Header AD

SIR এবং নির্বাচনী আবহে প্রকাশ পেল তৃণমূলের থিম সং

কনকনে শীতের মরশুমেও রাজ্যরাজনীতিতে প্রবল উত্তাপ। একদিকে, গত বৃহস্পতিবার রাজ্য সরকারের পরামর্শ সংস্থা আইপ্যাকে ইডি অভিযান ঘিরে বিক্ষোভ-মিছিল-আইনি পদক্ষেপে উত্তপ্ত পরিস্থিতি, ঠিক তার অন্যদিকে, সময় যত এগিয়ে আসছে ভোট প্রচারে তৎপরত বাড়াচ্ছে তৃণমূল, বিজেপি, কংগ্রেসের মতো রাজনৈতিক সংগঠন গুলি। ইতিমধ্যেই ইডি অভিযান ইস্যুতে কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকে একহাত নেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ইডির ‘চোখ রাঙানি’তে যে ভীত নয় তৃণমূল এবং আইপ্যাক, মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সেটাই যেন স্পষ্ট করে দেওয়া হল। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের জন্য গত শনিবার থিম সং প্রকাশ করল রাজ্যের শাসকদল। যেখানে বাংলার ‘অগ্নিকন্যা’ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘বাঘিনী’ বলে উল্লেখ করা হল। তৃণমূলের ‘যতই করো হামলা, আবার জিতবে বাংলা’ স্লোগানকে ভিত্তি করেই তৈরি হয়েছে এই গান। গানের ছত্রে ছত্রে রয়েছে বিজেপির বিরুদ্ধে বাংলার ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতিকে রক্ষা করা এবং এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বার্তা।২০২১-এর নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বাংলার ঘরের মেয়ে হিসেবে উপস্থাপন করে থিম গান হয়, ‘বাংলা নিজের মেয়েকে চায়’। এবার সেই ঘরের মেয়ে হয়ে উঠছেন বাঙালি সংস্কৃতি, ঐতিহ্যের ত্রাতা। অগ্নিকন্যা হয়েছে উঠছেন বাঘিনী। তিন মিনিটের এই নতুন গানের কেন্দ্রে রয়েছে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। গত শুক্রবার যাদবপুর ৮বি বাসস্ট্যান্ড থেকে হাজরা মোড় পর্যন্ত প্রতিবাদ মিছিলও করেছেন মমতা। আর অভিষেক শুক্রবার গিয়েছিলেন নদিয়ার জনসভা এবং তার পর বনগাঁর ঠাকুরনগরে মতুয়া ঠাকুরবাড়িতে। আইপ্যাক নির্মিত মিউজ়িক ভিডিয়োটিতে মমতার মিছিল এবং অভিষেকের কর্মসূচির একাধিক ফুটেজ ব্যবহার করা হয়েছে। একটা সময়ে মমতা সম্পর্কে তৃণমূলের কর্মীরা ‘অগ্নিকন্যা’ আখ্যা দিতেন। সেই তাঁকেই ভিডিয়োতে ‘বাঘিনি’ হিসাবে উপস্থাপিত করা হয়েছে। ভিডিয়োর ১ মিনিট ৫ সেকেন্ডের মাথায় দেখা যাচ্ছে, মুষ্টিবদ্ধ হাত আকাশে তুলে দাঁড়ানো মমতার ছবি। সেকেন্ডের ভগ্নাংশে সেই ছবিই রূপ নিচ্ছে এক ক্রুদ্ধ বাঘিনিতে। কয়েক মাস আগে তৃণমূলের সমাজমাধ্যমে মমতাকে ‘বাংলার বাঘিনি’ হিসাবে প্রচার করা হয়েছিল। সেই সুরে ইতিমধ্যে সুর মিলিয়েছেন কাশ্মীরের নেত্রী মেহবুবা মুফতিও। মেহবুবা বলেন, “বর্তমানে গোটা দেশজুড়ে তল্লাশি চলছে। আগে এটা অবশ্য হয়নি। কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা বাতিলের পর এখানে শুধুই তল্লাশি হত। তখন বেশিরভাগ রাজনৈতিক দল চুপ করে ছিল। সংবাদপত্র খুললেই দিনে কমপক্ষে ২০-২৫টি তল্লাশির খবর দেখা যেত। এখন সেটাই বাংলায় হচ্ছে।” মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দরাজ সার্টিফিকেট দিয়ে তিনি আরও বলেন, “তবে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী সাহসী। তিনি বাঘিনী। তিনি লড়াই করবেন। কখনওই আত্মসমর্পণ করবেন না।” তৃণমূল নেত্রীর এই বাঘিনী রূপই এবার প্রকাশ পেয়েছে নির্বাচনের জন্য তৈরি হওয়া থিম গানে।আইপ্যাকের তরফে জানানো হয়েছে, ‘যতই করো হামলা, আবার জিতবে বাংলা কেবল একটি গান নয়, এটি আমাদের দৃঢ় রাজনৈতিক বার্তা এবং প্রতিরোধের ডাক। এতে বাঙালির চিরাচরিত লড়াকু মেজাজকে তুলে ধরা হয়েছে।’ আইপ্যাকের কাজের ব্যাপারে সম্যক ধারণা থাকা তৃণমূলের অনেকের বক্তব্য, পেশাদার সংস্থা হিসাবে তারা আসলে ইডি হানার জবাব দিতে চেয়েছে এই ভিডিয়োর মাধ্যমে। দেখাতে চেয়েছে, এক দিন কাজ স্তব্ধ করে দিলেও, তাদের দমানো যায়নি। আইপ্যাকের কেউ অবশ্য আনুষ্ঠানিক ভাবে এ নিয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাননি। দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্রের কাছে যেসব প্রাপ্য দাবি তৃণমূল দাবি করেছে, এই গানে তা-ও মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে। বাংলার টাকা আটকে রাখা থেকে শুরু করে বাঙালি মনীষীদের অপমান, ভোটার তালিকার কারচুপি থেকে এসআইআর, সব উঠে এসেছে এই গানে। গত শনিবার এই গান আনুষ্ঠানিকভাবে সমাজমাধ্যমে প্রকাশ করে আইপ্যাক ও তৃণমূল স্পষ্ট করে দিয়েছে যে কেন্দ্রীয় এজেন্সির আক্রমণের মুখে কোনভাবেই দমছে না তারা।