‘লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সি’র অজুহাতে বৈধ ভোটারদের নাম কাটার চক্রান্ত অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে- এই দাবিতেই বুধবার নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে দেখা করল তৃণমূল কংগ্রেসের পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধি দল। এর আগেও বহুবার SIR- এর প্রক্রিয়া নিয়ে নানা অভিযোগ তুলেছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী থেকে শুরু করে তৃণমূলের বহু নেতা-কর্মীরা। এদিন নির্বাচন কমিশনে যে প্রতিনিধি দল গিয়েছিলেন তারা হলেন, রাজ্যের মন্ত্রী মানস ভুঁইয়া, শশী পাঁজা, সাংসদ সায়নী ঘোষ, তৃণমূল নেতা সমীর চক্রবর্তী ও পার্থ ভৌমিক।
রাজ্যে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন নিয়ে প্রথম থেকেই সরব শাসকদল তৃণমূল। খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশিত হওয়া থেকে শুরু করে হিয়ারিং-এ ডাকা ব্যক্তিদের নাম বাদ দেওয়া ও তার সঙ্গে কোন তথ্য ছাড়াই ৫৮ লক্ষ বৈধ ভোটারের নাম বাদ দেওয়া নিয়েও গত মঙ্গলবার নবান্ন থেকে কমিশনকে কটাক্ষ করেছেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তারপরই বুধবার কমিশনের কাছে চার দফা দাবি তুলে ধরতে উপস্থিত হয়েছিলেন তৃণমূলের প্রতিনিধি দল।
তাদের দাবিগুলি হল এক, একজন ব্যক্তি সর্বাধিক কতগুলি ফর্ম-৭ জমা দিতে পারবেন, তা স্পষ্ট করতে হবে। দুই, হিয়ারিং ক্যাম্পে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে নথি জমা দিলেও কেন কোনও রসিদ দেওয়া হচ্ছে না, তার জবাব চাই। তিন, বহু জায়গায় মাইক্রো অবজারভাররা এআরওদের উপর অনৈতিক চাপ সৃষ্টি করছেন—তাঁদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নিতে হবে। চার, ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’র নামে সাধারণ মানুষের হয়রানি বন্ধ করতে হবে।
এদিনের সাংবাদিক সম্মেলন থেকে পার্থ ভৌমিক বলেন, ‘‘আমি পার্থ কুমার ভৌমিক এবং পার্থ ভৌমিক, দুটো যে একই লোক, সেটা প্রমাণ করতে গেলে ম্যাজিস্ট্রেটের নথি জমা দিতে হবে। অথচ কমিশন সেই নথি জমা দেওয়ার অনুমতিও দিচ্ছে না। তাহলে একজন মানুষ নিজেকে কীভাবে প্রমাণ করবেন? তাই আশা করব, কমিশন এ ব্যাপারে উপযুক্ত পদক্ষেপ করবে।” এছাড়াও তৃণমূলের প্রতিনিধি দল অভিযোগ করেন, কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী একজন বিএলএ-২ সর্বাধিক ১০টি ফর্ম-৭ জমা দিতে পারেন। অথচ বাঁকুড়ায় যে ছবি সামনে এসেছে, তাতে আইন বর্হিভূতভাবে একসঙ্গে বিপুল সংখ্যক ফর্ম জমা দেওয়ার সুপরিকল্পিত চেষ্টা স্পষ্ট। প্রতিনিধি দলের স্পষ্ট বক্তব্য, ৫৮ লক্ষ নাম বেআইনি ও অনৈতিকভাবে বাদ দেওয়ার পরে এখন ১ কোটি ৩৬ লক্ষ মানুষের কাছে ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’র নোটিস ধরিয়ে অন্য পথে ভোটার তালিকা ছাঁটাইয়ের চেষ্টা চলছে। কিন্তু তৃণমূলের বিএলএ-২রা রাতজাগা প্রহরীর মতো সজাগ থাকায় সেই চক্রান্ত সফল হচ্ছে না।
এদিনের সাংবাদিক বৈঠক শেষে পার্থ ভৌমিক বলেন, মঙ্গলবার বাঁকুড়ায় একটি গাড়ি থেকে এসআইআর-এর আগে থেকে পূরণ করা ফর্ম-৭ উদ্ধার হয়েছে। ঘটনায় দু’জন ধরা পড়েছে, তিন জন পলাতক। পুলিশে এফআইআরও হয়েছে। কিন্তু ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পরেও নির্বাচন কমিশনের নীরবতা উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। সেই কারণেই কমিশনের কাছে জবাব চাইতেই এই সাক্ষাৎ।প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার বাঁকুড়ার খাতড়ায় একটি রহস্যজনক গাড়ি থেকে উদ্ধার হয় কয়েক হাজার এসআইআর-এর ফর্ম-৭। অভিযোগ, প্রতিটি ফর্মই আগেই পূরণ করা ছিল। এ বিষয়ে তৃণমূলের দাবি, পরিকল্পিতভাবেই বৈধ ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার উদ্দেশ্যে ওই ফর্মগুলি নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। ওই দিনই এই বিষয়টি নিয়ে নবান্ন থেকে সরব হন খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এখন দেখার, তৃণমূলের এই অভিযোগ ও দাবির প্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন কী পদক্ষেপ করে।



