এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন ইস্যুতে সরব হয়েছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। কিন্তু তাঁদের দেওয়া নথিপত্র নির্বাচন কমিশন (Election Commission)গ্রাহ্যই করছে না, প্রাপ্তিস্বীকারও করছে না। বিশেষ নিবিড় সংশোধন অর্থাৎ SIR প্রক্রিয়ায় গুরুতর গাফিলতি ও প্রশাসনিক অসঙ্গতির অভিযোগ তুলে ফের সোমবারে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে (Gyanesh Kumar)চিঠি লিখলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই নিয়ে পঞ্চম বার। এদিনের লেখা চিঠিতে তাঁর আবারও অভিযোগ, এই পদ্ধতি একেবারেই পরিকল্পনাহীন, ভিত্তিহীন এবং ভুলে ভরা। এভাবে কাজ চললে যে কোনও সময়ে যে কোনও ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়ে যাবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। এর আগেও গত শনিবার, ১০ জানুয়ারি শুনানির নোটিস সংক্রান্ত বিষয়ে নিজের আপত্তির কথা জানিয়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে চিঠি লিখেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
সোমবারের এই চিঠিতে মুখ্যমন্ত্রী লেখেন, এসআইআর-এর নামে যে পদ্ধতি অনুসরণ করা হচ্ছে, তা পরিকল্পনাহীন, ত্রুটিপূর্ণ এবং সংবিধানসম্মত নয়। তাঁর দাবি, শুনানির সময় বহু ভোটার প্রয়োজনীয় নথি জমা দিলেও তার প্রাপ্তি স্বীকারে কোনও রসিদ দেওয়া হচ্ছে না। পরে যাচাইয়ের পর্যায়ে সেই নথিগুলিকে ‘খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না’ বা ‘রেকর্ডে নেই’ বলে দেখিয়ে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, নথি জমা দেওয়ার কোনও প্রমাণ ভোটারদের হাতে না থাকায় তাঁরা পুরোপুরি কমিশনের গাফিলতির শিকার হচ্ছেন। এতে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। তাঁর কথায়, এসআইআর-এর উদ্দেশ্য ছিল ভোটার তালিকা শুদ্ধ করা, যোগ্য ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া নয়।
চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, ২০০২ সালের ভোটার তালিকার সঙ্গে যাঁদের নাম ইতিমধ্যেই যুক্ত রয়েছে, তাঁদের অনেককেই অকারণে শুনানির নোটিস পাঠানো হচ্ছে। অথচ পুরনো ভোটার তালিকার সঙ্গে তাদের ম্যাপিং রয়েছে। ফলে নতুন করে শুনানির প্রয়োজন নেই। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি বাড়ছে। মুখ্যমন্ত্রী বিশেষ ভাবে আপত্তি তুলেছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে পুরনো নথি স্ক্যান ও অনুবাদের বিষয়টি নিয়ে। তাঁর দাবি, এই প্রক্রিয়ায় নাম, বয়স, লিঙ্গ, সম্পর্ক বা অভিভাবকের নামের মতো গুরুত্বপূর্ণ তথ্যে গুরুতর ভুল ঢুকে পড়ছে। এর ফলেই বিপুল সংখ্যক প্রকৃত ভোটারকে ‘লজিক্যাল ডিস্ক্রিপেন্সি’দেখিয়ে সমস্যার মুখে ফেলা হচ্ছে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২৩ বছরে অসংখ্য ভোটার ফর্ম-৮ জমা দিয়ে সরকারি নথির ভিত্তিতে তাঁদের তথ্য সংশোধন করিয়েছেন এবং সেই সব তথ্য যাচাই করে বর্তমান ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এখন সেই দীর্ঘদিনের প্রক্রিয়াকেই উপেক্ষা করে আবার নতুন করে পরিচয় ও যোগ্যতা প্রমাণের জন্য ভোটারদের বাধ্য করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
পাশাপাশি চিঠিতে মুখ্যমন্ত্রী প্রশ্ন তুলেছেন, কমিশন কি তাহলে নিজস্ব আইনসিদ্ধ প্রক্রিয়াকেই অস্বীকার করছে? ২০০২ সালে ফিরে যাওয়ার অর্থ কি গত দুই দশকে হওয়া সব সংশোধনকে অবৈধ বলে ধরে নেওয়া? তাঁর মতে, এই পদ্ধতি সম্পূর্ণ খামখেয়ালি এবং সংবিধানের পরিপন্থী। এ ছাড়া, নামের সামান্য বানানগত পার্থক্য, বয়সের ছোটখাটো ভুলের মতো বিষয় নিয়েও শুনানির নোটিস জারি করা হচ্ছে বলে তাঁর অভিযোগ। চিঠির শেষে মুখ্যমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেছেন, নির্বাচন কমিশন দ্রুত এই বিষয়গুলিতে হস্তক্ষেপ করবে।






