দেয় পুলিশ। বিক্ষোভকারীরা ব্যারিকেড ভেঙে ভিতরে ঢুকতে চাইলে বন্ধ করে দেওয়া হয় স্বাস্থ্যভবনের মূল গেটও। নুন্যতম ১৫ হাজার টাকা বেতন বৃদ্ধিসহ আট দফা দাবি রয়েছে আশাকর্মীদের (ASHA worker)। এই বিষয়ে সরকার হস্তক্ষেপ না করলে তাঁরা স্বাস্থ্যভবনের সামনেই অবস্থান বিক্ষোভে বসে যাওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন।
আশাকর্মীদের অভিযোগ, খুবই সামান্য টাকা বেতনের বিনিময়ে তাঁদের কাঁধে গুরু দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয়। অথচ কাজের চাপ ক্রমশ বেড়েই চলেছে। বর্তমানে তাঁদের ইনসেনটিভ মিলিয়ে মাসে সর্বোচ্চ ৫,২৫০ টাকার বেশি দেওয়া হচ্ছে না। তাঁদের দাবি এই টাকা বাড়িয়ে কমপক্ষে ১৫০০০ করা হোক। এছাড়াও মাতৃত্ব কালীন ছুটি, স্বাস্থ্যবীমা, কর্মরত অবস্থায় মৃত্যু হলে তাঁর ক্ষতিপূরণ সহ একাধিক দাবিতে তাঁদের এই বিক্ষোভ। তাঁদের আরও অভিযোগ ২০১৯ সালে করোনার সময়ে তাঁদের দিয়ে যে অতিরিক্ত কাজ করানো হয়েছিল তার বকেয়াও একাধিক আশাকর্মী এখনও পাননি।
বুধবার ন্যূন্যতম বেতন ১৫ হাজার টাকা করা-সহ একাধিক দাবিতে স্বাস্থ্যভবন ঘেরাও এবং ডেপুটেশন কর্মসূচির ডাক দেন আশাকর্মীরা। সেই মতো সকাল থেকেই কড়া নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলা হয় স্বাস্থ্যভবন-সহ গোটা এলাকা। তৈরি করা হয় একাধিক ব্যারিকেড।স্বাস্থ্যভবনের দিকে আশাকর্মীদের মিছিল কিছুটা এগোতেই তা আটকে দেওয়া হয়। এরপরেই দ্রুত পরিস্থিতি বদলে যায়। একেবারে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে গোটা এলাকা। একের পর এক ব্যারিকেড ভেঙে আশাকর্মীরা স্বাস্থ্যভবনের দিকে এগোতে শুরু করেন। শুধু তাই নয়, পুলিশের সঙ্গেও ধ্বস্তাধস্তিতে জড়িয়ে পড়েন তাঁরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রীতিমতো হিমশিম খান পুলিশ আধিকারিকরা।
প্রসঙ্গত, এর আগেও একাধিকবার টাকা বাড়ানোর দাবিতে সরব হয়েছেন আশাকর্মীরা। কিন্তু সরকারের তরফ থেকে বিশেষ কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। যার জেরে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দিয়েছে আশা কর্মীরা। এখন স্বাস্থ্যভবনের তরফে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয় সেটাই দেখার।





