“ওরা হামলা করেছে। এই হামলার প্রত্যুত্তর জনগণ দেবে। সাধারণ মানুষই বিজেপিকে ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠাবে। আঘাত করলে প্রত্যাঘাত করবই।” বৃহস্পতিবার আইপ্যাকের সল্টলেকের দপ্তর এবং কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে ED(Enforcement Directorate) হানার প্রতিবাদে এভাবেই গর্জে উঠলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। এর প্রতিবাদে শুক্রবার দুপুর তিনটেয় পথে নামবেন তিনি। যাদবপুর এইট বি বাসস্ট্যান্ড থেকে হাজরা মোড় পর্যন্ত প্রতিবাদ মিছিলের ডাক দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। বৃহস্পতিবার আউট্রাম ঘাটে গঙ্গাসাগর মেলার ট্রানজিট পয়েন্টের উদ্বোধনে গিয়ে তৃণমূলের আইটি সেলের অফিসে ইডি হানার জবাবে আগামী কর্মসূচি ঘোষণা করলেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান। শুক্রবার বিকেল তিনটেতে মিছিল শুরু হবে যাদবপুর এইটবি বাসস্ট্যান্ড থেকে। আনোয়ারশাহ, টালিগঞ্জ ফাঁড়ি, রাসবিহারী, গড়িয়াহাট হয়ে মিছিল শেষ হবে হাজরা মোড়ে গিয়ে।
উল্লেখ্য সল্টলেকে আইপ্যাকের দপ্তরে বৃহস্পতিবার দুপুরে তখনও ইডির তল্লাশি চলছে। তার মাঝেই সেখানে হাজির হন মুখ্যমন্ত্রী। দপ্তরের ভিতরে গিয়ে একগুচ্ছ ফাইল বের করে আনেন। এরপরেই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি অভিযোগ করেন “ফরেন্সিক টিমের সাহায্যে আমাদের কাগজ, তথ্য সব ট্রান্সফার করেছে। ভোটের কাজ চলছে। ওরা সব তথ্য ট্রান্সফার করেছে। আমি মনে করি এটা ক্রাইম।” দপ্তরে প্রতীক জৈন না পৌঁছনো পর্যন্ত সেখানে থাকার সিদ্ধান্ত নেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান। প্রায় পৌনে চার ঘণ্টা পর সেখান থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, এরা নিজেদের মুখরক্ষার জন্য কিছু গদি মিডিয়াকে কাজে লাগিয়েছে। তাদের ডিটেলসটা আমরা নজরে রাখছি । যাঁরা অসত্য কথা বলেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করার দায়িত্ব আমার। আমি সৌজন্য দেখাই। সহ্য করি। এটা দুর্বলতা নয়। সব লুট করলে, ছিনতাই করলে হজম করব না। আগে সব ডিটেল পাই। তার পর কী পদক্ষেপ করব, জানাব।’
এরপর আউট্রাম ঘাটে গঙ্গাসাগর মেলার সূচনা করতে গিয়ে এসআইআর নিয়েও মুখ্যমন্ত্রী কটাক্ষ করেন কেন্দ্রীয় সরকারকে। তিনি জানিয়েছেন, ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ দেখিয়ে ৫৪ লক্ষ ভোটারের নাম কাটা হয়েছে। নোবেলজয়ী অমর্ত্য সেন, অভিনেতা দেব, কবি জয় গোস্বামীকেও নোটিস পাঠানো হয়েছে। বিজেপি সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে একযোগে নিশানা করে বলেন, “আগামিদিন ডিটেনশন ক্যাম্পে নাকি রাখবে। মানুষ বিজেপিকে ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠিয়ে দেবে।”





