এবার ব্লিঙ্কইট-এর পথ অনুসরণ করল সুইগি, ফ্লিপকার্ট-এর মতো বেশ কয়েকটি জনপ্রিয় ই-কমার্স সংস্থা। ১০ মিনিটের মধ্যে বাড়িতে জরুরি পণ্য পৌঁছে দেওয়ার দাবি জানিয়ে আর বিজ্ঞাপন দেবে না, এমনটাই জানিয়েছে তারা। কেন্দ্র সরকারের আপত্তির পাশাপাশি গিগ কর্মীদের সুরক্ষার কথা মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে ই-কমার্স সংস্থাগুলি।
সম্প্রতি ব্লিঙ্কইট, জ়োম্যাটোর মতো ই-কমার্স সংস্থাগুলির প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন কেন্দ্রীয় শ্রমমন্ত্রী মনসুখ মান্ডব্য। দ্রুত পণ্য ডেলিভারি করার জন্য জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দ্রুত গতিতে বাইক ছোটান গিগ কর্মীরা। এর ফলে অনেক সময়েই দুর্ঘটনা ঘটে। ওই বৈঠকে ১০ মিনিটে পণ্য পৌঁছে দেওয়ার দাবি নিয়ে আপত্তি জানান তিনি। সংস্থাগুলিকে এই দাবি সংবলিত বিজ্ঞাপন বন্ধের ‘পরামর্শ’ও দেন। তবে কেন্দ্রের তরফে এখনও পর্যন্ত এই নিয়ে লিখিত কোনও নির্দেশিকা দেওয়া হয়নি। সরকারি নির্দেশিকা না-থাকলেও প্রথম ব্লিঙ্কইট জানায় ১০ মিনিটে ডেলিভারির দাবি সংবলিত বিজ্ঞাপন তারা আর দেবে না। এর পর বৈঠকে অংশ নেওয়া অন্য ই-কমার্স সংস্থাগুলিও জ়েপ্টো, সুইগি এবং ফ্লিপকার্ট এই পথ অনুসরণ করে।
প্রসঙ্গত, সংসদের শীতকালীন অধিবেশনে ১০ মিনিটের ডেলিভারি সার্ভিস বন্ধ করার দাবি জানিয়েছিলেন আম আদমি পার্টির সাংসদ রাঘব চাড্ডা ও আরও কয়েকজন। মজুরি বৃদ্ধি, সামাজিক সুরক্ষার মতো অধিকারের দাবিতে গত ২৫ ডিসেম্বর এবং ১ জানুয়ারি দেশ জুড়ে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছিলেন গিগ কর্মীরা।
ধর্মঘটকে সমর্থনও করেছিলেন রাঘব। চাপের মুখে ১০ মিনিটের ডেলিভারি সার্ভিস বন্ধ করার ঘোষণা করে ব্লিঙ্কইট। আপ সাংসদ তাঁর এক্স হ্যান্ডলে লেখেন, ‘সম্প্রতি আমি ডেলিভারি এজেন্ট হিসাবে একটা দিন কাটিয়েছি। ১০ মিনিটের ডেলিভারি প্রতিশ্রুতির ফলে সৃষ্ট চাপ, ঝুঁকি এবং চ্যালেঞ্জগুলি আমি স্বচক্ষে প্রত্যক্ষ করেছি।’ ১০ মিনিটের ডেলিভারি বন্ধের প্রশংসা করে তিনি লেখেন, ‘এটি একটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ। ডেলিভালি এজেন্টদের টি-শার্ট, জ্যাকেট, ব্যাগে ১০ মিনিট লেখা থাকে। গ্রাহকের স্ক্রিনে টাইমার পর্যন্ত চলে। একটি একটি বিপুল চাপ। অত্যন্ত ভয়ানক। এই পদক্ষেপের ফলে সকলের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।’





