বৃহস্পতিবার তৃণমূলের ভোট কৌশলী আইপ্যাকের সেক্টর ফাইভের অফিসে হানা দেয় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। এর প্রতিবাদে তৃণমূলের তরফে বিধাননগরের ইলেকট্রনিক্স থানায় এফ আই আর দায়ের করা হয়েছে। পাল্টা সাংবিধানিক প্রভাব খাটিয়ে অভিযানে বাধা দেওয়ার অভিযোগে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হল ইডি। মামলা দায়ের করতে চেয়ে হাই কোর্টের বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তারা। অনুমতি দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার এই মামলার শুনানির সম্ভাবনা।
রাজ্য সরকারের পরামর্শদাতা সংস্থা আইপ্যাকের দপ্তরে বৃহস্পতিবার সাতসকালে হানা দেয় ইডি। তল্লাশি অভিযান চালানো হয় আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের লাউডন স্ট্রিটের বাড়িতেও। ইডির তল্লাশির মধ্যেই প্রতীকের বাড়িতে পৌঁছে যান খোদ মুখ্যমন্ত্রী। সেখান থেকে বেরিয়ে সল্টলেকে আইপ্যাকের অফিসেও যান। হাতে ফাইল এবং ল্যাপটপ নিয়ে তাঁকে বেরোতে দেখা যায়। এরপর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি অভিযোগ করেন, তাঁর দলের রাজনৈতিক কৌশল ছিনতাই করা হয়েছে। তিনি বলেন, “ইডি ফরেন্সিক টিম নিয়ে আই প্যাকের ফাঁকা অফিসে হানা দিয়ে কম্পিউটর থেকে নথি হাতিয়েছে। হার্ডডিস্ক , ল্যাপটপ, ফোন হাতিয়ে নিয়েছে। ঘরের মধ্যে কাগজপত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে ছিল। ওরা আমাদের ভোটের কৌশল ছিনতাই করতে এসেছিল। কেন কোনও দলের আইটি সেলে হানা দেবে ইডি? এটা অন্যায়। এটা ক্রাইম, গণতন্ত্রকে হত্যা করার চেষ্টা। আইপ্যাক কোনও বেসরকারি সংস্থা নয়। এটা আমাদের দলের আইটি সেল। আর তৃণমূল একটা রেজিস্ট্রার্ড পার্টি। আমরা ট্যাক্স দিই। অডিট হয়। ফরেন্সিক টিমের বিরুদ্ধে FIR হবে।” সেই কথা মতো এদিন ইডির বিরুদ্ধে FIR দায়ের করেছে রাজ্যের শাসকদল। এর পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সংস্থার অভিযানের নেপথ্যে বিজেপিকে দায়ী করেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী।
এরপরই ইডি দাবি করে, নির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতেই নাকি এই অভিযান। পশ্চিমবঙ্গের ছয়টি এবং দিল্লির চারটি জায়গায় (মোট ১০টি জায়গায়) বেআইনি কয়লা পাচার মামলায় তল্লাশি চলছে। কিন্তু সাংবিধানিক পদের অপব্যবহার করে দুটি জায়গা থেকে তল্লাশির মধ্যেই নথি ছিনিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এর পরেই হাই কোর্টে যায় কেন্দ্রীয় সংস্থা। এমনকি তারা বিবৃতিও জারি করে। সেখানে তারা দাবি করে, “কয়লা পাচার মামলায় ১০টি জায়গায় তল্লাশি চালাচ্ছে ইডি। অনুপ মাজি কয়লা পাচারের সিন্ডিকেট চালাতেন এবং পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জায়গা থেকে চুরি করে বেআইনি ভাবে কয়লা বাইরে পাঠাতেন। শান্তিপূর্ণ ভাবেই তল্লাশি অভিযান চলছিল। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর প্রশাসনের আধিকারিক এবং পুলিশ কর্তাদের নিয়ে সেখানে চলে আসেন এবং জোর করে নথি, ডিজিটাল তথ্যপ্রমাণ নিয়ে চলে যান।” এমনকি তারা এও দাবি করে তাদের তল্লাশি অভিযান তথ্যপ্রমাণভিত্তিক এবং কোনও রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানকে এর মাধ্যমে নিশানা করা হয়নি। কোনও পার্টি অফিসে তল্লাশি চালানো হয়নি। এই তল্লাশির সঙ্গে কোনও নির্বাচনের সম্পর্ক নেই। সাধারণ আর্থিক তছরুপ মামলার বিরুদ্ধে এই অভিযান ছিল।






