মকর সংক্রান্তিতে (Makar Sankranti) সাগরসঙ্গমে পুণ্যার্থীদের ঢল। ভোররাত থেকে শীত উপেক্ষা করে শুরু হয়েছে মকরের স্নান। যেকোনও ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে রাজ্য সরকারের তত্ত্বাবধানে গঙ্গাসাগর মেলা চত্বর (Gangasagar Mela) নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছে। যেভাবে প্রশাসন লক্ষাধিক মানুষের ভিড় নিয়ন্ত্রণ করছে তাতে এরাজ্যের সরকারের প্রশংসায় পঞ্চমুখ পুণ্যার্থীরা। সকাল থেকেই পুণ্যার্থীরা সারিবদ্ধভাবে স্নান করছেন, মহিলাদের কথা মাথায় রেখে পোশাক পরিবর্তনের আলাদা জায়গা করা হয়েছে। সুশৃঙ্খলভাবে পুজো দেওয়াও চলছে কপিল মুনির আশ্রমে। জলপথে ও আকাশপথে চলছে নজরদারি। মেলা চত্বরে পর্যাপ্ত পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবকরা রয়েছেন। মহিলা পুলিশের উপস্থিতিও চোখে পড়ার মতো।
চলতি বছর মকর সংক্রান্তিতে মহা পুণ্যকাল বা স্নানের শুভ সময় হল ভোরে সূর্যোদয়ের সময় থেকে সকাল ৯টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত, যদিও কিছু পঞ্জিকা অনুযায়ী ১৪ জানুয়ারি বিকাল ৩:১৩ থেকে ৪:৫৮ পর্যন্ত এবং ১৫ জানুয়ারি ভোর থেকে সকাল ৯টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত মহাপুণ্যকাল। এদিন সূর্যোদয়ের অনেক আগে থেকেই সাগরে ডুব দিয়ে পুণ্য অর্জনে ব্যস্ত সন্ন্যাসী থেকে মেলায় আগত সাধারণ মানুষ সকলেই। পাশাপাশি বুধবার ভোরে রয়েছে আখ্যিনের স্নান।
উল্লেখ্য প্রতি বছর মকর সংক্রান্তির সময় জাঁকিয়ে ঠান্ডা অনুভূত হয় বঙ্গে। দক্ষিণবঙ্গের পশ্চিমের জেলাগুলিতে একলাফে পারদ পতনও দেখা যায়। সেই ঠান্ডার পাশাপাশি প্রবল হাওয়াও অনুভূত হয়। এবার কিন্তু তেমনটা হল না। চলতি মরশুমের জাঁকিয়ে ঠাণ্ডা পড়েছে। তবে বুধবার মকরসংক্রান্তির দিন কিছুটা হলেও পারদ উর্দ্ধমুখী। শীতের কামড় খুব বেশি না থাকায় ভোররাত থেকে গঙ্গাসাগরে পূন্যস্নান শুরু হয়। লক্ষ লক্ষ মানুষ জলে নামেন। বীরভূমের জয়দেব মেলাতেও চলে স্নানপর্ব। এদিন টুসু পরব পালন করা হয়। পশ্চিমের জেলাগুলিতে এই পরব ঘিরে বাসিন্দারা আনন্দে মেতে উঠেছেন। তবে ওইসব জেলাগুলিতেও তেমন পারদ পতন দেখা যায়নি।





