Header AD

রুশ তেল কেনায় শাস্তির খাঁড়া! ভারতের উপর ৫০০ শতাংশ হারে শুল্ক চাপানোর পথে ট্রাম্প

এবার কি ভারতের উপর ৫০০ শতাংশ শুল্ক চাপানোর পথে ডোনাল্ড ট্রাম্প ! সাম্প্রতিক বিশ্ব রাজনীতির যা পরিস্থিতি তাতে সেই সম্ভাবনার কথা একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে রুশ তেল নিয়ে আরও কড়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট । রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্যকারী দেশগুলির উপর ৫০০ শতাংশ শুল্ক চাপানোর তোড়জোড় শুরু করে দিয়েছে হোয়াইট হাউস, এমনটাই শোনা যাচ্ছে। সম্প্রতি এই সংক্রান্ত একটি বিল পাশের কথা চলছিল আমেরিকায়। এবার সেই বিলে অনুমোদন দিলেন ট্রাম্প। বিল পাশ হলে ভারত ও চিনের বাণিজ্যে বিরাট ধাক্কা খাবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। এই আশঙ্কায় ভারতের শেয়ারবাজারে বৃহস্পতিবার প্রায় ৮০০ পয়েন্ট পড়ে গিয়েছে।  

বর্তমানে নিজেদের চাহিদা মেটাতে রাশিয়ার ৭০ শতাংশ জ্বালানি তেল কেনে ভারত ও চিন। এই জ্বালানি তেল ও গ্যাসের বড় গ্রাহক ব্রাজিল-সহ আরও একাধিক দেশ। রাশিয়া থেকে তেল কেনায় ইতিমধ্যেই ভারতের উপর চড়া হারে শুল্ক চাপিয়েছে আমেরিকা। ক্ষমতায় আসার পর থেকেই রাশিয়া ও ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে তৎপর হয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে আলোচনার চেষ্টা হলেও এ বিষয়ে খুব একটা সাফল্য  পায়নি হোয়াইট হাউজ। নিজেকে ‘শান্তির দূত’ হিসাবে বিশ্বের সামনে তুলে ধরতে এই যুদ্ধ থামানোই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ট্রাম্পের। তাই যে কোনওভাবে রুশ প্রেসিডেন্টকে আলোচনার টেবিলে আনতেই কোমর বেঁধে নেমেছে আমেরিকা। মার্কিন নেতারা মনে করছেন, ভারত ও চিনের এই জ্বালানি তেল কেনা রাশিয়া ও ইউক্রেন যুদ্ধে পুতিনের ‘ব্যাক বোন’ হিসেবে কাজ করছে। এটা আটকাতে পারলেই যুদ্ধ বন্ধ করে পুতিনকে প্যাঁচে ফেলা সম্ভব হবে বলে আশা আমেরিকার। সেই লক্ষ্যে রাশিয়ার ব্যবসা বন্ধ করে আর্থিকভাবে পুতিনের উপর চাপ সৃষ্টি করতেই ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে। জানা গিয়েছে, ভেনেজুয়েলার কাছে আটলান্টিক সাগরে রুশ তৈলবাহী জাহাজ দখল করেছে মার্কিন ফৌজ। মারিনেরা নামে ওই জাহাজটিকে রক্ষা করার জন্য রুশ নৌবাহিনী মোতায়েন করার চেষ্টা করছিল মস্কো, এমনটাই সূত্রের খবর। তবে রুশ বাহিনী পৌঁছনোর আগেই জাহাজ দখল করে মার্কিন বাহিনী।

বিল পাশ প্রসঙ্গে রিপাকলিকান সেনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম জানিয়েছেন, বিলটি নিয়ে বেশ কয়েকমাস ধরেই আলোচনা চলছিল। বুধবার এই নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। সেই বৈঠকেই তিনি বিলটি পাশের আনুমোদন দিয়েছেন। ইউক্রেন শান্তিচুক্তির পক্ষে। কিন্তু রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন মুখে যুদ্ধবিরতির কথা বললেও যুদ্ধ জারি রেখেছেন,  নিরীহদের হত্যা করছেন। এই পরিস্থিতিতে রাশিয়া থেকে বহু দেশ কম পয়সায় তেল কিনে পুতিনের যুদ্ধে ‘তেল’ যোগাচ্ছে। এই বিল পাশ হলে সেই দেশগুলিকে শাস্তির মুখে পড়বে। আগামী সপ্তাহে মার্কিন সেনেটে বিলটি নিয়ে ভোটাভুটি হতে পারে বলে জানিয়েছেন গ্রাহাম।