বাংলার বৈধ ভোটারদের হয়রান করার উদ্দেশ্যে যে নির্বাচন কমিশনকে দিয়ে SIR প্রক্রিয়া করছে বিজেপি, এই অভিযোগ বারবার তুলেছে তৃণমূল কংগ্রেস। এই অভিযোগের একতা দৃষ্টান্ত হয়ে উঠে এল পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়ার (Katwa) গাঙ্গুলিডাঙা গ্রাম। লজিকাল ডিসক্রিপেন্সির (logical discrepancy) নামে এর আগে অমর্ত্য সেন, দেব, মহম্মদ শামি, লক্ষ্মীরতন শুক্লার মতো বিখ্যাতরা যেমন SIR শুনানিতে (SIR hearing) ডাক পেয়েছেন, তেমনই নব্বই বছরের ঊর্ধ্বে মানুষকেও হরয়ান করতে পিছপা হয়নি নির্বাচন কমিশন (Election Commission)। তবে এবারে কমিশনের কীর্তি সবকিছুকেই ছাপিয়ে গেল। একটা গ্রাম থেকে ১ হাজার ১০০ মানুষকে শুনানির জন্য তলব পাঠিয়ে নজির গড়ল কমিশন।
গাঙ্গুলিডাঙা গ্রামের জনসংখ্যা প্রায় ২ হাজার। গত কয়েকদিন ধরে একের পর এক বাসিন্দার কাছে এসআইআর শুনানির নোটিশ আসতে শুরু করে। শেষ পর্যন্ত দেখা গিয়েছে গ্রামের অর্ধেকেরও বেশি মানুষ কমিশনের নোটিশ পেয়েছেন। সংখ্যাটা তাজ্জব হয়ে যাওয়ার মতো, ১১০০! তাঁদের মধ্যে বেশিরভাগই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের পরিযায়ী শ্রমিক (migrant worker)।
গ্রামবাসীদের অভিযোগ, ইচ্ছাকৃতভাবে ১১০০ জন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষকে একসঙ্গে এসআইআর শুনানিতে ডেকে পাঠানো হয়েছে। এটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং হয়রানিমূলক। হঠাৎ করে অল্প সময়ের নোটিশে কেরল, চেন্নাইয়ের মতো জায়গা থেকে কাজ ছেড়ে শুনানিতে হাজির হওয়া তাঁদের পক্ষে কার্যত অসম্ভব। সোমবার সকালে রাজ্য সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান তাঁরা।
সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষের নাম বাদ দেওয়ার জন্যই এই নিয়ম, বলেও অভিযোগ করছেন গ্রামবাসীরা। যে সব পরিযায়ী শ্রমিকদের হাজিরা দেওয়ার জন্য ডেকে পাঠানো হয়েছে, তাদের শুনানিতে উপস্থিত হওয়াটা মুশকিল। কারণ তাঁদের হাজিরা দিতে হলে কাজ ছেড়ে আসতে হবে। শুধু তাই নয়, বহু অসুস্থ ও বয়স্ক মানুষকে শুনানির জন্য ১০ কিমি দূরে যেতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাঁরা দাবি জানান, গ্রামেই যেন তাঁদের শুনানির ব্যবস্থা করা হয়। শুনানির জন্য আরও কিছুদিন সময় বাড়ানোর দাবিও জানাচ্ছেন তাঁরা।





